দেশীয় স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্ম বঙ্গ’তে আজ মুক্তি পেয়েছে ‘অন্তর্জাল’। দিনটিতে বেশ হাসিখুশি থাকার কথা এর নির্মাতা দীপংকর দীপনের। কিন্তু উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন তিনি। বর্তমান সিনেদুনিয়ার পরিস্থিতি তুলে ধরে এই নির্মাতা বললেন, ‘‘যে সময়ে ‘অ্যানিম্যাল’ ব্লকবাস্টার হয়, সেই অস্থির সময়ে ‘ডানকি’ নিয়েও ভয়।’’
আজ বৃহস্পতিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দীর্ঘ একটি পোস্ট দিয়েছেন দীপংকর দীপন। যেখানে উঠে এসেছে সাম্প্রতিক সময়ে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র অঙ্গনের বাস্তবতা। ক্ষোভ প্রকাশ করে এই নির্মাতা বলেন, ‘এমন শুরু হয়েছে যে, দর্শককে বিনোদিত করতে পারলেই হলো, চোখ ধাঁধিয়ে, চমকে দিতে পারলেই হলো; সেটা হলে অনৈতিক জিনিসকে প্রমোট করা, নারীদের ছোট করে দেখানো, পুরুষবাদী চর্চা, ভুল মূল্যবোধের চর্চা—সবই জায়েজ।’

পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করতে জুতসই একটি উদাহরণ টানেন দীপংকর দীপন। তিনি বলেন, ‘‘বিষয়টা ইহুদিরা যখন আমেরিকান থিয়েটার দখল করে সেই সময়ের অবস্থার মতো। হেনরি ফোর্ড তাঁর সিক্রেটস অব জায়োনিজম গ্রন্থে (যেগুলো আসলে ইনডিপেনডেন্ট পত্রিকার কলাম) লিখেছেন, ‘১৯১২ সালের দিকে ইহুদিদের সব দখল করার নেশায় পেয়ে বসে। ব্যাংক, শিল্প সব। চোখ পড়ল বিনোদন শিল্পের দিকে, তখন ছিল সংগীত আর থিয়েটার। থিয়েটার দখল করলে আরেকটু লাভ, খ্রিস্টান ধর্মকে ছোট করে দেখানো যায়। তারা তখন ছোট ছোট সব থিয়েটারগুলো কেনা শুরু করল। থিয়েটারে যৌনতা আনলো, কারণ সেটা বেশি বিক্রি হয়। বাজারের চেয়ে ১০ গুণ বেশি টাকা খরচ করে প্রডাকশন শুরু করল। চোখ ধাঁধিয়ে দেবার জিনিসপত্র ব্যবহার করল, পরিচালক, নায়ক, নায়িকা সব কিনলো। দর্শকতো পুরো টাস্কি। আরে আগে যেই টাকায় অভিনয় সমৃদ্ধ নাটক দেখতাম, এখন সেই টাকায় মঞ্চে কতকিছু হচ্ছে; আকাশ পরিবর্তন হচ্ছে, পরী নামছে (পরী মণি না), মানুষ উড়ে যাচ্ছে, সামুদ্রিক জলোচ্ছ্বাস, ঝড় কত কী? মানুষ হুমড়ি খেয়ে পড়তে শুরু করল। যেহেতু বেশি ইনভেস্ট, তা তোলার জন্য নিরীক্ষাধর্মী কাজ বন্ধ হয়ে গেল। সব সেফ জোনে খেলা হতে শুরু করল, প্রেম-যৌনতার জোয়ার বইতে শুরু হলো। পরিচালক হলো কারিগর আর অভিনেতারা হলো প্রজেক্টের ইমপ্লিমেন্টেশন টুল। মাঝে মাঝে খ্রিস্টধর্মকে ছোট করার এলিমেন্ট ঢুকিয়ে দেয়া। সবার স্যালারি অনেক বেশি, আগে যদি পেত মাসে ২০ হাজার, এখন পাচ্ছে মাসে ২ লাখ। স্টুডিওর বাইরে আর কে যাবে!'
তিনি বলেন, ‘দর্শক যদি মগবাজারে ক্যাফে ডি তাজের খরচে ফাইভ-স্টার হোটেল সোনারগায়ে লাঞ্চ করতে পারে, তাহলে মগবাজার যাবে?’ পাগলে কামড়াইছেনি?’

শেষে দীপংকর দীপন কথা বলেন শাহরুখের ‘পাঠান’, ‘জওয়ান’ ও ‘ডানকি’ নিয়ে। তাঁর ভাষ্য, ‘এসব কারণে পাঠান-জওয়ানের মতো ওয়ান টাইম ওয়াচ মুভি দিয়ে শাহরুখ খানের কামব্যাক আমার কাছে ভালো লাগেনি। শাহরুখ আমার কাছে টম ক্রুজ না টম হ্যাঙ্কস। শাহরুখের বেশির ভাগ সিনেমা আমি অনেকবার দেখি। আমি চেয়েছি শাহরুখ ফিরে আসুক ডানকি দিয়ে, আজ মুক্তি পাচ্ছে ডানকি। অবশ্য যে সময়ে অ্যানিমেল ব্লকবাস্টার হয়, সেই অস্থির সময়ে ডানকি নিয়েও ভয় হয়। আবার অন্যদিকে ‘সালার’। প্রশান্ত নীলের (কেজিএফ) এই ফ্র্যাঞ্চাইজিটা আমার বেশ ভালো লাগে। একটা অন্য ওয়ার্ল্ড তৈরি করে, শোষিতের জয় দেখায়। এই টিমের সালার-এর সাথেও ক্ল্যাশ। সব মিলিয়ে ডানকি নিয়েও ভয় আছে। ডানকি হেরে গেলে আমার সিনেমা বিশ্বাস হেরে যাবে। আমার আইডল শাহরুখ হেরে যাবে, তাঁকে আবার সাউথের নির্মাতাদের ওপর ভরসা করতে হবে। চোখ ধাঁধানো ওয়ান টাইম ওয়াচ মুভি বানিয়ে ১০০০ কোটি টাকা কামাতে হবে। সেটা চাই না। শাহরুখের কাছে বারবার দেখতে পাবার মতো আরও কমপক্ষে ১০টা মুভি চাই। সেই কারণেই ডানকির হিট হওয়াটা জরুরি।’
প্রসঙ্গত, আজ বৃহস্পতিবার বিশ্বের বিভিন্ন দেশে মুক্তি পেয়েছে বলিউড সুপারস্টার শাহরুখ খান অভিনীত সিনেমা ‘ডানকি’। পরিচালনা করেছেন রাজকুমার হিরানি। অন্যদিকে, আগামীকাল মুক্তি পেতে যাচ্ছে দক্ষিণী সুপারস্টার প্রভাসের ‘সালার’। পরিচালক প্রশান্ত নীল।


সিয়াম-মিমের ‘অন্তর্জাল’ একদম ফ্রি!
