দেশে বর্ষায় পর্যাপ্ত বৃষ্টি হচ্ছে না। বেশি বৃষ্টি হচ্ছে বর্ষা মৌসুম শুরুর আগে ও পরে। আবহাওয়া অধিদপ্তর বলছে, গত চার বছর ধরেই প্রকৃতির এই অনিয়ম চলছে। ফলে, পিছিয়ে যাচ্ছে বর্ষাকাল, বাড়ছে তাপ। কৃষি উৎপাদনে সরাসরি এর নেতিবাচক প্রভাবের আশঙ্কা করছেন জলবায়ু বিশেষজ্ঞরা।
ঋতুচক্রে এখন বাংলায় চলছে বর্ষাকাল। কিন্তু আকাশে নেই কাজলকালো মেঘের ঘনঘটা। দীর্ঘক্ষণজুড়ে নেই আষাঢ়ের ভারি বৃষ্টি। মেঘ রৌদ্দুর খেলার মাঝে হঠাৎ হচ্ছে ইলশে-গুঁড়ি বৃষ্টি।
আবহাওয়া অধিদপ্তর বলছে, গত বছরের নভেম্বর থেকে এবছরের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত পুরো শীতকাল ছিল বৃষ্টি শূন্য। তবে মার্চে ৩৫ ভাগ বেশি বৃষ্টি হয়। আবার এপ্রিলে ৮৬ ভাগ বেশি বৃষ্টি ঝরেছে। মে মাসেও ১০ ভাগ বাড়তি বৃষ্টি হয়। অথচ এই সময়টিতে বৃষ্টি নয়, থাকার কথা তাপপ্রবাহ।
আবহাওয়া অধিদপ্তর বলছে, জুন মাসে গড়ে স্বাভাবিক বৃষ্টি হয় ৪৫৯ মিলিমিটার । তবে এখন পর্যাপ্ত প্রায় ৬০ ভাগ বৃষ্টি কম হয়েছে। মাসের শেষ কয় দিনে এই ঘাটতি পূরণও হবে না।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, ২০২৫ সালে ২২ ভাগ,২০২৪ সালে ১০ ও ২০২৩ সালে ১৪ ভাগ বৃষ্টি কম হয়েছে। জলবায়ু গবেষকরা বলছেন, বর্ষা শেষে অগস্ট-সেপ্টেম্বরে হচ্ছে আবার ভারী বৃষ্টি। আবহাওয়ার এই পরিবর্তন এক যুগে আরও স্পষ্ট হয়েছে।
জ্যেষ্ঠ আবহাওয়াবিদ ড. বজলুর রশিদ বলেন, ওইরকম বৃষ্টি হচ্ছে না। সাধারণত এ সময় সাগরে লঘুচাপ, নিম্নচাপ হয়; মৌসুমী নিম্নচাপের প্রভাবে টানা দু–তিন দিন বৃষ্টি হয়; কিন্তু এ বছর মে–জুন মাসেও সাগরে লঘুচাপ নেই।
একদিকে বর্ষা কম অন্যদিকে এবছর সাগরে সক্রিয় রয়েছে এলনিনো। এতে তাপমাত্রাও বাড়ছে। যা কৃষি উৎপাদনে সরাসরি প্রভাব ফেলার আশঙ্কা রয়েছে।
অস্ট্রেলিয়ার কারটিন বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. আশরাফ দেওয়ান বলেন, একটা শিফট, কীভাবে এটা ঠিক করা যায়, সেটা এখনও নেই। ওয়াটারবডিস, এগুলো বাংলাদেশের জলবায়ুতে বিশেষভাবে প্রভাবিত করে; এখান থেকে বাতাস হিমলায়ে বাধা পেয়ে বৃষ্টিপাত ঘটায়।
আবহাওয়াবিদরা বলছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাবে শুধু বর্ষা নয়, শীত মৌসুমেরও সময় বদলে যাচ্ছে।



