মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের উত্তাপের মাঝেই বদলাচ্ছে কূটনৈতিক সুর, বাড়ছে সামরিক তৎপরতাও। তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের একদিকে নরম সুর, অন্যদিকে কঠোর অবস্থানের পরস্পরবিরোধী বার্তা ঘিরে নতুন করে তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তাও।
হরমুজ প্রণালীকে কেন্দ্র করে বৈশ্বিক শক্তিগুলোর হিসাব-নিকাশও প্রতিনিয়ত আরও জটিল হয়ে উঠছে। অচিরেই সংঘাত থামার কোনো লক্ষণ না থাকায় উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ছে আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও।
মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতি কবে শান্ত হবে, কবে বন্ধ হবে যুদ্ধের দামামা, এমন প্রশ্নের যখন উত্তর খুঁজছেন বিশ্বের শান্তিপ্রিয় প্রতিটি মানুষ তখন মধ্যপ্রাচ্য নিয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্পের স্ববিরোধী বার্তা পরিস্থিতি আরও ঘোলাটে করে তুলেছে।
এই যেমন হঠাৎ করেই কিছুটা নরম সুরে কথা বললেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ইরানে চলমান সামরিক অভিযান ‘গুটিয়ে আনার’ ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ট্রাম্প জানান, যুক্তরাষ্ট্র তাদের লক্ষ্য অর্জনের খুব কাছাকাছি পৌঁছে গেছে।
তবে এর আগে যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা একেবারে নাকচ করে দেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, প্রতিপক্ষকে সামরিকভাবে চাপে রাখতে অভিযান থামানোর কোনো যৌক্তিকতা নেই। সার্বিকভাবে বিভিন্ন সময় ট্রাম্পের দেওয়া বার্তা থেকে মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ে কোনো কিছু আঁচ করা কঠিন।
এদিকে, হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক সহযোগিতার আহ্বান জানিয়ে চীন ও জাপানের মতো অর্থনীতিকে এগিয়ে আসার কথাও বলেছেন ট্রাম্প। অন্যদিকে, হরমুজ প্রণালী দিয়ে সীমিত নৌযান চলাচলের অনুমতি দিয়েছে তেহরানও।
ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি প্রসঙ্গে ট্রাম্প বলেন, ‘আমি কোনো যুদ্ধবিরতি চাই না। আপনারা জানেন, যখন আপনি অপর পক্ষকে সত্যিকার অর্থেই নিশ্চিহ্ন করে দিচ্ছেন, তখন আর আপনি কোন যুদ্ধবিরতিতে যেতে পারেন না।’
হরমুজ প্রণালীর বিষয়ে তিনি জানান, ‘প্রণালীটির বিষয়ে বলতে গেলে… আমরা ভালো কাজ করছি। কিন্তু আরও ভালো হয় যদি চীনসহ যেসব দেশ এটি ব্যবহার করে, তারা যদি এগিয়ে আসে। কারন এই প্রণালীর উপর চীন ও জাপানের নির্ভরতা ৯০ শতাংশের বেশি।’
ট্রাম্পের নানাবিধ মন্তব্যের মাঝেই বিভিন্ন মার্কিন গণমাধ্যম খবর প্রকাশ করেছে যে, যুক্তরাষ্ট্র মধ্যপ্রাচ্যে আরও তিনটি যুদ্ধজাহাজ ও হাজার হাজার অতিরিক্ত সেনা পাঠানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে।
এই ধারাবাহিকতায় যুদ্ধের ময়দানেও নেই উত্তেজনা কমার কোনো লক্ষণ। উত্তর ইরানের গিলান প্রদেশে গোলাবর্ষণে অন্তত দুইজন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
মধ্যপ্রাচ্য সংঘাতের বিস্তারও থামানো যাচ্ছে না। ভারত মহাসাগরের দিয়াগো গার্সিয়ায় অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্র-যুক্তরাজ্যের যৌথ সামরিক ঘাঁটিকে লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার দাবি উঠেছে ইরানের বিরুদ্ধে।
অন্যদিকে, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে উদ্বেগ আরও বাড়িয়ে বিশ্বজুড়ে পর্যটন ও বিনোদনকেন্দ্রে হামলার হুমকি দিয়েছে ইরান।
সার্বিকভাবে একদিকে নরম সুরে অভিযান গুটিয়ে আনার ইঙ্গিত, অন্যদিকে যুদ্ধবিরতি নাকচ , ট্রাম্পের পরস্পরবিরোধী অবস্থানে ক্রমেই মধ্যপ্রাচ্য ঘিরে বাড়ছে অনিশ্চয়তা। মাঠপর্যায়ে হামলা-পাল্টা হামলা অব্যাহত থাকায় পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক হওয়ারও কোনো ইঙ্গিত মিলছে না।


ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতির প্রশ্নই ওঠে না: ট্রাম্প 
