স্বাধীনতার ঘোষণার বিষয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক সতর্কতার পর আরও একবার নিজেদের স্বাধীন হিসেবে দাবি করেছে তাইওয়ান। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে বলেছে, তাইওয়ান একটি সার্বভৌম ও স্বাধীন গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র। এটি গণপ্রজাতন্ত্রী চীনের অধীনস্থ নয়।
তাইওয়ানের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘ সমর্থনের মনোভাব নিয়েই ১৩ই মে চীন সফর করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। শি জিনপিং এর সঙ্গে বৈঠকেও গুরুত্ব পায় তাইওয়ান ইস্যু। তবে বৈঠকের শুরুতেই তাইওয়ান ইস্যুতে না জড়াতে যুক্তরাষ্ট্রকে সতর্কবার্তা দেন শি। সাফ জানান তেমনটা হলে যুক্তরাষ্ট্র-চীন সংঘাত এড়ানো যাবে না।
এরপরই তাইওয়ানের স্বাধীনতা ইস্যুতে ভিন্ন সুর শোনা যায় ট্রাম্পের কণ্ঠে। চীন সফর শেষে তাইওয়ান ইস্যু নিয়ে নতুন করে ভাবছেন বলে ইঙ্গিত দেন ট্রাম্প। একইসাথে তাইওয়ানকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাধীনতা ঘোষণা না করার ব্যাপারে সতর্ক করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। ধোঁয়াশা তৈরি হয় তাইওয়ানের জন্য বরাদ্দ মার্কিন সামরিক তহবিল বরাদ্দের ইস্যু নিয়েও। যদিও তাইওয়ানের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের নীতিতে কোনো পরিবর্তন আসেনি বলে তাদেরকে আশস্ত করেন ট্রাম্প।
এই প্রেক্ষাপটেই একটি বিবৃতি প্রকাশ করে তাইওয়ানের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের কথা আরও একবার আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। তাদের বিবৃতিতে জোর দিয়ে বলা হয়েছে, মার্কিন অস্ত্র বিক্রি তাইওয়ানের প্রতি ওয়াশিংটনের দীর্ঘদিনের নিরাপত্তা প্রতিশ্রুতিরই একটি অংশ।
সম্প্রতি আড়াই হাজার কোটি ডলারের একটি প্রতিরক্ষা ব্যয় বিল অনুমোদন করে তাইওয়ানের পার্লামেন্ট। এই ব্যয়ের বেশিরভাড়ই ব্যবহৃত হবে মার্কিন অস্ত্র কেনায়। এর আগে, গত ডিসেম্বরে তাইওয়ানের জন্য ১ হাজার ১১০ কোটি ডলারের অস্ত্র প্যাকেজ ঘোষণা করে ওয়াশিংটন। যদিও সেই প্যাকেজের দেড় হাজার কোটি ডলারের তহবিল এখনও অনুমোদন করেনি মার্কিন কংগ্রেস।
তাইওয়ানকে চীনের অংশ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা বেইজিংয়ের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য বলে বহুবার মন্তব্য করেছেন চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। এই অবস্থায় চীন-তাইওয়ান সাংঘর্ষিক মনোভাব থাকলেও এখনও তা রূপ নেয়নি বাস্তবে। তবে বলপ্রয়োগ করে তাইওয়ান দখলে চীনের হুমকি মোকাবিলায় মার্কিন নিরাপত্তার ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল তাইপে।
উল্লেখ্য, এশিয়ার অন্যতম বিরোধপূর্ণ দুই ভূখণ্ড হচ্ছে চীন ও তাইওয়ান। বহুদিন ধরেই নিজেদের স্বাধীন হিসেবে দাবি করে আসছে তাইওয়ান, আর এতে পূর্ণ সমর্থন দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। অন্যদিকে, সমুদ্রবেষ্টিত এই দ্বীপকে নিজেদের অংশ হিসেবে দাবি করে আসছে চীন।



