বিশ্ব জ্বালানি ও বাণিজ্যে হরমুজ প্রণালির পরেই গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ বাব আল-মান্দেব। এবার এই পথটিও বন্ধের বিপজ্জনক কার্ড কাজে লাগানোর ইঙ্গিত দিচ্ছে ইরান। দুটি জলপথ একসাথে বন্ধ হলে বিশ্বের এক-চতুর্থাংশ তেল ও গ্যাস পরিবহন ব্যাহত হবে, যা বৈশ্বিক অর্থনীতিতে ভয়াবহ বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে বলে সতর্ক করেছেন বিশেষজ্ঞরা।
উত্তর-পূর্বে ইয়েমেন এবং দক্ষিণ-পশ্চিমে আফ্রিকার দেশ জিবুতি ও ইরিত্রিয়ার মাঝখানে অবস্থিত বাব আল-মান্দেব প্রণালি মাত্র ২৯ কিলোমিটার চওড়া, যা লোহিত সাগরকে এডেন উপসাগরের সঙ্গে যুক্ত করেছে। মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনার জেরে হরমুজ প্রণালি বন্ধের আশঙ্কায় এই বাণিজ্য পথের গুরুত্ব আরও বেড়ে গেছে, কারণ সৌদি আরবসহ অনেক দেশ তেল রপ্তানির বিকল্প পথ হিসেবে এটি ব্যবহার করছে।
ইরানে ট্রাম্পের হামলার জেরে এই পথ বন্ধের ইঙ্গিত দিয়েছে ইরান। সম্প্রতি ইয়েমেনের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা সতর্ক করে বলেন, সৌদি আরব ইয়েমেনে হামলা অব্যাহত রাখলে তাদের সশস্ত্র বাহিনী বাব আল-মান্দেব বন্ধ করে দিতে প্রস্তুত।
বিশ্লেষকদের মতে, বিশ্ব বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহে প্রভাব ফেলতে হরমুজ প্রণালি যদি ইরানের সবচেয়ে শক্তিশালী হাতিয়ার হয়, তবে বাব আল-মান্দেব হতে পারে তাদের শেষ বা বিকল্প বড় অস্ত্র। বিশ্বের প্রায় ৫ শতাংশ তেল ও প্রায় ১০ শতাংশ পণ্য এই পথ দিয়ে পরিবাহিত হয়, আর হরমুজ প্রণালি দিয়ে যায় বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল। ফলে দুটি পথ একসাথে বন্ধ হলে বিশ্বের মোট তেল ও গ্যাস সরবরাহের ২৫ শতাংশ অবরুদ্ধ হয়ে পড়বে।
বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, লোহিত সাগরের এই পথে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল বন্ধ হলে বিশ্বজুড়ে সরবরাহ ব্যবস্থা ভেঙে পড়বে। ফলে জ্বালানি তেলের দাম দ্রুত বাড়ার পাশাপাশি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামও সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যাবে।


২০টি যুদ্ধজাহাজ ও শতাধিক উড়োজাহাজ নিয়ে ফের মার্কিন নৌ অবরোধ
