উপমহাদেশের অন্যতম মহাতারকা শবনম। যিনি পাকিস্তান ও বাংলাদেশে সমানতালে জনপ্রিয়। ১৯৪৬ সালের ১৭ আগস্ট ব্রিটিশ-ভারতের ঢাকায় জন্মেছিলেন বাংলা সিনেমার এই হার্টথ্রোব।
পরবর্তী সময়ে পাকিস্তানি সিনেমার পোস্টার গার্ল হয়ে ওঠেন তিনি। ক্রীড়া জগতে বিখ্যাত ননী বসাকের দ্বিতীয় কন্যা জন্মেছিলেন ঝর্না বসাক নাম নিয়ে। প্রখ্যাত নির্মাতা এহতেশামের মাধ্যমে চলচ্চিত্রে আসেন। পরবর্তী সময়ে পরিচিতি পান ‘শবনম’ নামে। ১৯৫৮ সালে বাংলা ভাষায় শুরু ক্যারিয়ার বাংলা ভাষাতেই শেষ করেন ১৯৯৯ সালে ‘আম্মাজান’ দিয়ে।
কাজী হায়াৎ পরিচালিত ওই ছবিতে একজন মায়ের চরিত্রে শবনমের অভিনয় ছিলে এক কথায় অনবদ্য। সেখানে উপস্থিতি অভিনয় যেমন দর্শককে কাঁদিয়েছিল, তেমনই ছবিটিও হয়েছিল ব্যবসাসফল।
আক্ষেপের বিষয়, এত জনপ্রিয়তা পেলেও এ কিংবদন্তিকে আর কোনো বাংলা সিনেমায় পাওয়া যায়নি। কেন? অনেকেই মনে করেন কোনো এক অভিমানে নিজেকে সরিয়ে নিয়েছেন তিনি। আসলেই কি তাই?
বছর দুয়েক আগে বছর বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির ইফতার পার্টিতে হাজির হয়ে তিনি জানিয়েছিলেন সেই অজানা কথা।
শবনমের ভাষায়, ‘‘আম্মাজান’ করার পর ভালো কোনো চরিত্র পায়নি। তাই ক্যামেরার সামনেও দাঁড়াইনি। ইচ্ছা থাকলেও মনের মতো চিত্রনাট্য না পাওয়াতে আর কাজ করা হয়নি।’’
সে সময় এই তারকা জানান, সঙ্গে যুক্ত হয়েছিল শারীরিক অসুস্থতাও। তাই আর কাজ করা হয়নি।
ছয় দশকের বর্ণাঢ্য চলচ্চিত্র জীবনে শবনম পাকিস্তানে সর্বোচ্চ তিনবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার এবং ১৩বার সর্বোচ্চ নিগার জয় করে অনন্য রেকর্ড গড়েছেন। দেশটির সিনেমায় তাঁর অবদান এতটাই যে, সেখানে ‘মহানায়িকা’ বলা হয় তাকে।
শবনম শৈশবেই বুলবুল ললিতকলা একাডেমিতে নাচ শেখেন। একজন নৃত্যশিল্পী হিসেবে তিনি সুপরিচিত হয়ে ওঠেন। সেখানেই একটি নৃত্যের অনুষ্ঠানে নির্মাতা এহতেশাম তার নাচ দেখে ‘এদেশ তোমার আমার’চলচ্চিত্রের নৃত্যে অভিনয়ের সুযোগ করে দেন।
এহতেশামের আরও কিছু সিনেমায় অতিরিক্ত শিল্পী হিসেবে অভিনয় করেন শবনম। তাঁর পাশাপাশি পরিচালক মুস্তাফিজের নজর কাড়তে সক্ষম হন অতিরিক্ত শিল্পী হিসেবে অভিনয় করে।
মুস্তাফিজ পরিচালিত ‘হারানো দিন’চলচ্চিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমে ১৯৬১ সালে নায়িকা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন শবনম। এ সিনেমাতেই তিনি শবনম নাম ধারণ করেন।


মরণোত্তর দেহদান ঋতুপর্ণার
