বৈবাহিক সম্পর্ক নষ্টের নেপথ্যে ১০ কারণ

আপডেট : ১৫ আগস্ট ২০২৪, ০৯:৫২ এএম

এমন অনেক রোগ আছে যা শরীরে বাসা বেঁধে একসময় মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিলেও আমরা সহজে তা টের পাই না। অনেক দেরি হয়ে গেলেই সেগুলো আবিষ্কৃত হয়। এসব সাইলেন্ট কিলার বা নীরব ঘাতক হিসেবে পরিচিত। দাম্পত্য সম্পর্কেও এমন কিছু ফ্যাক্টর বা ব্যাপার থেকে যায়, যা চট করে মানুষের চোখে পড়ে না। কিন্তু দিনের পর দিন এই ছোট ছোট ব্যাপারগুলোই সম্পর্কটাকে ভারি করে তোলে; মানুষ সে সম্পর্ক থেকে তখন মুক্ত হতে চায়।

আজ জানা যাক বৈবাহিক সম্পর্ক নষ্টের পেছনে ভূমিকা রাখা এমনই দশটি নীরব ঘাতকের ব্যাপারে-

যোগাযোগহীনতা
যেকোনো সম্পর্কে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হলো যোগাযোগ। দাম্পত্য সম্পর্কে স্বামী-স্ত্রী যখন কথা বলা বন্ধ করে দেয় বা নিজেদের ভাবনা প্রকাশে অক্ষম হয়ে পড়েন, তখনই ভুল বোঝাবুঝি ডালপালা মেলতে শুরু করে। সম্পর্কের গাঁথুনি মজবুত করতে দরকার নিয়মিত আর খোলামেলা কথোপকথনের সুযোগ।

আবেগীয় বিচ্ছিন্নতা
ব্যস্ততা, কাজের চাপ, আর পরিবারের অন্যান্য সম্পর্ককে অগ্রাধিকার দিতে গিয়ে স্বামী-স্ত্রীর নিজেদের মধ্যকার আবেগ আর রোমান্স কখন যে কমে আসে টেরও পাওয়া যায় না! নিজেদের মধ্যকার মানসিক নৈকট্য বাড়িয়ে এবং একে অপরের জন্য সময় বের করলে এই দূরত্ব কাটানো সম্ভব।

শারীরিক ঘনিষ্ঠতাকে অবহেলা
একটা সুস্থ দাম্পত্য সম্পর্কের অন্যতম উপাদান শারীরিক ঘনিষ্ঠতা। একটা সময় পার হওয়ার পর স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে শরীরী দূরত্ব বাড়তে থাকে। সেখান থেকে অনেকের মধ্যে জন্ম নিতে পারে অসন্তোষ আর প্রত্যাখ্যানের অনুভূতি। যেকোনো বিষয়ে স্বামী-স্ত্রী খোলাখুলিভাবে আলোচনা করুন, নিজেদের মধ্যে কথা বলুন, প্রয়োজনে বিশেষজ্ঞের শরণাপন্ন হন। 

অমীমাংসিত দ্বন্দ্ব
বিয়ের পর ঝগড়া হয় নি, এমন কোনো দম্পতি বোধহয় খুঁজে পাওয়া যাবে না। তাই বলে, ঝগড়ার পর মীমাংসা না করা কখনো কাজের নয়। নইলে দিনের পর দিন অভিমান জমতে জমতে একসময় পাহাড়ে রূপ নিয়ে চূড়ান্ত বিচ্ছেদের পথেও নিয়ে যেতে পারে।

আর্থিক চাপ
টাকা না থাকলে ভালোবাসা নাকি জানালা দিয়ে পালায়! ঋণ হোক, কিংবা অতিরিক্ত খরচের অভ্যাস-সংসারে টাকাপয়সার জটিলতা সব সময়ই থাকে। স্বামী-স্ত্রী একসঙ্গে বসে, একত্রে সিদ্ধান্ত নিলে এ জটিলতা থেকে উত্তরণ সম্ভব।

প্রশংসার অভাব
খেয়াল করলে দেখবেন, একটা শিশুও যেকোনো ভালো কাজের পর একটু প্রশংসার আশায় বারবার আপনার পানে তাকিয়ে থাকে। আর আপনার সঙ্গীটি তো প্রাপ্তবয়স্ক! তিনি সব সময়ই তাঁর সম্পর্কে আপনার মুখ থেকে প্রশংসা শুনতে চান। দিনের পর দিন আপনার অবহেলা, সামান্যতম এপ্রেসিয়েশন বা প্রশংসাও না করা তাঁর ক্ষোভের কারণ হতে পারে।

আকাশকুসুম প্রত্যাশা
দাম্পত্যে একে অপরের প্রতি অবাস্তব প্রত্যাশা রাখা হতাশার কারণ হতে পারে। একসাথে থাকতে চাইলে অপর মানুষটির শক্তিগুলো যেমন চিনতে হবে, তেমনি দুর্বলতাও মেনে নিতে হবে।

ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্য
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অনেক দম্পতিকেই ‘গ্রোয়িং টুগেদার’ ক্যাপশনে ছবি দিতে দেখা যায়। অর্থাৎ জীবনের এই বন্ধুর পথে তারা একসাথে ছুটে চলেছেন। অবশ্যই ব্যক্তি হিসেবে দুটো মানুষের স্বতন্ত্র ইচ্ছা, আগ্রহ এবং অগ্রাধিকার থাকবে। তবু সংসারের স্বার্থে অনেক ক্ষেত্রে তাদের একান্ত ইচ্ছা বাদ দিয়ে সমঝোতা করতেই হবে। 

তৃতীয় পক্ষ
বেশির ভাগ ক্ষেত্রে সম্পর্ক ভেঙ্গে যাওয়ার জন্য তৃতীয় কারো অনুপ্রবেশকে দায়ী করা হয়। কাছের বন্ধু, পরিবারের সদস্য বা বহিরাগতদের দাম্পত্য সম্পর্কে হস্তক্ষেপের অনুমতি দিলে দ্বন্দ্ব এবং ভুল বোঝাবুঝির জায়গা তৈরি হয়। তাই নিজেদের ব্যক্তিগত সম্পর্কে কোনো তৃতীয় ব্যক্তির আনাগোনা না হওয়াটাই সবচেয়ে ভালো।

মানসিক স্বাস্থ্যকে গুরুত্ব না দেওয়া
ব্যক্তিজীবনে মানসিক দুশ্চিন্তায় জর্জরিত একজন মানুষ কখনোই বৈবাহিক জীবনেও সুখী হতে পারে না। কারণ এর প্রভাব তাঁর সঙ্গীর জীবনেও পড়ে। দাম্পত্য সম্পর্কে তাই একে অপরের মানসিক সুস্থতার দিকেও নজর দিন।

তথ্যসূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া

আরও পড়ুন:

ঘরের বাইরে বেরোলেই রোদ আর প্রচন্ড গরম। গ্রীষ্ম এলেই বদলে যায় আমাদের জীবনযাপন। তীব্র রোদ, আর্দ্রতা আর ঘাম। সব মিলিয়ে শরীর যেমন ক্লান্ত হয়ে পড়ে। তাই এই সময়টাতে পোশাক নির্বাচনের ক্ষেত্রেও প্রয়োজন...
গরম পড়তে না পড়তেই যেন ত্বকের উপর বাড়তি চাপ শুরু হয়। রোদের তীব্রতা, ঘাম, ধুলো সব মিলিয়ে ত্বক হয়ে ওঠে ক্লান্ত। বাইরে একটু বেরোলেই মুখ লালচে হয়ে যায়। জ্বালা করে আবার কখনো কখনো চুলকানিও শুরু হয়। এটা...
আজকের ব্যস্ত জীবনে সময় বাঁচানো যেন এক ধরনের দক্ষতা। অফিস, পড়াশোনা, পরিবার সব সামলে অনেকেই এখন দৈনন্দিন কাজগুলো দ্রুত সারতে চান। এই তাড়নায় জামাকাপড়ের পাশাপাশি জুতাও অনেকে তুলে দিচ্ছেন ওয়াশিং মেশিনে।...
ব্যস্ত জীবনে একটু স্বস্তির মুহূর্ত যেন সোনার হরিণ। সারাদিনের কাজের শেষে এক কাপ গরম চা অনেকটাই ক্লান্তি দূর করে দেয়। তবে সেই চা যদি হয় নিজের হাতে লাগানো গাছের পাতা থেকে তৈরি। তাহলে তার স্বাদ যেমন...
মাগুরার মহম্মদপুর উপজেলার মৌশা গ্রামে পুকুরের পানিতে ডুবে আপন চাচাতো দুই বোনের মৃত্যু হয়েছে। আজ মঙ্গলবার সকাল ৯টার দিকে এই ঘটনা ঘটে।
গাড়ি চালানোর জ্বালানি হিসেবে ব্যবহৃত কমপ্রেসড ন্যাচারাল গ্যাস (সিএনজি) বা প্রাকৃতিক গ্যাসের দাম বাড়ানোর দাবি জানিয়েছে সিএনজি ফিলিং স্টেশন অ্যান্ড কনভার্সন ওয়ার্কশপ ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন।
ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের আচরণবিধিমালা চূড়ান্ত করতে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিনের সভাপতিত্বে কমিশন সভা চলছে। 
রাজধানীর ভাটারা থানার নতুন বাজার ১০০ ফিট এলাকার একটি বাসায় গ্যাস লাইন লিকেজ থেকে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। এতে শিশুসহ একই পরিবারের তিনজন দগ্ধ হয়েছেন। তাদের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছেন চিকিৎসক।
লোডিং...

এলাকার খবর