ভারতের ছাত্র বিক্ষোভ ও প্রশ্নপত্র ফাঁস সংক্রান্ত 'পাবলিক এক্সামিনেশন (প্রিভেনশন অব আনফেয়ার মিন্স) অ্যামেন্ডমেন্ট বিল, ২০২৬'-এর ওপর বিতর্কের সময় লোকসভায় বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধীর বক্তব্যের পর তুমুল হট্টগোল হয়েছে। এ সময় সরকারদলীয় সংসদ সদস্যরা তাঁকে ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান জানান।
রাহুল গান্ধী অভিযোগ করেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ ছাত্রদের ওপর গুলি চালানোর নির্দেশ দিয়েছিলেন।
বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, ‘স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সংসদে এসে বসার সাহস নেই। আমি তাঁকে ৩০টি গাড়ির কনভয়ে কাঁপতে কাঁপতে বসে থাকতে দেখেছি। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আজ এখানে নেই কেন? স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীই তো ছাত্রদের ওপর গুলি চালানোর নির্দেশ দিয়েছিলেন।’
তাঁর এ বক্তব্যের পর লোকসভায় ব্যাপক হট্টগোল শুরু হয় এবং বিজেপির সংসদ সদস্যরা তাঁকে ক্ষমা চাইতে বলেন।
পরে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী পীযূষ গোয়েল সাংবাদিকদের বলেন, ‘সংসদে ভিত্তিহীন এবং ভুয়া মন্তব্য করেছেন বিরোধীদলনেতা, কোনো রকম গুলিই চলেনি। আমি তাঁর এই মন্তব্যের তীব্র বিরোধিতা জানাচ্ছি।’
বুধবার বক্তব্যের শুরুতে রাহুল গান্ধী বলেন, ‘আমি কয়েকজন তরুণীর সঙ্গে কথা বলেছিলাম। আমি তাঁদের জিজ্ঞাসা করেছিলাম, শিক্ষার্থী হওয়ার অর্থ কী। মেয়েটি খুব সুন্দর একটি উত্তর দিয়েছিল। সে বলেছিল, শিক্ষার্থী সে-ই, যার হৃদয় ও মন উন্মুক্ত। শিক্ষার্থীরা জানে তাদের আরও শিখতে হবে এবং এই মহাবিশ্ব প্রতিনিয়ত পরিবর্তনশীল। তাই তারা বিশ্বাস করে যে জ্ঞানও ক্রমাগত পরিবর্তিত হতে থাকে।’
রাহুল বলেন, ‘এমন কিছু মানুষ আছেন যারা ছাত্র নন। তারা সম্পূর্ণভাবে বিশ্বাস করেন যে তারা সবকিছু জানেন এবং এই জ্ঞান তাদের ভেতর থেকেই আসে। তারা নিজেদেরকে ঈশ্বর মনে করেন। তারা অহংকারী এবং কারও কথা শোনেন না। তারা অন্যের সত্যকে সম্মান করেন না। আমি জিজ্ঞাসা করলাম ওরা কী ধরনের মানুষ। তো মেয়েটি বলল, আমি তাদের ইডিয়ট বলি।’
এ সময় হট্টগোল শুরু হলেও রাহুল গান্ধী বক্তব্য অব্যাহত রাখেন।



