আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের ওপর নতুন বিধিনিষেধ আরোপ করেছে পাকিস্তান সরকার। সাংবাদিক ও সংবাদমাধ্যমের অধিকার রক্ষা সংস্থাগুলো এই সিদ্ধান্তের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা গেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নতুন নিয়ম অনুযায়ী, বিদেশি কোনো গণমাধ্যমের হয়ে কাজ করা স্থানীয় বা বিদেশি সাংবাদিককে ইসলামাবাদ, করাচি ও লাহোর ছাড়া দেশের অন্য কোনো স্থানে গিয়ে সংবাদ সংগ্রহের জন্য আগে থেকেই সরকারের অনুমতি নিয়েত হবে।
সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার বৈশ্বিক সূচকে ১৮০টি দেশের মধ্যে পাকিস্তানের বর্তমান অবস্থান ১৫৩তম। নতুন এই বিধিনিষেধের ফলে দেশটিতে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলোর সরেজমিন সংবাদ পরিবেশন সম্পূর্ণভাবে সরকারের অনুমতির ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়বে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষক মুস্তফা নওয়াজ খোখার বলেন, ‘এই নির্দেশিকা বিদেশি গণমাধ্যমের স্বাধীনভাবে কাজ করার পথকে পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়ার মতো। এমন নিষেধাজ্ঞা কেবল অপতথ্য ও ভুয়া খবর ছড়ানোর সুযোগ বাড়িয়ে দেবে।’
গত রোববার জারি করা এই নির্দেশিকাকে সংবাদমাধ্যমের ওপর নিষেধাজ্ঞা হিসেবে দেখতে নারাজ পাকিস্তান সরকার। সরকারের দাবি, এই বিধিনিষেধের উদ্দেশ্য হলো গণমাধ্যমকে সহায়তার প্রশাসনিক ব্যবস্থা তৈরি করা।
‘ফরেন মিডিয়া ফ্যাসিলিটেশন গাইডলাইনস, ২০২৬’ নামের এই নির্দেশিকায় 'নো অবজেকশন সার্টিফিকেট' (এনওসি) বা অনাপত্তিপত্র পেতে কত সময় লাগবে, তা স্পষ্টভাবে বলা হয়নি।
বিবিসি বলছে, সাধারণত বিদেশি সাংবাদিকদের এনওসি পেতে কয়েক মাস পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়। অনেক সময় আবেদন ঝুলিয়েও রাখা হয়। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলো পাকিস্তানভিত্তিক স্থানীয় সাংবাদিক ও ফ্রিল্যান্সারদের ওপর নির্ভর করত, যারা পেশোয়ার বা কোয়েটার মতো স্থানে সহজে যাতায়াত করতে পারতেন। কিন্তু নতুন নিয়মে ফ্রিল্যান্সারসহ যেকোনো স্থানীয় প্রতিনিধিকেও সংবাদ সংগ্রহের জন্য এনওসি নিতে হবে।
পাকিস্তানের প্রভাবশালী পত্রিকা ডনের সম্পাদক জাফর আব্বাস এই সিদ্ধান্তের কড়া সমালোচনা করে বলেন, ‘এগুলো অত্যন্ত হাস্যকর এবং সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য বিধিনিষেধ। ৪০ বছরের সাংবাদিকতা জীবনে দুটি সামরিক শাসন ও একাধিক স্বৈরাচারী বেসামরিক সরকার দেখেছি, কিন্তু এমন নিয়ম কখনো দেখিনি। তিনটি প্রধান শহরের বাইরে যেতে সাংবাদিকদের এনওসি নিতে বলা কেবল যাতায়াতের স্বাধীনতাই নয়, সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার ওপর সরাসরি আঘাত।’
নির্দেশিকায় আরও বলা হয়েছে, পাকিস্তানের ‘আদর্শ, সার্বভৌমত্ব, নিরাপত্তা বা জনশৃঙ্খলার পরিপন্থী’ কোনো কাজের সঙ্গে যুক্ত থাকলে সাংবাদিকদের অ্যাক্রেডিটেশন কার্ড বাতিল করা হতে পারে।
পাকিস্তানের সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী সালাহউদ্দিন আহমেদ জানান, নির্দেশিকাটির পেছনে কোনো আইনগত ভিত্তি নেই। এটি কেবল একটি নির্বাহী আদেশ মাত্র।
সম্প্রতি পাকিস্তাননিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরে দফায় দফায় সহিংস বিক্ষোভ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে বেশ কয়েকজন নিহত হয়েছেন। বিবিসি ও আল জাজিরাসহ আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে কাশ্মীরের অস্থিতিশীল পরিস্থিতি নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশের পরপরই সরকারের পক্ষ থেকে এই কড়া বার্তা দেওয়া হয়।
ইতোমধ্যে পাকিস্তানে আল জাজিরার ওয়েবসাইট সাময়িকভাবে ব্লক করে দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।



