নিরপেক্ষ সরকারের বিষয়টি সমাধান হওয়ার আগে তফসিল ঘোষণা করা হলে তা দেশের রাজনীতিকে জটিল পরিস্থিতির দিকে ঠেলে দেওয়া হবে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব মাহবুব উদ্দিন খোকন। বুধবার সুপ্রিম কোর্টে এক সংবাদ সম্মেলন তিনি এ করেছে।
ইসিকে তফসিল ঘোষণা থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘তারা (ইসি) তফসিল ঘোষণা করলে জনগনের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে বলে আমি মনে করি। এতে দেশে আরও জটিল অবস্থা সৃষ্টি হবে এবং রাজনৈতিক এ জটিলতার জন্য দায়ী হবে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এবং বাকি চার কমিশনার।’
আওয়ামী লীগের সঙ্গে সংলাপ প্রসঙ্গে খোকন বলেন, ‘আওয়ামী লীগের সাথে সংলাপ করে কোনো লাভ নেই। ২০১৪ ও ১৮ সালের নির্বাচনের আগে সংলাপ করে কোনো ফলাফল আসেনি, তারা কথা দিয়ে কথা রাখে না।’
বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব জানান, শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রী থাকবে না, এবং আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকবে না এমন প্রস্তাব থাকলে সংলাপের কথা বিবেচনা করবে বিএনপি।
নির্বাচন নিয়ে দেশের দুই বড় রাজনৈতিক শক্তি আওয়ামী লীগ ও বিএনপির মধ্যে টানাপোড়েনের মধ্যেই ঘোষণা হতে যাচ্ছে দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনের তফসিল। গত ২৮ অক্টোবর রাজধানীতে বিএনপির সমাবেশে সহিংসতার পর দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ বেশ কয়েকজন জ্যেষ্ঠ নেতাই এখন কারাগারে। যারা বাহিরে আছেন তারাও খুব একটা প্রকাশ্যে আসছেন না। ২৮ অক্টোবরের পর থেকে সারা দেশে ধারাবাহিক ভাবেই হরতাল ও অবরোধের মতো কর্মসূচি পালন করছে বিএনপি।
বিএনপির এ কর্মসূচিগুলোও শেষ পর্যন্ত শান্তিপূর্ণ থাকেনি। হরতাল অবরোধে রাজধানীসহ সারা দেশে শতাধিক যানবাহনে আগুন দেওয়া হয়েছে। এসব ঘটনায় অনেকেই দগ্ধ হয়েছেন।
সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা থাকায় নির্বাচন হতে হবে এ বছরের নভেম্বর থেকে আগামী বছরের জানুয়ারির মধ্যে। নির্বাচন কমিশন আগেই ধারনা দিয়েছে, ভোট হতে পারে জানুয়ারির প্রথমার্ধে।
নির্বাচনে সব রাজনৈতিক দল বিশেষ করে বিএনপি ও তাদের জোট সঙ্গীদের আনতে আওয়ামী লীগের ওপর চাপ আছে। আমেরিকাসহ পশ্চিমা দেশগুলো দুই দলকে সংলাপে আনতে নানা তৎপরতা চালাচ্ছে। এরই মধ্যে দেশের তিনটি প্রধান রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও জাতীয় পার্টিকে সংলাপে বসার আহ্বান জানিয়ে চিঠি দিয়েছে আমেরিকা সরকার।
অবশ্য সংলাপের সব সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া হয়েছে ক্ষমতাসীনদের পক্ষ থেকে। বুধবার সকালে মার্কিন রাষ্ট্রদূত পিটার হাস মার্কিন সরকারের চিঠি নিয়ে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের সঙ্গে দেখা করেন। পরে কাদের সাংবাদিকদের জানান, এখন আর সংলাপের সুযোগ নেই।
কাদের বলেন, ‘বিএনপিকে আমরা অনেক আগে থেকেই বলে আসছিলাম, শর্ত ছাড়া সংলাপে আসলে তখন আমরা বিবেচনা করব। কিন্তু এখন আর সেই সুযোগ নেই।’
এদিকে বিএনপি বলে আসছে, এই সরকারের অধীনে কোনো নির্বাচনে তারা অংশ নেবে না। এর অংশ হিসেবে গত কয়েক বছরে সিটি করপোরেশনসহ স্থানীয় যে নির্বাচনগুলো হয়েছে, সেগুলোতে কোনো প্রার্থী দেয়নি বিএনপি ও তাদের জোটসঙ্গীরা। দলের সিদ্ধান্ত অমান্য করে যারা প্রার্থী হয়েছিলেন তাদের অনেককেই আজীবনের জন্য বহিষ্কার করা হয়েছে। এখন সরকারের পদত্যাগ ও তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিতে রাজপথে নানা কর্মসূচি পালন করছেন দলটির নেতা–কর্মীরা।
আওয়ামী লীগও বলে আসছে, উচ্চ আদালতের রায়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বিলুপ্ত হওয়ায় এটি আর ফিরিয়ে আনার সুযোগ নেই। আগামী নির্বাচন হবে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে পদে রেখে, নির্বাচন কমিশনের অধীনে।


বিএনপির হরতাল-অবরোধে পুড়েছে ৯৪টি বাস, বাদ যায়নি অ্যাম্বুলেন্সও
তফসিল ঘোষণা ঘিরে রাজধানীতে সতর্কতা
আমেরিকার চিঠি নিয়ে কাদের বললেন, সংলাপের সুযোগ নেই
‘বিএনপির প্রভু’ আমেরিকার সুর নরম দেখেছে কেন্দ্রীয় ১৪ দল
বিএনপি–জামায়াতের কাছে প্রশ্ন সাধারণ জনগণ কি দোষ করেছে: তথ্যমন্ত্রী
পঞ্চম দফায় শুরু অবরোধ, গণপরিবহনে বেড়েছে যাত্রী সংখ্যা
