শিশুদের নিয়ে অভিভাবকদের চিন্তার কোনো শেষ নেই। ঘরের ছোট সদস্য কখন ঘুমাতে যাবে, সকালে ঘুম থেকে কখন উঠবে, আবার স্কুলে যাওয়ার আগে নাস্তায় কী খাবে কিংবা স্কুলে টিফিনে কী নিয়ে যাবে—এসব নিয়ে ভাবনা হাজারো। এসব ব্যাপারে স্কুলপড়ুয়া সন্তানের মায়েদের অনেক ধরনের চিন্তায় পড়তে হয়।
পুষ্টিবিদ ফাতেমা তুজ জোহরা বলেন, ‘শিশুদের ক্ষেত্রে দিনের শুরুটা সব সময় স্বাস্থ্যকর ও সুষম খাবার দিয়ে শুরু করা জরুরি। দিনের শুরুতে খাবারে অনিয়ম হলে শিশুর পুষ্টির ঘাটতি দেখা দিতে পারে। এতে শিশুর স্বাভাবিক বৃদ্ধি ও বিকাশ ব্যাহত হতে পারে। তাছাড়া যে সকল শিশু সকালের নাস্তা না করে বা পুষ্টিকর খাবার না খেয়ে স্কুলে যায়, তাদের মধ্যে ক্লান্তিভাব বেশি দেখা যায়। তাই তারা পড়ালেখাতেও মনোযোগ দিতে পারে না।’
শিশুর শারীরিক ও মানসিক বিকাশ একটি চলমান ক্রমবর্ধমান প্রক্রিয়া। তাই জেনে নিন, শিশুদের স্বাস্থ্যঝুঁকি কমাতে করণীয় কী হতে পারে।
১. স্কুলের টিফিন হিসেবে শিশুকে ঘরে তৈরি খাবার দিন। এক্ষেত্রে টিফিনের খাবার যেন সুষম খাবার হয়, সেদিকে খেয়াল রাখুন।
২. শিশুদের ভুলেও স্কুলের বাইরের অস্বাস্থ্যকর খাবার খেতে দেওয়া যাবে না। এতে আপনার শিশু বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হবে। এসব খাবার থেকে হতে পারে ডায়রিয়া, বমি, পেটব্যথাসহ আরও অনেক অসুখ।
৩. একই ধরনের খাবার প্রতিদিন দিলে শিশুদের খাবারের প্রতি অনীহা আসতে পারে। তাই টিফিনে ভিন্ন ভিন্ন খাবার দেওয়ার চেষ্টা করুন।
৪. স্কুলের টিফিনে একদিন সবজি খিচুড়ি, ডিম, চিকেন দিতে পারেন। আবার আরেকদিন চিড়ার সঙ্গে দুধ বা দই ও ফল, কর্নফ্লেক্স দুধও দিতে পারেন। আরেকদিন দিতে পারেন নুডলসের সঙ্গে ডিম বা চিকেন ও সবজি, ডিম টোস্ট ও ফল, ডিম পরোটা বা সবজি।
৫. শিশুদের পাকস্থলী বড়দের তুলনায় অনেক ছোট। তাই টিফিনে আপনার শিশুর চাহিদা মতো খাবার দিন। বেশি খাবার দিলে সেসব খাবার অপচয়ের সম্ভাবনা থাকে।
ন্যাশনাল হেলথকেয়ার নেটওয়ার্কের পুষ্টিবিদ ফাতেমা তুজ জোহরা মনে করেন, শিশু কী পরিমাণ খাবার খাবে, তা নির্ভর করে তার বয়স, ওজন, উচ্চতা, শারীরিক পরিশ্রমের মাত্রাসহ বিভিন্ন বিষয়ের ওপর। তাই যে কোনো খাবার ও খাবারের উপাদান সম্পর্কে সঠিকভাবে জেনে শিশুর খাদ্য তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।


শিশু পড়ে গিয়ে মাথায় আঘাত পেলে যা করবেন
শিশুর কানপাকা রোগ হলে কী করবেন?
