সময়টা এখন তথ্য প্রযুক্তির। প্রযুক্তির কল্যাণে বর্তমানে একের অধিক মানুষের সঙ্গে যোগাযোগের মাধ্যম মেসেঞ্জার বা হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ। নির্দিষ্ট কিছু বিষয়ে একাধিক বন্ধু, পরিবারের সদস্য, অফিসের সহকর্মী বা পরিচিতদের সঙ্গে বার্তা আদান-প্রদানের জন্য তৈরি এই মেসেঞ্জার বা হোয়াটসঅ্যাপে গ্রুপ চ্যাট। এ গ্রুপ চ্যাটের সুবিধা হলো, এর মাধ্যমে একাধিক ব্যক্তির সঙ্গে একই সময়ে বার্তা আদান-প্রদান করা সম্ভব হয়ে থাকে।
কিন্তু অনেক সময় বন্ধু বা পরিচিত ব্যক্তিরা আমাদের না জানিয়েই তাঁদের তৈরি করা গ্রুপ চ্যাটে আমাদের যুক্ত করেন। একের পর এক অপ্রয়োজনীয় বার্তা তখন অনেকের কাছেই বিরক্তির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। আবার কিছু চ্যাট গ্রুপ জুড়ে থাকে শুধুই অন্যের প্রতি অভিযোগ, অশালীন মন্তব্য আর সমালোচনা। এই ধরনের ‘টক্সিক’ গ্রুপ থেকে বের হয়ে যাওয়াটাই তখন অনেকের কাছে ভালো বিকল্প বলে মনে হয়।
তবে বলা-কওয়া ছাড়া হুটহাট কোনো গ্রুপ থেকে বের হয়ে যাওয়া কিছুটা হলেও অসৌজন্যতার পরিচয় দেয়। গ্রুপের অন্যরাও এতে অপমান বোধ করতে পারেন। আপনি চাইলে কোনো ব্যাখ্যা না দিয়েই গ্রুপ চ্যাট থেকে বেরিয়ে আসতে পারেন। তবে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের বাইরে গ্রুপের মানুষগুলোর সঙ্গে যখন বাস্তবে আপনার সাক্ষাৎ হবে, তখন বিব্রতকর পরিস্থিতির আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যায় না। তাই লিভ নিলেও তাতে যেন পূর্ণ সৌজন্যতা এবং আন্তরিকতা বজায় থাকে সে বিষয়ে সচেষ্ট থাকুন।
ব্যস্ততার দোহাই
যথাযথ যোগাযোগ রক্ষা করতে না পারার অন্যতম কারণ দৈনন্দিন ব্যস্ততা। কিছু মানুষের ক্ষেত্রে তো রোজকার ব্যস্ততা এমন পর্যায়ে গেছে যে, বন্ধুর পাঠানো রিলসও তাদের দেখার সময় হয়ে ওঠে না। গ্রুপ চ্যাট থেকে বের হওয়ার কারণ হিসেবে তাই ব্যস্ততার দোহাই দেখাতে পারেন। এতে অন্যরা দুঃখ পাবে না, আপনার ভাবমূর্তিও বজায় থাকবে।
পড়াশোনায় মনোযোগ
পড়ায় মনোযোগ দিতে মেসেঞ্জার গ্রুপ থেকে লিভ। সাময়িকভাবে বন্ধুরা এ নিয়ে মজা করলেও অন্তত তাঁদের কেউ এতে কষ্ট বা অপমানিত বোধ করবে না। সামনে বড় কোনো পরীক্ষা বা কোর্স আছে, কোনো একটা অধ্যায়ের পড়া কিছুতেই মাথায় ঢুকছে না, এসাইনমেন্টের কাজ শুরু করতে হবে এমন নানান কারণ দেখিয়ে আপনি গ্রুপ চ্যাট থেকে লিভ নিতে পারেন।
অবসাদ থেকে পরিত্রাণ
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম অনেক সময় মানসিক অবসাদের কারণ হয়ে ওঠে আমাদের। কেউ স্ট্যাটাস দেওয়া মাত্র চ্যাটগ্রুপে চলে আসে অন্যদের সাফল্য, উন্নতি, চাকরির পদোন্নতি ইত্যাদির খবর। নিজের সঙ্গে তুলনা করে অনেকেই এতে মানসিক অবসাদে ভোগেন। এই যুক্তি দেখিয়েও চ্যাটগ্রুপ থেকে লিভ নেওয়া সম্ভব।


ছদ্মবেশী বন্ধুদের চিনবেন যেভাবে
অন্যকে নয়, আগে নিজেকে ভালোবাসতে শিখুন
