ডায়েট বলতে বোঝায় খাবারের ব্যালান্সড চার্ট। অর্থাৎ বিশেষজ্ঞের পরামর্শে তালিকা অনুযায়ী খাবার খাওয়া। এককথায় ডায়েট অনুসরণ করা বলতে পরিমাণমতো সুষম খাবার খাওয়াকে বোঝায়। তবে গত কয়েক বছরে বেশ কিছু ডায়েট আলোচিত হয়েছে, যেখানে খাদ্যতালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয় অনেককিছু। এর মধ্যে অন্যতম কিটো ডায়েট ও ডিউকান ডায়েট।
পশ্চিমা দেশগুলোতে তারকাদের রাতারাতি ওজন কমানোর জন্য ডিউকান ডায়েট বেশ সাড়া ফেলে। বিশেষ করে ব্রিটিশ রাজবধূ কেট মিডলটন ও সঙ্গীত তারকা জেনিফার লোপেজ এই ডায়েট ফলো করে ওজন কমানোর পর অনেকেই এই ধরনের ডায়েটের দিকে ঝুকছেন।
ডিউকান ডায়েট কী?
ডিউকান ডায়েটের অন্যতম শর্ত কার্বোহাইড্রেট বা শর্করা একদম খাওয়া যাবে না। কোনো মিষ্টিজাতীয় খাবার চেখে দেখা যাবে না। যাকে বলে পুরোপুরি প্রোটিন ডায়েট। সারাদিনের খাদ্য তালিকায় মূলত প্রোটিন বা আমিষ থাকবে। মাছ, মাংস, ডিম, দুধ নির্ভর এই ডায়েট। আর সঙ্গে থাকবে অল্প শাক-সব্জি। তা ছাড়া দিনে ২০ মিনিট অন্তত হাঁটতে বা ব্যায়াম করতে হবে।
ফরাসি ডায়েটিশিয়ান পিয়েরে ডিউকান এই ডায়েট তৈরি করেছিলেন ২০০০ সালে। তাঁর নাম অনুযায়ী এই ডায়েট চার্টের নাম দেওয়া হয় ডিউকান ডায়েট।
কীভাবে কাজ করে এই ডায়েট?
অ্যাটাক ফেজ: প্রথম ১ থেকে ১০ দিন শুধু লিন প্রোটিন অর্থাৎ মাছ ও মাংস খেতে হবে। এর সঙ্গে দেড় চামচ মতো ওটস খাওয়া যাবে।
ক্রুজ ফেজ: এটি কয়েক মাস ধরে চলতে পারে। স্টার্চ কম আছে এমন শাক-সব্জি খেতে হবে। আর সঙ্গে আধা চা চামচ ওটস খেতে পারবেন। প্রতি পাউন্ড ওজন কমাতে পাঁচ দিন করে এই নিয়ম অনুসরণ করতে হবে।
কনসোলিডেশন ফেজ: আগের দুটি ধাপ ঠিকমতো মানলে এই পর্যায়ে এসে ওজন অনেকটাই কমে যাবে। তখন নিয়মিত শাক-সব্জি ও ফল খেতে পারবেন। এ ছাড়া সপ্তাহে দুইদিন পছন্দমতো খাবার খাওয়া যাবে।
স্টেবিলাইজেশন ফেজ: ওজন কমে যাওয়ার পরে স্বাভাবিক ডায়েটে ফিরতে পারবেন। তবে সপ্তাহের যেকোনো একদিন শুধুই প্রোটিন খেতে হবে। আর ফ্যাট জাতীয় খাবার খাওয়া চলবে না। দিনে ৩ চামচ ওটস, সবুজ শাক-সব্জি ও ফল খাওয়ার পরামর্শ ডায়েটিশিয়ানের।
ডিউকান ডায়েটে কি ওজন কমে?
ডায়েটিশিয়ান পিয়েরে ডিউকানের দাবি, চারটি ফেজ বা পর্যায় ঠিকভাবে অনুসরণ করলে কম সময়ে বেশি ওজন কমানো সম্ভব। তবে ওজন কমার পর ডায়েট অনুসরণ পুরোপুরি ছেড়ে দেওয়া যাবে না। স্বাস্থকর জীবনযাপন করতে হবে। সেইসঙ্গে নিয়মিত ব্যায়াম করতে হবে।
ডিউকান ডায়েটে কি স্বাস্থ্যঝুঁকি আছে?
এই ধরনের ডায়েট নিয়ে অনেক মতভেদ আছে। কিছু বিশেষজ্ঞ মনে করেন, ডিউকান ডায়েটে অনেকের শরীরে প্রয়োজনীয় পুষ্টির ঘাটতি দেখা দিতে পারে। গর্ভবস্থায় এবং যেসব মায়েরা সন্তানকে বুকের দুধ খাওয়ান তাদের এই ধরনের ডায়েট না করার পরামর্শ বিশেষজ্ঞদের। এ ছাড়া কিডনি রোগ ও হৃদরোগের মতো শারীরিক জটিলতা যাদের আছে তাদেরও এই ডায়েট অনুসরণ করা উচিত নয় বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।
তথ্যসূত্র: ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস, হেলথলাইন



