হামাস ও ইসরায়েলের মধ্যকার সংঘাত ‘যুদ্ধে’ রূপ নিয়েছে বলে ইসরায়েলের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে। একইসঙ্গে ইসরায়েলি বন্দীদের সাথে ফিলিস্তিনি বন্দী বিনিময়ের প্রসঙ্গও সামনে এসেছে। কথা হলো ইসরায়েলের হাতে কতজন ফিলিস্তিনি বন্দী? কেনই–বা তারা বন্দী?
ওপরের প্রশ্নের সরাসরি উত্তর দেওয়া মুশকিল। তবে গত গ্রীশ্মে জাতিসংঘের পক্ষ থেকে যে তথ্য দেওয়া হয়েছে, তাতে ইসরায়েলে ১৯৬৭ সাল থেকে এখন পর্যন্ত ১০ লাখের বেশি ফিলিস্তিনি বন্দী হয়েছে—এ বিষয়টি মোটামুটি নিশ্চিত। সে হিসাবে ফিলিস্তিনের প্রতি পাঁচজনে একজন ইসরায়েলের হাতে বন্দী বললেও কম বলা হয়।
কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল–জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হামাসের হামলার প্রত্যুত্তরে ইসরায়েল যখন গাজায় পাল্টা হামলা চালাচ্ছে, তখন হামাস বলছে, তারা বন্দী ইসরায়েলিদের বিনিময়ে ইসরায়েলে বন্দী ফিলিস্তিনিদের মুক্ত করে আনতে চায়।
অনেকেই হয়তো বলতে পারে, অবরুদ্ধ গাজাকে তো খোলা হাওয়ার এক কারাগারই বলা যায়, যেখানে ২২ লাখ মানুষ বন্দী অবস্থায় আছে। কিন্তু সে হিসাবের প্রয়োজন নেই। জাতিসংঘের প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে আল–জাজিরা বলছে, ১৯৬৭ সাল থেকে এখন পর্যন্ত গাজা, পশ্চিমতির ও পূর্ব জেরুসালেম থেকে অন্তত ১০ লাখ মানুষকে বন্দী করে ইসরায়েলের কারাগারে রাখা হয়। এ হিসাবে ফিলিস্তিনের প্রতি পাঁচজনে একজন বন্দী। আর তাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে ১৬০০–এর বেশি সামরিক আদেশের মাধ্যমে। আর শুধু পুরুষের হিসাব নিলে এ সংখ্যা প্রতি পাঁচজনে দুজন।
এ তো গেল ১৯৬৭ সাল থেকে এখন পর্যন্ত মোট বন্দীর হিসাব। বর্তমানে কতজন বন্দী? উত্তর— ৫ হাজার ২০০ জন। এর মধ্যে নারী ও শিশুর সংখ্যা যথাক্রমে ৩৩ ও ১৭০। আল–জাজিরা বলছে, এই বন্দীদের ভাগ্যে মোটামুটি একই শাস্তি লেখা আছে। আর তা হলো—মৃত্যুদণ্ড। ইসরায়েলের কারাগারে বন্দী ফিলিস্তিনিরা বিচারের মুখোমুখি হলে এই একটি রায়ই তাদের শুনতে হয় সাধারণত।
কিন্তু এত বন্দী কেন?
১৯৬৭ সালে ফিলিস্তিন ও আরব অঞ্চলের কিছু অংশ দখলের পর ইসরায়েল সামরিক আদেশ–১০১ জারি করে, যেখানে বিভিন্ন নাগরিক কর্মকাণ্ডকে ‘উসকানি ও অপপ্রচার’ হিসেবে আখ্যায়িত করে অপরাধমূলক কাজ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। এর মাধ্যমে বিক্ষোভ, মিছিল, সভা–সমাবেশ ইত্যাদিকে বেআইনি ঘোষণা করা হয়। শুধু তাই নয়, রাজনৈতিক প্রচারপত্র ছাপা ও বিলি করা, পতাকা উত্তোলন, রাজনৈতিক বিভিন্ন প্রতীক প্রদর্শন ইত্যাদিকে বেআইনি ঘোষণা করা হয়। আজও সেই আদেশ কার্যকর।
বলার অপেক্ষা রাখে না যে, এই আদেশবলে ইসরায়েল অধীকৃত যেকোনো এলাকায় ফিলিস্তিনিদের বিক্ষোভ, সভা–সমাবেশ, মিছিল, প্রচার চালানো ইত্যাদি সবকিছুই বেআইনি হিসেবে গণ্য হয়। এবং এই আদেশবলেই বিপুলসংখ্যক ফিলিস্তিনি ইসরায়েলি বাহিনীর হাতে বন্দী হয়েছে নানা সময়ে, যাদের একটি বড় অংশই মৃত্যুদণ্ডের মধ্য দিয়ে জীবনের ইতি টেনেছে।
এর বাইরে আছে প্রশাসনিক আটকাদেশ। এর মধ্য দিয়ে কোনো কারণ দর্শানো ছাড়াই আটক রাখা যায়। ইসরায়েলে বর্তমানে ১ হাজার ২৬৪ ফিলিস্তিনি এই প্রশাসনিক আটকাদেশের আওতায় আটক আছে। বছরের পর বছর বিনা বিচারে তাদের আটক রাখা হয়।


কঠিন যুদ্ধের সম্মুখীন হয়েছি: নেতানিয়াহু 
