আফগানিস্তানে ক্ষমতা দখলের ৫ বছরে নারীদের ওপর কড়াকড়িসহ নানা বিধিনিষেধ আরোপ করেছে তালেবান সরকার। সম্প্রতি তালেবান কর্মকর্তাদের জন্য স্মার্টফোন ব্যবহারেও নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। এদিকে তালেবান শাসনের অধীনে আফগানিস্তানে দারিদ্র্যের হার বেড়েছে। জাতিসংঘের হিসাবে, দেশটিতে প্রতি ৪ জনের ৩ জনই মৌলিক চাহিদা মেটাতে হিমশিম খাচ্ছে।
২০২১ সালের আগস্টে আফগানিস্তানের ক্ষমতা পুনর্ব্যবহার বা পুনর্দখল করে তালেবান বাহিনী। গত ৫ বছরে নানা আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দিয়েছে তালেবান সরকার। দুই বছর ধরে তালেবানের প্রভাবশালী নেতা, সাবেক যোদ্ধা ও সাধারণ মানুষের সঙ্গে কথা বলে এক বিরল চিত্র তুলে ধরেছে বিবিসি। এতে উঠে এসেছে দেশটির শাসনব্যবস্থা, নারীর অধিকার, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও সাধারণ মানুষের অসন্তোষের নানা দিক।
অধিকাংশ কর্মক্ষেত্র থেকে নারীদের বাদ দেওয়া, তাঁদের মাধ্যমিক ও বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষা নিষিদ্ধ করা এবং একা ভ্রমণ কিংবা বিনোদনকেন্দ্রে যাওয়ার ওপর নানা কড়াকড়ি আরোপ করেছে তালেবান। এ ছাড়া নারীদের তালাক দেওয়ার ক্ষমতা রোধসহ পারিবারিক নানা সীমাবদ্ধতা তৈরি করা হয়েছে।
সম্প্রতি তালেবান কর্মকর্তাদের জন্য স্মার্টফোন ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। এতে দাপ্তরিক কাজে তথ্য আদান-প্রদান ও গতি ধীর হয়ে পড়েছে।
তালেবান সরকারের অঘোষিত রাজধানী কান্দাহারে কড়াকড়ি চরম পর্যায়ে রয়েছে। সেখানে পুরুষদের দাড়ি রাখা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে, রেডিওতে গান ও নারীর কণ্ঠ সম্প্রচার নিষিদ্ধ এবং শহরের ভিডিও ধারণ বন্ধ রাখা হয়েছে।
তালেবান শাসনের অধীনে সাধারণ আফগানদের জীবনমানের অবনতি ঘটেছে। পানি, সড়ক ও চিকিৎসাসেবার অভাবে রয়েছেন পাহাড়ি এলাকার মানুষ।
তালেবান সরকারের মুখপাত্র জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ বলেন, শরিয়া আইনের আওতায় থেকে নারী অধিকার, বাকস্বাধীনতা এবং অন্যান্য বিষয়ে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ তারা। নারীদের শিক্ষার বিষয়ে এখনো শরিয়াভিত্তিক সমাধান খোঁজা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।



