ভারতের ওড়িশার কটক শহরে দুর্গা প্রতিমা বিসর্জন চলাকালে দুই গোষ্ঠীর মধ্যে ভয়াবহ সংঘর্ষ হয়েছে। এর জেরে আজ রোববার দিনভর উত্তেজনা ছিল। এই ঘটনার প্রতিবাদে বিশ্ব হিন্দু পরিষদ (ভিএইচপি) সোমবার শহরে ১২ ঘণ্টার বনধের ডাক দিয়েছে। এদিকে, সামাজিক সব ধরনের যোগাযোগমাধ্যম সাময়িক সময়ের জন্য বন্ধ করে দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম হিন্দুস্তান টাইমস বলছে, ঘটনাটি ঘটেছে শনিবার রাত দেড়টা থেকে দুটো নাগাদ দারগাবাজার এলাকার হাতি পোখরি এলাকায়। বিসর্জন চলাকালীন উচ্চস্বরে গান বাজানো নিয়ে কিছু স্থানীয় বাসিন্দার আপত্তির ফলে এই উত্তেজনার সূত্রপাত হয়। বিবাদের এক পর্যায়ে একদল লোক ছাদ থেকে শোভাযাত্রার ওপর পাথর ও কাঁচের বোতল ছুঁড়তে শুরু করে।
এই হামলায় বেশ কয়েকজন আহত হন, যাদের মধ্যে কটকের ডিসিপি খিলারি ঋষিকেশ জ্ঞানদেওতে রয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশকে মৃদু লাঠিচার্জ করতে হয়। হামলার প্রতিবাদে পূজা কমিটির সদস্যরা প্রায় তিন ঘণ্টা বিসর্জন বন্ধ রেখে জড়িতদের অবিলম্বে গ্রেপ্তারের দাবি জানান। পরে কড়া নিরাপত্তার মধ্যে বাকি প্রতিমাগুলোর বিসর্জন সম্পন্ন হয়।
পুলিশ এ পর্যন্ত ছয় জনকে গ্রেপ্তার করেছে এবং সিসিটিভি ফুটেজ, ড্রোনের দৃশ্য এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের বিবরণ থেকে জড়িত অন্যদের চিহ্নিত করার চেষ্টা চলছে।
ভিএইচপি এই ঘটনার জন্য প্রশাসনিক ব্যর্থতাকে দায়ী করে ডিসিপি এবং জেলা কালেক্টরের অবিলম্বে বদলির দাবি জানিয়েছে। তাদের অভিযোগ, বারবার অনুরোধ সত্ত্বেও কর্তৃপক্ষ শান্তিপূর্ণ বিসর্জন নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হয়েছে। এর প্রতিবাদেই সোমবার সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত বনধের ডাক দেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে, রাজ্যের বিরোধী দল বিজু জনতা দল (বিজেডি) এই ঘটনার জন্য ‘সমাজবিরোধী কার্যক্রমকে দায়ী করেছে। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মোহন চরণ মাঝি (বিজেপি) এই ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস এবং আহতদের বিনামূল্যে চিকিৎসার নির্দেশ দিয়েছেন।



