বাহরাইন, কুয়েত এবং জর্ডানে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোতে হামলার দায় স্বীকার করেছে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)। তারা বলছে, হরমুজ প্রণালিতে ইরানের বন্দর ও দ্বীপগুলোতে মার্কিন হামলার প্রতিশোধ হিসেবে এই হামলা চালানো হয়েছে। রয়টার্স জানিয়েছে এসব তথ্য।
বুধবার রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে আইআরজিসি জানায়, তারা বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন পঞ্চম নৌবহর এবং কুয়েতের আলি আল সালেম ঘাঁটিতে ড্রোন হামলা চালিয়েছে। এছাড়া জর্ডানের আজরাকের একটি বিমান ঘাঁটিতে দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র হামলাও চালানো হয়েছে।
তারা জানায়, তারা ২১টি মার্কিন লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে এবং তার মধ্যে চারটি ধ্বংস করেছে, যার মধ্যে জর্ডানের ঘাঁটিতে থাকা একটি এফ-৩৫ যুদ্ধবিমানের হ্যাঙ্গারও রয়েছে। তারা ইরানের জাম শহরের আকাশে একটি মার্কিন এমকিউ-৯ ড্রোন ভূপাতিত করারও দাবি করেছে।
এরআগে মঙ্গলবার একটি মার্কিন অ্যাপাচি হেলিকপ্টার ভূপাতিত করার জন্য ইরানকে দায়ী করে মার্কিন সামরিক বাহিনী হরমুজ প্রণালিতে অবস্থিত কেশম দ্বীপ এবং ইরানের উপকূলবর্তী বন্দরগুলোতে হামলা চালায়।
আইআরজিসি বলেছে, যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় সিরিক শহরের একটি টেলিযোগাযোগ টাওয়ার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং সেখানকার দুটি পানির ট্যাংক ধ্বংস হয়ে গেছে। তারা সতর্ক করে বলেছে, যুক্তরাষ্ট্রের যেকোনো সামরিক পদক্ষেপের ‘চূর্ণকারী ও চূড়ান্ত’ জবাব দিতে তাদের বাহিনী পুরোপুরি প্রস্তুত রয়েছে এবং পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হলে তার পরিণতির জন্য ওয়াশিংটন সম্পূর্ণ দায়ভার বহন করবে।
তবে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। হামলার জেরে বাহরাইন ও কুয়েতে বিমান হামলার সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
জর্ডানের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, তারা আজরাকের দিকে ইরান থেকে ছোড়া পাঁচটি ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করে ভূপাতিত করেছে। এই অভিযানে কোনো হতাহত বা বস্তুগত ক্ষতি ছাড়াই ক্ষেপণাস্ত্রের স্প্লিন্টার নিচে পড়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের কুইন্সি ইনস্টিটিউট ফর রেসপনসিবল স্টেটক্রাফট-এর নির্বাহী ভাইস প্রেসিডেন্ট ত্রিতা পারসি বলেছেন, ইরান যেকোনো মার্কিন হামলার বিরুদ্ধে আনুপাতিকভাবে, কিন্তু অত্যন্ত কঠোর ও দ্রুততার সাথে জবাব দেওয়ার চেষ্টা করছে।



