শুভ জন্মদিন

‘হ‍ুমায়ূনেরও কিছু হেটার্স আছে, থাকুক’

আজ নন্দিত লেখক-নির্মাতা হ‍ুমায়ূন আহমেদের জন্মদিন। জীবদ্দশায় সাধারণ থেকে বিশিষ্টজন, সব শ্রেণির মানুষেরাই এই কীর্তিমানকে আপন করে নিয়েছিলেন। জন্মদিন উপলক্ষে থাকছে তেমনই একটি ভালোবাসার গল্প, যা উঠে এসেছে তাঁর ছোট ভাই আহসান হাবীবের ফেসবুক স্ট্যাটাসে। ইনডিপেনডেন্ট ডিজিটালের পাঠকদের জন্য লেখাটি হুবহু তুলে ধরা হলো— 

আপডেট : ১৩ নভেম্বর ২০২৩, ০১:৪৯ পিএম

সানগ্লাস পরা এক লোক হঠাৎ রাস্তায় আমাকে থামাল।
-আপনি হ‍ুমায়ূন আহমেদের ভাই না?
-হ্যাঁ।
- আপনাকে একটা কথা জানাতে চাই। 
- কী কথা?
- আমি তাকে দুচোখে দেখতে পারি না।

বলেই সে আমাকে কিছু বলার সুযোগ না দিয়ে হাওয়া। আমি আর কী বলব! কিন্তু মজার ব্যাপার হচ্ছে সেই লোকটাকে আবার দেখলাম একদিন, একটা গাছের নিচে দাঁড়িয়ে তার সানগ্লাস খুলে রুমাল দিয়ে মুচ্ছে। আামি খেয়াল করলাম তার একটা চোখ নষ্ট। মানে সে ‌‘ওয়ান আইড ম্যান’। বেচারা! হ‍ুমায়ূন আহমেদকে দু’চোখে দেখবে কীভাবে। খুবই স্বাভাবিক।

আরেকবার আমি একটা টং দোকানে বসে চা খাচ্ছিলাম। হঠাৎ ঝড়ের বেগে এক লোক এসে আমার পাশে বসল। সেই একই প্রশ্ন, 
-আপনি হ‍ুমায়ূন আহমেদের ভাই না?
-হ্যাঁ।
-কিছু যদি মনে না করেন একটা কথা বলতে চাই।
-বলুন।
-আমি, আমি হ‍ুমায়ূন আহমেদকে হেট করি, কারণ তিনি বাংলা সাহিত্যকে ধ্বংস করেছেন।
-খুব স্বাভাবিক, সবাই যে হ‍ুমায়ূন আহমেদকে পছন্দ করবে তার কোনো কারণ নেই, তার হেটার থাকতেই পারে। তবে আপনি একটা কাজ করতে পারেন। আমি বলি।
-কী কাজ?
-হ‍ুমায়ূন হেটারস এসোসিয়েশন বলে একটি সংঘ নাকি আছে। আপনি তার সভাপতি পদে জয়েন করেন। শুনেছি ওই পোস্টটা এখনও খালি আছে। কি বলেন?

বড় ভাই মুহম্মদ জাফর ইকবাল ও ছোট ভাই আহসান হাবীবের সঙ্গে হ‍ুমায়ূন আহমেদ। ছবি: সংগৃহীত

হঠাৎ আমাদের পিছনে হো হো করে কে যেন হেসে উঠল। আমি পেছনে তাকিয়ে দেখি এক তরুণ হাসছে, সে নিশ্চয়ই আমাদের কথা-বার্তা শুনেছে। এবং মজা পেয়েছে। লোকটা একবার আমার দিকে একবার ওই তরুণের দিকে তাকাল তারপর ...ঝড়ের বেগে এসেছিল, এবার উল্কার বেগে ছুটে বেড়িয়ে গেল।

আজ হ‍ুমায়ূন আহমেদের জন্মদিনে তার হেটারদের নিয়ে কথা বলছি কেন? বরং একটা সুন্দর ঘটনা বলি। বাবর রোডের বাসার চিলেকোঠার ঘরটা ছিল আমার। সেখানে পড়াশুনা করতাম। বড় ভাই হ‍ুমায়ূন আহমেদ সেখানে এসে সিগারেট খেত। সিগারেটের প্যাকেটটা ওখানেই থাকত। একদিন রাত বারটার দিকে এল। প্যাকেটের ভিতর তিনটা সিগারেট ছিল, একটা খেয়ে বাকি দুটো ছিঁড়ে ফেলল।
-কী করলে? আমি অবাক হয়ে বলি।
-আর সিগারেট খাব না। বলে সে গম্ভীর মুখে চলে গেল। রাত একটার দিকে আবার এল। আমি তখনও পড়ছি কারণ সামনে এস এস সি পরীক্ষা, রাত ২টা পর্যন্ত পড়ি। এত রাতে তাকে দেখে অবাক হলাম। সে ইতস্তত করে বলল—
-ইয়ে শাহীন, এখন কি দোকান খোলা পাওয়া যাবে? একটা সিগারেট খেতে পারলে... তার চেহারার অবস্থা দেখে মায়া লাগল। (আমার ডাক নাম শাহীন)
আমি বেরুলাম। জানি সব দোকান-পাট বন্ধ তারপরও যদি একটা দুটো দোকান খোলা পাওয়া যায়। সবচেয়ে কাছের দোকানটাই খোলা পাওয়া গেল। বললাম পাঁচটা ব্রিস্টল সিগারেট দেন (সে তখন ব্রিস্টল সিগারেট খেত)। 
- এত রাতেও দোকান খোলা যে? আমি জিজ্ঞেস করি।
- স্যার প্রতিদিন দুইবারে আমার কাছ থাইকা পাঁচটা পাঁচটা কইরা সিগারেট নেয়। আইজ নিল না দেইখাই দোকান খোলা রাখছিলাম। বলে সে হাসে। 

আহা কত মানুষ তাকে ভালবাসত, এখনও বাসে হয়ত। কিছু হেটার হয়তো আছে, থাকুক। কে জানে একদিন তারাও হয়ত তাকে ভালবাসবে... আর না বাসলেই বা কী। এমার্সনের একটা সুন্দর কথা আছে, ‘তোমরা আমাকে ঘৃনা করেছিলে বলেই বুঝতে পেরেছি ভালবাসা কী গভীর...!’

শুভ জন্মদিন হ‍ুমায়ূন আহমেদ... আমাদের দাদাভাই।

লেখক: কার্টুনিস্ট

নন্দিত কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদের ১৪তম মৃত্যুবার্ষিকীতে নুহাশ পল্লীতে মিলাদ, দোয়া ও এতিমদের মাঝে খাবার বিতরণের আয়োজন করা হয়। বৃষ্টির মধ্যেও স্বজন, ভক্ত ও শুভানুধ্যায়ীরা তাঁর কবরে শ্রদ্ধা জানান।
নিজের লেখা বই প্রকাশ না করার পেছনের গল্প জানাতে গিয়ে আবেগঘন একটি ফেসবুক স্ট্যাটাস দিয়েছেন হুমায়ূন আহমেদের সাবেক স্ত্রী গুলতেকিন খান, সেখানে নিজের অভিজ্ঞতা, কষ্ট আর সিদ্ধান্ত সবকিছুই সরাসরি তুলে...
মাঝেমধ্যেই চলচ্চিত্রকার ও কথসাহিত্যিক হ‍ুমায়ূন আহমেদকে নিয়ে স্মৃতির গভীরে ডুব দেন তাঁর প্রাক্তন স্ত্রী গুলতেকিন খান। আজও তেমনই এক আবেগঘন স্মৃতি সামনে আনলেন তিনি।
রাষ্ট্রীয়ভাবে কিংবদন্তি শিল্পীদের উদযাপন করার উদ্যোগ নিয়েছে সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়। মাস তিনেক আগেই বিষয়টি জানিয়েছিলেন সংস্কৃতি উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী। এরই অংশ হিসেবে গেল অক্টোবরের শেষদিকে...
জনস্বার্থ বিষয়ক প্রকল্পের অর্থায়নে নির্দিষ্ট উৎসের ওপর নির্ভর করতে চায় না সরকার। বরং ভিন্ন ভিন্ন উৎসের দিকে নজর দেওয়া হচ্ছে। এমনটাই জানিয়েছেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। 
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেছেন, ‘সরকার এখন নবায়নযোগ্য জ্বালানির ওপর সবচেয়ে বেশি জোর দিচ্ছে।’ ‎ ‎শুক্রবার বিকেলে যশোর কারিগারি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র আয়োজিত...
এক বছরের ব্যবধানে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বাংলাদেশের এলএনজি আমদানি ৬১ শতাংশ বেড়েছে। ফলে ২০২৬ সালের প্রথমার্ধে এলএনজি আমদানিকারক দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ ১৭তম অবস্থানে রয়েছে।
ক্ষুদ্র ব্যক্তি স্বার্থ ও দলীয় স্বার্থে ফ্যাসিবাদ বিরোধী শক্তির মধ্যে অনৈক্য দেখা দিয়েছে বলে মত বিশিষ্টজনদের। জুলাই জাতীয় সনদের বাস্তবায়ন না হওয়াও অনৈক্যের আরেক বড় কারণও বলছেন তারা। তবে সরকার এগিয়ে...
লোডিং...
পঠিতনির্বাচিত

এলাকার খবর