প্লেয়িং অ্যাওয়ে (১৯৮৭)
সিনেমাটি নিয়ে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম গার্ডিয়ানে একটি নিবন্ধ প্রকাশিত হয়েছিল। লেখক-সাংবাদিক এমা জনের ওই নিবন্ধের শিরোনাম ছিল ‘প্লেয়িং অ্যাওয়ে: আ নেগলেক্টেড জেম উইথ ট্রুথস অ্যাবাউট রেইস অ্যান্ড পলিটিক্স’। তর্জমা করলে দাঁড়ায়—‘প্লেয়িং অ্যাওয়ে: বর্ণ ও রাজনীতিগত সত্যের এক অবহেলিত রত্ন’। সিনেমাটির মূল বিষয়বস্তু নিশ্চয় স্পষ্ট হয়ে গেছে! হ্যাঁ, সিনেমাটির কাহিনি এগিয়ে যায় একটি ক্রিকেট দলকে ঘিরে। যাঁরা তাঁদের ‘থার্ড ওয়ার্ল্ড উইক সেলিব্রেশন’কে বিশেষভাবে রাঙাতে ইংল্যান্ডের ছোট্ট গ্রামে একটি প্রীতিম্যাচের আয়োজন করে। সেখানে দক্ষিণ লন্ডনের একটি কৃষ্ণাঙ্গ দলকে আমন্ত্রণ জানায় খেলতে। স্যাটায়ারধর্মী আবহে এগিয়ে যায় গল্প। সিনেমাটি পরিচালনা করেছেন ত্রিনিদিয়ান ব্রিটিশ নির্মাতা হোরেস ওভে। চিত্রনাট্য করেছেন ক্যারিল ফিলিপস। অভিনয়ে নরম্যান বিটন, নিকোলাস ফারেল, ব্রায়ান বোভেল, রস কেম্প প্রমুখ।
লগান (২০০১)
এ ছবিটিতে ক্রিকেট, ভূ-রাজনীতি, মানুষের অধিকার মিলে মিশে একাকার হয়েছে।
বলিউড অভিনেতা আমির খানের ক্যারিয়ারের অন্যতম সিনেমা এটি। অথচ শুরুতে তিনি এই সিনেমায় কাজ করতেই রাজি ছিলেন না। কারণ, চিত্রনাট্য পছন্দ হয়নি! তখন পরিচালক আশুতোষ গোয়ারিকর আরও নাছোড়বান্দা হয়ে ওঠেন। তিন মাস পর আবারও গল্পটি শোনাতে চান আমিরকে। তখন কিছুটা বিরক্তি নিয়ে স্ক্রিপ্ট শোনেন অভিনেতা। এবার গল্প শোনে তিনি হতবাক! এ ছবির প্রযোজনা করবে কে! কাউকে না পাওয়াতে শেষ পর্যন্ত আমির নিজেই এতে প্রযোজক হিসেবে যুক্ত হন। বাকিটা ইতিহাস! এখন পর্যন্ত মাত্র তিনটি ভারতীয় ছবি অস্কার তালিকায় স্থান পেয়েছে। তারমধ্যে সর্বশেষ ২০০১ সালে বিদেশি ভাষার ক্যাটাগরিতে মনোনয়ন পেয়েছিল ‘লগান’। এর আগে ১৯৫৭ ও ১৯৮৮ সালে ‘মাদার ইন্ডিয়া’ ও ‘সালাম বম্বে’ অস্কারে মনোনয়ন পেয়েছিল। ব্রিটিশ শাসনামলে ক্রিকেট খেলাকে কেন্দ্র করে নির্মিত এই ছবিতে আমির ছাড়াও অভিনয় করেছেন গ্রেসি সিং, পল ব্ল্যাকথ্রন, রিচেল শেলি, দয়াশঙ্কর পান্ডে প্রমুখ।
দ্য ফাইনাল টেস্ট (১৯৫৩)
ক্রিকেট নিয়ে নির্মিত কালজয়ী সিনেমার আইএমডিবি তালিকায় এ সিনেমার অবস্থান পাঁচ নম্বরে। কারও কারও মতে, ইতিহাসের পাতায় এটিই হয়তো ক্রিকেট নিয়ে বানানো প্রথম সিনেমা। গল্পে দেখা যায়, কেন্দ্রীয় চরিত্র স্যাম পামার, যিনি তাঁর ক্যারিয়ারের শেষ টেস্ট ম্যাচটি খেলতে যাচ্ছেন। চাইছেন সেই ম্যাচে মাঠে থাকুক তাঁর ছেলেও। কিন্তু ছেলেটি উল্টো এক কবির সঙ্গে ঘুরে বেড়াতে থাকে। ১৯৫৩ সালে ব্রিটিশ পরিচালক অ্যান্থনি অ্যাস্কুইথ পরিচালিত এ সিনেমার কাহিনি লিখেছেন জনপ্রিয় নাট্যকার টেরেন্স র্যা টিগান। অভিনয়ে জ্যাক ওয়ার্নার, রবার্ট মোরলি, জর্জ রেফ প্রমুখ।
ইকবাল (২০০৫)
ভারতের জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত এ সিনেমার কাহিনি লেখেন বিপুল রাওয়াল। পরিচালনা করেন নাগেশ কুকুনুর। প্রযোজনায় ছিলেন সুভাষ ঘাই। সিনেমাটি মূলত ইকবাল নামের এক ছেলের গল্প, যে এক অজপাড়া থেকে উঠে এসে ভারতীয় জাতীয় দলের পেসার হন। সিনেমাটিতে অভিনয় করেন শ্রেয়াস তালপাড়ে, নাসিরুদ্দিন শাহ, শ্বেতা বসু প্রসাদসহ অনেকে।
৮৩ (২০২১)
১৯৮৩ সালে প্রথমবার বিশ্বকাপ জিতেছিল ভারত। কপিল দেবের নেতৃত্বে সেদিন ইতিহাস রচিত হয়েছিল। ভারতীয় ক্রিকেট দলের সেই সময়কার বিভিন্ন অবিস্মরণীয় কাহিনি নিয়েই এই সিনেমা। কপিল দেবের ভূমিকায় অভিনয় করেছেন রণবীর সিং। এতে দীপিকা পাডুকোনকে দেখা গেছে কপিল দেবের স্ত্রী রোমার ভূমিকায়। আরও রয়েছেন পঙ্কজ ত্রিপাঠি, সাকিব সেলিম প্রমুখ। বিশেষ উপস্থিতি ছিল স্বয়ং কপিল দেবের। সিনেমাটি পরিচালনা করেছেন কবীর খান।
সাবাশ মিতু (২০২২)
নারী ক্রিকেট বিশ্বকাপ-২০১৭। ইংল্যান্ডে আয়োজিত সেই বিশ্বকাপের ফাইনালে জয় পেয়েছিল স্বাগতিকরাই। এটিই প্রথম কোনো নারী বিশ্বকাপ, যেখানে প্রত্যেক দলেই খেলছিলেন পেশাদার ক্রিকেটাররা। ওই আসরে ভারতের অধিনায়কত্বের দায়িত্ব সামলেছেন মিতালি রাজ। তাঁর আত্মজীবনীমূলক সিনেমাই ‘সাবাশ মিতু’। এমনকি নারী বিশ্বকাপের ইতিহাসে মিতালিই প্রথম ক্রিকেটার যিনি একদিনের ম্যাচে সর্বোচ্চ সাতটি হাফ সেঞ্চুরির রেকর্ড গড়েছিলেন। তিনিই নারী ক্রিকেটের সর্বোচ্চ রান সংগ্রহকারী। তাঁর মোট রান ১০ হাজারের ওপরে। সৃজিতের নির্মাণে বাইশ গজের এই মহাতারকার কীর্তি-কাহিনিই ফুটে উঠেছে পর্দায়। এতে মিতালি রাজের চরিত্রে অভিনয় করেছেন তাপসী পান্নু। অন্যান্য চরিত্রে রয়েছেন মুমতাজ সরকার, বিজয় রাজ, ব্রিজেন্দ্র কালা প্রমুখ।
এমএস ধোনি: দ্য আনটোল্ড স্টোরি (২০১৬)
ভারতের জাতীয় ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক মহেন্দ্র সিং ধোনির জীবনীনির্ভর সিনেমা এটি। তাঁর নেতৃত্বে ২০১১ সালে আইসিসি বিশ্বকাপ এসেছিল ভারতের ঘরে। এমনকি তিনিই প্রথম কোনও ভারতীয় উইকেট কিপার যিনি টেস্ট ম্যাচে ৪০০০ রানের মাইলফলক ছুঁয়েছেন। এই সফল ক্রিকেটারের ছোটবেলা থেকে ২০১১ সালের বিশ্বকাপ পর্যন্ত উঠে এসেছে ‘এমএস ধোনি: দ্য আনটোল্ড স্টোরি’তে। এটি পরিচালনা করেছেন নীরজ পান্ডে। ধোনির ভূমিকায় অভিনয় করেছেন সুশান্ত সিং রাজপুত। এছাড়া আরও আছেন কিয়ারা আদভানি, হ্যারি তেঙ্গরি, অনুপম খের, রাজেশ শর্মা ও ভূমিকা চাওলা। ছিলেন এমএস ধোনিও!
আজহার (২০১৬)
কারও বায়োপিক বানাতে গেলে পর্দায় শুধু সেই মানুষটিই নয়, তাঁর পারিপার্শ্বিক আরও অনেকেই উঠে আসেন। আর তা যদি হয় ভারতীয় ক্রিকেটার মোহাম্মদ আজহারউদ্দিনকে নিয়ে, তাহলে রসদের অভাব নেই! কেননা তাঁর নিজের জীবনেই ছড়িয়ে আছে অসংখ্য বাক ও বির্তকের গল্প। সেসবের সঙ্গে জড়িত তাঁর সমসামায়িক অনেক তারকা ক্রিকেটারের নামও। তেমনি এক কিংবদন্তি চরিত্র রবি শাস্ত্রী। এই সিনেমায় আজহারউদ্দিনের চরিত্রে অভিনয় করেছেন ইমরান হাশমি। তবে সিনেমাটিতে বিপত্তি বাঁধে রবি শাস্ত্রীর চরিত্রটি নিয়ে। তাঁকে নাকি দেখানো হয়েছে প্লেবয় ইমেজে। এই নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন শাস্ত্রী। সে যাই হোক, ভারতের ক্রিকেট ইতিহাসে সবচেয়ে সফল অধিনায়কদের একজন মোহাম্মদ আজহারউদ্দিন। তিনিই একমাত্র ক্রিকেটার যিনি ১৯৯২ বিশ্বকাপ থেকে টানা তিন বিশ্বকাপে ভারতীয় দলকে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন। তবে ক্যারিয়ারের শেষ দিকে এসে ম্যাচ ফিক্সিং কেলেঙ্কারিতে জড়িয়ে ক্রিকেট থেকে আজীবন নিষিদ্ধ হন। এই সিনেমায় আরও অভিনয় করেছেন নার্গিস ফাখরি, প্রাচী দেসাই, লারা দত্ত প্রমুখ। পরিচালনা করেছেন টনি ডি’সুজা।
হ্যান্সি (২০০৮)
দক্ষিণ আফ্রিকান ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক হ্যান্সি ক্রনিয়ে। ক্রিকেট কোচ প্যাডি উপটন তাঁর সম্পর্কে মন্তব্য করেছেন, ‘মনে হয় নেলসন ম্যান্ডেলার পর দক্ষিণ আফ্রিকার সবচেয়ে সম্মানিত নাগরিক ছিলেন ক্রনিয়ে’। এই ক্রিকেটারের সঙ্গে বর্ণবাদবিরোধী আন্দোলনের কিংবদন্তি নেতা ম্যান্ডেলারও খুব ভালো সম্পর্ক ছিল। কিন্তু ২০০০ সালে ভারত ও দক্ষিণ আফ্রিকা সিরিজ চলার সময়ে দিল্লি পুলিশ একটি কল রেকর্ড প্রকাশ করে। যেখানে হ্যান্সি ক্রনিয়ের সাথে ভারতের জুয়াড়ি সিন্ডিকেটের এক প্রতিনিধির কথোপকথন শোনা যায় বলে অভিযোগ। এরপরই তাঁর খেলোয়াড়ি জীবনে পতন শুরু। ‘হ্যান্সি’ ছবিতে ওই কালো অধ্যায়ের প্রসঙ্গই উঠে এসেছে। এতে হ্যান্সির চরিত্রে অভিনয় করেছেন ফ্রাঙ্ক রটেনবাখ ও তাঁর স্ত্রী বার্থা ক্রনিয়ের চরিত্রে আছেন সারাহ থম্পসন। পরিচালনায় রিগার্ড ভ্যান ডেন বার্গ।
চ্যান খুলি কি মেন খুলি (২০০৭)
শিশুতোষ এই ছবির গল্প এগিয়েছে এক অনাথ কিশোরকে কেন্দ্র করে। সৌভাগ্যক্রমে যে কিনা ১৯৮৩ সালের বিশ্বকাপে কপিল দেবের ব্যবহৃত ব্যাটটি পেয়ে যায়। এতে ভর করে জাদুকরি এক শক্তি, যার জোরে সেই ১৩ বছরের কিশোর অলৌকিক ব্যাটিং শুরু করে দেয়; এমনকি জাতীয় দলেও সুযোগ পেয়ে যায়। ছবিটিতে কেন্দ্রীয় চরিত্রে অভিনয় করেছেন জাইন খান দুরানি। একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায় আছেন রাহুল বোস। পরিচালনা করেছেন করণজিৎ সালুজা।


গুগলে সার্চ দিলে সবার প্রথমে আমার নাম আসে: জায়েদ খান
রাখির জন্য বিয়ে হয়নি তনুশ্রীর, নানা অভিযোগে থানায় মামলা
