ইরানে ফের হামলা চালালে এবার আরও দীর্ঘ ও ভয়াবহ যুদ্ধের মুখোমুখি হতে হবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে-এমনই হুঁশিয়ারি দিয়েছে তেহরান। দেশটির সামরিক কর্মকর্তাদের দাবি, ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি প্রস্তুত করা হয়েছে নতুন যুদ্ধকৌশল। এমনকি মধ্যপ্রাচ্যের বাইরেও সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কার ইঙ্গিত দিয়েছে ইরান। খবর রয়টার্সের।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে নতুন করে যুদ্ধ শুরু হলে এবার প্রতিপক্ষকে আরও আগের চেয়ে বেশি মূল্য দিতে হবে, এমন হুঁশিয়ারি দিচ্ছে ইরানের সামরিক নেতৃত্ব।
ইরানের সাবেক আইআরজিসি কমান্ডার হোসেইন কানানি মোগাদ্দামের দাবি, আগের সংঘাতে ক্ষয়ক্ষতি হলেও সামরিক সক্ষমতা পুনর্গঠনে এগিয়েছে তেহরান। বাড়ানো হয়েছে ক্ষেপণাস্ত্রের পাল্লা, নির্ভুলতা ও আঘাত হানার ক্ষমতা। পাশাপাশি সম্প্রসারণ করা হয়েছে সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তুর তালিকা।
সম্প্রতি রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে ভূগর্ভস্থ ড্রোন উৎপাদনকেন্দ্রসহ উন্নত আরাশ অ্যাটাক ড্রোন প্রদর্শন করা হয়েছে। তেহরানের দাবি, এর ওয়ারহেডের সক্ষমতা বাড়িয়ে ১০০ কেজি করা হয়েছে।
রয়টার্সের অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে চীন, রাশিয়া ও জার্মানিসহ বিভিন্ন দেশ থেকে সামরিক সরঞ্জাম তৈরির উপকরণ সংগ্রহ করেছে ইরানের প্রতিরক্ষা-সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো।
নতুন সংঘাতে অসম যুদ্ধকৌশলের ওপর জোর দিচ্ছে ইরান। তাদের দাবি, উন্নত মার্কিন সামরিক প্রযুক্তির বিপরীতে ভিন্ন কৌশলে প্রতিপক্ষকে চাপে রাখা হবে। এতে হরমুজ ও গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথেও বাড়তে পারে উত্তেজনা।
তবে নতুন যুদ্ধের আশঙ্কায় সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে দেশটির সাধারণ মানুষ। তেহরানসহ বিভিন্ন শহরে পর্যাপ্ত আশ্রয়কেন্দ্র ও আগাম সতর্কবার্তা ব্যবস্থা নেই। হামলা হলে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও যোগাযোগ অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি বাড়তে পারে জনদুর্ভোগ।
এদিকে, আগের সংঘাতে শীর্ষ রাজনৈতিক ও সামরিক কর্মকর্তাদের নিহত হওয়ার ঘটনায় ইরানের গোয়েন্দা ও নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। বিশ্লেষকদের মতে, সামরিক সক্ষমতা পুনর্গঠনের পাশাপাশি এই দুর্বলতা কাটিয়ে ওঠাও তেহরানের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।


