ভেনেজুয়েলার বিরোধীদলীয় নেত্রী, নোবেল জয়ী মারিয়া কোরিনা মাচাদো ঘোষণা করেছেন, তাঁর দেশ ভেনেজুয়েলা হবে আমেরিকার জ্বালানিকেন্দ্র।
গত শনিবার (জানুয়ারি ৩) মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশে নজিরবিহীন এক সামরিক অভিযান চালিয়ে নিউইয়র্কে তুলে আনা হয় ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ও তাঁর স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে। এই প্রেক্ষাপটে সোমবার মার্কিন সংবাদমাধ্যম ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এ মন্তব্য করেন নোবেলজয়ী মাচাদো।
মার্কিন বাহিনীর হাতে মাদুরোর আটক হওয়ার ঘটনাকে ভেনেজুয়েলার স্বাধীনতার জন্য একটি মাইলফলক হিসেবে দেখছেন মাচাদো। তিনি মনে করেন, '৩ জানুয়ারি' মাদুরো আটক হওয়ার তারিখটি তারিখটি তাঁর দেশের ইতিহাসে 'ন্যায়বিচারের কাছে অত্যাচারের পরাজয়ের' দিন হিসেবে চিহ্নিত হবে।
ফক্স নিউজের শন হ্যানিটিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে মাচাদো ঘোষণা দেন, 'আমরা ভেনেজুয়েলাকে আমেরিকার জ্বালানিকেন্দ্রে রুপান্তর করবো।'
উল্লেখ্য, বিশ্বের সর্ববৃহৎ ৩০৩ বিলিয়ন ব্যারেল অপরিশোধিত তেলের মজুদ রয়েছে লাতিন আমেরিকার এই দেশটিতে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের অনেকেরই ধারণা, বিশাল এই তেলের মজুদের নিয়ন্ত্রণ পেতেই মাদুরো সরকারের পতন ঘটিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। এবারে সেই সম্ভাবনার পালেই যেন হাওয়া দিলেন পশ্চিমাদের আস্থাভাজন হিসেবে পরিচিত মাচাদো।
ফক্স নিউজের সাথে ভেনেজুয়েলা নিয়ে বিস্তারিত কথা বলেছেন মাচাদো। তাঁর কাছে স্বাধীন ও মুক্ত ভেনেজুয়েলার অর্থ কী- এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, 'একটি মুক্ত ভেনেজুয়েলা মানে প্রথমত—একটি নিরাপত্তা সহযোগী রাষ্ট্র; যা আমেরিকার অপরাধমূলক কেন্দ্রগুলোকে গুঁড়িয়ে দিয়ে একে একটি নিরাপত্তা ঢালে পরিণত করবে। আমাদের জনগণ এবং আমেরিকার জনগণের যে বিশাল ক্ষতি এই অপরাধী চক্রগুলো করেছে, তাদের নির্মূল করতে ভেনেজুয়েলাই হবে সবচেয়ে শক্তিশালী মিত্র।'
তিনি আরও বলেন, 'দ্বিতীয়ত, আমরা ভেনেজুয়েলাকে আমেরিকার জ্বালানি কেন্দ্রে পরিণত করব। আমরা আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করব, বাজার উন্মুক্ত করব এবং বিদেশি বিনিয়োগের নিরাপত্তা নিশ্চিত করব। তৃতীয়ত, আমরা সেই লক্ষ লক্ষ ভেনেজুয়েলানদের নিজ দেশে ফিরিয়ে আনব যারা দেশ ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন, যাতে তারা একটি শক্তিশালী ও সমৃদ্ধ দেশ এবং একটি মুক্ত সমাজ গড়ে তুলতে পারেন।'
এখানেই থেমে থাকেননি তিনি। ভেনেজুয়েলাকে লাতিন আমেরিকায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান মিত্রে পরিণত করার সংকল্পের কথাও জানিয়েছেন মাচাদো।
উল্লেখ্য, শনিবার মাদুরোকে সস্ত্রীক আটক করার পর সোমবার তাঁদেরকে নিউইয়র্কের আদালতে বিচারের সম্মুখীন করেছে ট্রাম্প প্রশাসন।
এদিকে, ভেনেজুয়েলার ভারপ্রাপ্ত বা অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছেন মাদুরো সরকারের ভাইস প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ। তাঁকে ইতোমধ্যেই স্বীকৃতি দিয়েছে দেশটির সেনাবাহিনী এবং ট্রাম্প প্রশাসনও তাঁর সাথে কাজ করতে আগ্রহী বলে জানিয়েছে।
মাদুরোর পতনের পর ধারণা করা হচ্ছিলো, দেশটির অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব নিতে পারেন আমেরিকা ও ইউরোপের বিশ্বস্ত হিসেবে পরিচিত মারিয়া কোরিনা মাচাদো। তবে বাস্তবে তা হয়নি এবং মাচাদো এখনও দেশে ফিরতে পারেননি। অনেক বিশ্লেষক এমনটাও ধারণা করছেন যে, ট্রাম্পের বহুল-আকাঙ্ক্ষিত নোবেল শান্তি পুরষ্কার গত বছর মাচাদোর ঝুলিতে যাওয়ায় এবং মাচাদো তা গ্রহণ করায় ক্ষুব্ধ হয়েছেন ট্রাম্প। আর সে কারণেই আপাতত ভেনেজুয়েলার শাসনভার থেকে দূরে রাখা হয়েছে তাঁকে।
বিষয়টি সত্য নাকি গুজব সেটা হয়তো সময়ই বলে দেবে। তবে ফক্স নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে মাচাদো বলেছেন, 'ট্রাম্প নোবেল শান্তি পুরষ্কার পাওয়া যোগ্য'। তাঁর এই মন্তব্য যে ইঙ্গিতপূর্ণ তা নিশ্চয়ই বলার অপেক্ষা রাখে না।



