ইট-কাঠের এই শহরে নিজের ঘরটাকে মানুষ পরম যত্নে সাজিয়ে রাখতে চায়। ঘর সাজানোর অন্যতম প্রধান শর্ত সঠিক রঙ নির্বাচন। রুচিশীল রঙের ছোঁয়া পুরো ঘরের আবহ বদলে দিতে পারে। আবার ভুল রঙের ব্যবহারে নিজের ঘরেই লাগতে পারে অস্বস্তি!
পুরো বাড়িতে এক রঙের পরিবর্তে চলতি ধারা অনুযায়ী এখন একেক ঘরে একেক রঙ ব্যবহার করা হচ্ছে। আবার অনেক সময় একাধিক রঙের সমন্বয়ে দেয়ালে ফুটে ওঠে নান্দনিক নকশা।
ইচ্ছেমত শুধু রঙ নির্বাচন করলেই হবে না, এর জন্য কিছু বিষয় বিবেচনায় রাখা উচিত।
ভালোমানের রঙ নির্বাচন
দেয়ালের রঙের ক্ষেত্রে অনেকেই অতিরিক্ত ব্যয়ের পক্ষপাতী থাকেন না। অপরিচিত ব্র্যান্ডের সস্তা রঙেই নিজেদের অন্দর সাজিয়ে তুলতে চান এরা। এতে আপাতদৃষ্টিতে কিছু টাকা সাশ্রয় হলেও দীর্ঘমেয়াদে আরও বেশি খরচের পথ তৈরি হয়। কারণ, নিম্নমানের রঙ ব্যবহার করলে দেয়ালের ওপর সঠিকভাবে রঙ ফুটিয়ে তুলতে অন্তত ২-৩টি প্রলেপ দেওয়া লাগতে পারে।
অন্যদিকে, উচ্চ মানসম্পন্ন রঙে পিগমেন্টের মান ও পরিমাণ বেশি থাকে, ফলে দেয়ালে রঙের কম প্রলেপ দিলেই চলে। এতে তুলনামূলকভাবে খরচও অনেকটাই কমে আসে।

আবহাওয়া ও আর্দ্রতা
মাস দুয়েক পরই শীতকাল। এ সময় বৃষ্টি কম হয়, ফলে বাতাসের আর্দ্রতা থাকে কম। দেয়াল রঙ করার জন্য তাই এ সময়টি আদর্শ। যারা দেয়াল রঙ করবেন বলে ভাবছেন, তারা নভেম্বর থেকে জুন মাস পর্যন্ত সময়কাল বেছে নিতে পারেন। তখন দেয়াল শুষ্ক আর আর্দ্রতামুক্ত থাকে। একই কারণে বর্ষার সময় রঙ করার বিষয়টা এড়িয়ে যাবার পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা।
কুল টোন, ওয়ার্ম টোন
রঙের ক্ষেত্রে কুল টোন আর ওয়ার্ম টোনের ধারণা রাখাটা খুব জরুরি। কুল টোন হলো নীল আন্ডারটোন যেমন নেভি ব্লু, টিল, বেগুনি, ম্যাজেন্টা, ধূসর, ফিরোজা ইত্যাদি। অন্যদিকে, ওয়ার্ম টোন হলো হলুদ আন্ডারটোনের রঙ, যেমন বাদামি, বেইজ, সবুজ, লাল, কমলা, জলপাই ইত্যাদি। যেসব ঘরে প্রাকৃতিক আলো কম থাকে, সেখানে কুল টোনের রঙ ব্যবহার করলে ঘর আরও অন্ধকার দেখাবে। অন্যদিকে, দক্ষিণমুখী ঘরগুলোতে প্রচুর সূর্যালোক পাওয়া যায়। তাই সেখানে কুল কালার বেছে নেওয়া যায়; এতে ঘরের ভেতর সূর্যালোকের তীব্রতার ভারসাম্য বজায় থাকবে।

কালার সাইকোলজি
ঘরের রঙের প্রভাব পড়ে আমাদের মনেও। রঙ বাছাইয়ে তাই কিছুটা সাবধানতা অবলম্বন করতে হবে। উদাহরণ হিসেবে শোবার ঘরের কথা বলা যায়। এই ঘরে এমন রঙ থাকা উচিত যা মনে শান্তি ও স্নিগ্ধ আমেজ আনে। এ ক্ষেত্রে হোয়াইট, অফ হোয়াইট, লাইট ভায়োলেট, লাইট গ্রিন, লেমন ইয়েলো, স্কাই ব্লু, বিস্কিট ইত্যাদি রং ব্যবহার করা যেতে পারে। অন্যদিকে ঘরের জনসমাগমযুক্ত স্থান যেমন রান্নাঘর, বসার ঘর এবং খাবারের জায়গাগুলোর জন্য সানসেট অরেঞ্জ, হলুদ, ম্যাট রেড ইত্যাদি রঙ ভালো মানাবে।


সোফা কেনার আগে যা খেয়াল রাখবেন
নতুন সংসার কীভাবে সাজাবেন?
