ওয়ানডে বিশ্বকাপের সময় থেকেই বাংলাদেশ দলের ড্রেসিংরুমে নিজের ভূমিকা নিয়ে অসন্তোষ জানিয়ে এসেছেন খালেদ মাহমুদ সুজন। দলের কৌশলে তেমন ভূমিকাই রাখার সুযোগ না পেলে তাঁর সেখানে লাভ কী – এ নিয়ে বোর্ডের কাছে প্রশ্নও রেখেছিলেন বিভিন্ন ভূমিকায় বাংলাদেশ জাতীয় দলের সঙ্গে কাজ করে যাওয়া সুজন।
তবে আরেকটি বিশ্বকাপ – এবার টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ যখন সামনে, আবার প্রসঙ্গটা কেন যেন সামনে নিয়ে এলেন সুজন!
গত বিশ্বকাপে তাঁকে সম্মান দেওয়া হয়নি জানিয়ে বললেন, তিনি আর বাংলাদেশ দলের সঙ্গে কাজ করতে চান না। মিরপুরে আজ সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপে বিসিবি সভাপতি ও বর্তমান ক্রীড়ামন্ত্রী নাজমুল হাসান পাপনের কাছে বিশেষ অনুরোধও করেছেন এ নিয়ে। এর পাশাপাশি বাংলাদেশ দলের কোচ চন্ডিকা হাথুরুসিংহেকে নিয়ে এমন এক মন্তব্য করেছেন, যা বিশ্বকাপের পর থেকে চলতে থাকা হাথুরু-সুজনের বিভেদের গুঞ্জনকে আরও জোর আওয়াজ দেবে।
জীবনে অনেক বিদেশে ঘুরেছেন জানিয়ে সুজন বললেন, জাতীয় দলের সঙ্গে থেকে শুধু বিদেশ ঘোরার ইচ্ছে তাঁর নেই। গত বিশ্বকাপে কাজ করতে না পারার আক্ষেপই তাঁর জাতীয় দলে কাজ করতে না চাওয়ার কারণ জানিয়ে সুজন বলেছেন, ‘একটা জয়গায় যখন কাজ করেছি, সেই জায়গাটা যখন না পাই কাজ করতে, এতগুলো ট্যুর করার পর আমার কাজটা পরিবর্তন হয়ে যায়, তাহলে আমাকে ওই দায়িত্বে রাখার কোন মানে হয় না আসলে। আমি সেই কাজ না করতে পারি তাহলে কেন করব! আমি তো ট্যুর করতে যাই না বাংলাদেশ দলের সঙ্গে। আমি ট্যুর পার্টি হতে চাই না। আমি বিদেশ অনেক ঘুরেছি, বিদেশ ঘুরার কোন ইচ্ছাই নাই আমার।’
এরপরই এল হাথুরুসিংহেকে নিয়ে তাঁর বিদ্বেষপূর্ণ মন্তব্য, ‘হাথুরুসিংহে বিশ্বের সেরা কোচ হতে পারে, সেটা আমার কাছে কোন মূল্য রাখে না। আমার বাংলাদেশে অনেক সম্মান আছে, ক্রিকেটাররা আমাকে অনেক সম্মান করে। আমি সেই সম্মানের জায়গাটা হারাতে চাই না।’
বিসিবির বিদেশি কোচদের নিয়ে সুজনের ক্ষোভ আরও স্পষ্ট হলো যখন তিনি বিশেষ অনুরোধ করেছেন বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসানের কাছে। তাঁকে আর জাতীয় দলের সঙ্গে না রাখার অনুরোধ জানিয়ে বিসিবি সভাপতির উদ্দেশে সুজনের কথা, ‘এত বড় বড় কোচরা আসছে যারা অনেক বেশি বেতন পায়।, তাদের মধ্যে আমার না যাওয়াটাই ভালো। আমি এখন আর ২৮-২৯ বছরের বালক না, আমার সম্মানটা এখন আমাকে রাখতে হবে। পাপন ভাইকে আগের মতোই সম্মান করি। কিন্তু আমি বিনয়ের সঙ্গে অনুরোধ করি পাপন ভাইকে যেন উনি আমাকে আর এ বিষয়ে কোন কাজ করতে না বলেন।’



