টানা তৃতীয় বছর কোরবানির পশু ছাড়াই ঈদুল আজহা পালন করতে যাচ্ছে গাজাবাসী। স্থানীয় কৃষি মন্ত্রণালয় বলছে, ইসরায়েলি অবরোধ ও চলমান যুদ্ধের কারণে গাজায় পশু প্রবেশ বন্ধ, তাই এবারও কোরবানি দেয়া সম্ভব হচ্ছে না।
সারা বিশ্বের মুসলিমরা যখন ঈদুল আজহার আয়োজনে ব্যস্ত, তখন গাজাবাসীদের মনে নেই উৎসবের আমেজ। ইসরায়েলি অবরোধে টানা তৃতীয়বার ঈদুল আজহা পালিত হবে কোরবানির পশু ছাড়াই।
যুদ্ধের আগে ঈদে গরু-ছাগল কোরবানি হতো, শিশুরা আনন্দ করত। কিন্তু এখন গাজায় কোনো ঈদ নেই। যুদ্ধবিরতিতেও হামলা হচ্ছে।
একসময়ের ব্যস্ত গাজার কসাইখানা এখন পরিণত হয়েছে আশ্রয় শিবিরে। নষ্ট হয়ে গেছে কোরবানির কাজে ব্যবহৃত সরঞ্জামও।
সংবাদসংস্থা রয়টার্সে এক স্থানীয় ব্যক্তি বললেন, ‘আমরা চাই মুসলিম বিশ্ব আমাদের জন্য পশু পাঠাক। আমাদের শিশুরা কেন এই আনন্দ থেকে বঞ্চিত হবে?’
যুদ্ধের আগে গাজায় প্রতি বছর ঈদে আমদানি হতো প্রায় ২০ হাজার গরু ও ৪০ হাজার ভেড়া। তবে বর্তমানে খাদ্য সহায়তা ছাড়া আর কোনো সরবরাহ নেই। গাজার কৃষি মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা বাহা আগা বলেন, ‘যুদ্ধের সময় ৮০ হাজারের বেশি গবাদিপশু মারা গেছে। এছাড়া গাজার ৬০ শতাংশের বেশি এলাকা বর্তমানে ইসরায়েলি নিয়ন্ত্রণাধীন ইয়েলো জোনের মধ্যে পড়েছে, যেখানে অধিকাংশ খামার অবস্থিত।’
জাতিসংঘের পক্ষ থেকে ত্রাণ ও পণ্যের অবাধ প্রবেশের আহ্বান সত্ত্বেও গাজায় ত্রাণ সরবরাহ নেমে এসেছে প্রায় এক-চতুর্থাংশে। কর্তৃপক্ষ জানায়, ইসরায়েলের সামরিক অভিযানে পশুর খামার, চিকিৎসাকেন্দ্র ও খাদ্যের গুদাম ধ্বংস হয়ে গেছে। বিভিন্ন আশ্রয় শিবিরের বাস্তুচ্যুত শিশুরা বহু বছর দেখা পায়নি ঈদের আনন্দের।



