ভিসা-মুক্ত প্রবেশের (ভিসা-ফ্রি এন্ট্রি) সময়সীমা বাড়িয়েছে চীন। গতকাল সোমবার দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে যে, ফ্রান্স, জার্মানি, স্পেনসহ বিশ্বের ৪৫টি দেশের নাগরিকেরা ২০২৬ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত ভিসা ছাড়াই চীনে প্রবেশ করতে পারবে। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে।
এছাড়াও নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আগামী ১০ নভেম্বর থেকে চীনের ভিসা-মুক্ত প্রবেশ নীতির সুবিধাভোগীদের তালিকায় নতুন করে যুক্ত হতে যাচ্ছে সুইডেন।
চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কনস্যুলার অ্যাফেয়ার্স বিভাগ থেকে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে যে, ভিসা-মুক্ত প্রবেশের সময়সীমা বৃদ্ধির সুবিধা পেতে যাচ্ছে ইউরোপের ৩২টি দেশ। এছাড়া এ তালিকায় আছে অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া এবং দক্ষিণ আমেরিকা ও উপসাগরীয় অঞ্চলের কয়েকটি দেশ।
উল্লেখ্য, এই তালিকার অনেকগুলো দেশের জন্যেই চীনে ভিসা-মুক্ত প্রবেশের সময়সীমা শেষ হওয়ার কথা ছিল চলতি বছরের শেষ নাগাদ। এবারে আরও এক বছরের জন্য এই মেয়াদ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতির এই দেশটি।
কোভিড-১৯ অতিমারিতে ক্ষতিগ্রস্ত পর্যটন খাতকে পুনরুজ্জীবিত করতে এবং দেশটিতে বিদেশিদের সম্পৃক্ততা বাড়াতে চীন কোভিড-পরবর্তী বছরগুলোতে বিশ্বের অনেকগুলো উন্নত অর্থনীতির দেশের নাগরিকদের জন্য ভিসা-মুক্ত প্রবেশের সুবিধা দিয়েছে।
উল্লেখ্য, চীনে ভিসা ছাড়া প্রবেশের সুবিধাপ্রাপ্তদের তালিকায় নেই আমেরিকা, কানাডা ও ব্রিটেনের নাম।.
চীনের ভিসা-মুক্ত প্রবেশ নীতির অধীনে তালিকাভুক্ত দেশগুলোর পর্যটকরা ব্যবসা, পর্যটন, পারিবারিক পরিদর্শন বা ট্রানজিট-এর জন্য সর্বোচ্চ ৩০ দিন পর্যন্ত ভিসা ছাড়াই চীনে প্রবেশ করতে পারবেন।
বাণিজ্য নিয়ে সম্পর্কের টানাপোড়েনের মাঝে চীন তাঁদের গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য অংশীদার ইউরোপীয় ইউনিয়নের সাথেও যোগাযোগ প্রসারিত করছে। তাঁদের ভিসা-মুক্ত প্রবেশ নীতিতে বিষয়টি স্পষ্টভাবেই প্রতিফলিত হয়েছে।
গত সপ্তাহে দক্ষিণ কোরিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ এক বৈঠকে মিলিত হন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এরপরই চীন তাঁদের বিরল খনিজের রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ এক বছরের জন্য স্থগিত করার ঘোষণা দেয়। এবারে ইউরোপীয় ইউনিয়ন জানিয়েছে, বিরল খনিজ নিয়ে চীনের এই সিদ্ধান্ত ইউরোপীয় ইউনিয়নের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হবে।
সোমবার চীনের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে যে, চীন ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন উভয় পক্ষই পারস্পরিক যোগাযোগ ও বিনিময় অব্যাহত রাখতে সম্মত হয়েছে। তাঁদের উদ্দেশ্য শিল্প ও সরবরাহ মাধ্যমগুলোর স্থিতিশীলতা বাড়ানো।



