বাংলাদেশে ইসলামি দলগুলোর অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যৎ

আপডেট : ১৫ অক্টোবর ২০২৪, ০৭:৩৫ পিএম

স্বাধীনতার অব্যবহিত পরে ইসলামি দলগুলোর বেশির ভাগই হয়ে পড়ে একেবারেই নিষ্ক্রিয়। তাদের মধ্যে কেউ কেউ শুধু মাত্র ঘরোয়া রাজনীতিতে নিজেদের সীমাবদ্ধ রাখে। উপায় ছিল না, সেই সাথে বাংলাদেশে সোভিয়েত বলয়ের সমাজতান্ত্রিক ধ্যান-ধারনার উন্মেষ ও রাজনৈতিক চাপ তাদের আরও নিষ্ক্রিয় করে তোলে। এছাড়া স্বাধীনতা যুদ্ধে তাদের ভূমিকা ও অবস্থান দেশের রাজনীতিতে এক পর্যায়ে তাদের একেবারেই অপাঙ্‌ক্তেয় করে তোলে।
 
প্রথমবারের মতো তাদের কপাল খোলে ১৯৮০-র দশকে। রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বহুদলীয় রাজনীতির দ্বার উন্মুক্ত করেন। ইসলামি দলগুলো ধীরে ধীরে সংগঠিত হতে থাকে। ৯০-র দশকে গণতন্ত্রের আন্দোলন সক্রিয় অংশগ্রহণ তাদের শক্তিকে দৃশ্যমান করে তোলে। ইসলামি এই দলগুলোর নেতৃত্বে ছিল মূলত জামায়াতে ইসলাম বাংলাদেশ। জামায়াতে ইসলামের দলীয় শৃঙ্খলা, দলের ভিতরে গণতন্ত্রের চর্চা এবং আদেশের লালন–তাদের শক্তিশালী অবস্থানে নিয়ে যেতে সাহায্য করে। এই শক্তি তাদের প্রতিদ্বন্দ্বী করে তোলে অন্য রাজনৈতিক দলগুলোর কাছে। বিশেষত করে, বিএনপির সাথে জোট গঠনের মাধ্যমে ২০০১ সালে সরকার গঠন এটাকে আরও স্পষ্ট করে দেয়। বড় রাজনৈতিক দলগুলোর চেষ্টা ছিল কীভাবে ইসলামি দলগুলোকে জোটে অন্তর্ভুক্ত করা যায়।
 
২০০৮-র পর আবার আরেক দফা ইসলামি দলগুলো চাপের মুখে পড়ে। তাদের নিষ্ক্রিয় করার প্রক্রিয়া চূড়ান্ত আকার ধারণ করে যখন শাহবাগে অবরোধ করা হয়। শাহবাগের আন্দোলন তীব্রতর হয়ে ওঠে। শাহবাগের গণ্ডি ছাড়িয়ে সারা দেশে বিস্তার লাভ করে এই আন্দোলন। তারা এক পর্যায়ে এতই শক্তিশালী হয়ে ওঠে যে, দাবি করে বসে যে তারা সরকারের চেয়েও বেশি শক্তিশালী। সরকারি দল এতে বেশ বিব্রতকর অবস্থায় পড়ে এবং মনঃক্ষুণ্ন হয়। কিন্তু আন্দোলনকারীরা অপ্রতিরোধ্য গতিতে এগিয়ে চলে। কারণ তারা সরকারের সাহায্য, সহযোগিতা আর ভালোবাসার প্রতি ছিল নিরঙ্কুশ আস্থাশীল। সুতরাং তারা তাদের যেকোনো অন্যায় আবদারের প্রতি সরকারের সদয় সহানুভূতি ও ভালোবাসা অক্ষুণ্ন থাকবে–এটা নিশ্চিত ছিল ।

কিন্তু বিধি বাম। শাহবাগের এই আন্দোলনের পাল্টা উঠে আসে হেফাজতে ইসলাম। ২০১৩সালের ৫ মে হেফাজত ঢাকার শাপলা চত্বরে অবস্থান কর্মসূচির ডাক দেয়। সারা দেশ থেকে আসা হেফাজত কর্মীদের সক্রিয় ও স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ এক ভয়াবহ আন্দোলনে রূপ নেয়। বিএনপিসহ অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলো সেই কর্মসূচিতে সমর্থন দেয়। আন্দোলন এক পর্যায়ে ভয়াবহ রূপ নেয়। ঘটনাস্থলেই বেশ কয়েকজন হতাহত হয়। সবশেষে আন্দোলনের করুণ পরিসমাপ্তি ঘটে। পাশাপাশি রহস্যজনক হলেও পরে শাহবাগ আন্দোলনের আর কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি। ধুমকেতুর মতো হঠাৎ উদয় হয়ে বুদ্বুদের মতো মিলিয়ে যায়।

খালেদা জিয়ার অবরুদ্ধ হওয়ার কাহিনিও সবার জানা। নিরীহ বালির ট্রাক আর কিছু নির্বাক পুরুষ ও মহিলা পুলিশ দিয়ে এত বড় একটা আন্দোলন শান্তিপূর্ণভাবে নিয়ন্ত্রণ করা গেল। অথচ একটা লোকও পাওয়া গেল না যে কিনা এর বিরুদ্ধে তেড়ে আসতে পারে। তারা ভাবে নিজের খেয়ে বনের মহিষ তাড়ানোর দরকার কি। ব্যতিক্রম শুধু হেফাজতসহ অন্যান্য ইসলামি দলগুলো।
 
শেখ হাসিনা সরকার সাময়িকভাবে হেফাজতের আন্দোলন নিয়ন্ত্রণে কঠোর হলেও পরবর্তীতে তাদের বশ করার কৌশল গ্রহণ করে। তাদের নিজস্ব কিছু দাবি দাওয়া মেনে নেওয়ায় তাদের আন্দোলন স্তিমিত হয়ে যায়। বিশেষ করে তাদের নেতা আল্লামা আহমেদ শফি সরকারের সাথে সমঝোতায় সম্মত হন। সুতরাং এ ধরনের যেকোনো ঘটনায় আবার যে বিস্ফোরণ ঘটবে না–তার কোনো নিশ্চয়তা নেই। 

 শেখ হাসিনা সরকার সাময়িকভাবে হেফাজতের আন্দোলন নিয়ন্ত্রণে কঠোর হলেও পরবর্তীতে তাদের বশ করার কৌশল গ্রহণ করে। প্রতীকী ছবি: ইনডিপেনডেন্ট

অন্যদিকে দেশে বড় দলগুলোর চলছে দুর্নীতির মহোৎসব। চাঁদাবাজি, মাদক, ভূমি দখল–হেন কাজ নেই যে তারা করে না। জনগণের সেবা না, কার পেশি শক্তি কত বেশি যেকোনো নির্বাচনের মনোনয়নের ক্ষেত্রে প্রধান বিবেচ্য হয়ে ওঠে। যার ফলে যে যে এলাকার দায়িত্ব পাচ্ছে সে দুর্নীতির লাইসেন্সও পেয়ে যাচ্ছে। শীর্ষ নেতৃত্বের এ ক্ষেত্রে কিছুই করার নেই। দুর্নীতি করোনার মতো তৃণমূল পর্যায়ে ছড়িয়ে পড়েছে। মানুষ অসহায়। এক শ্রেণীর মানুষ বিত্তের পাহাড় গড়ে তুলছে। অন্য দিকে দরিদ্র মানুষ বেঁচে থাকার সংগ্রাম করে চলেছে। এর শেষ কবে কথায় কেউ জানে না।

এক সময় বাংলাদেশে বাম দলগুলো নিজেদের দরিদ্র অসহায় মানুষের প্রতিনিধি বা ত্রানকর্তা বলে প্রতিষ্ঠিত করতে সচেষ্ট ছিল। আর যাই হোক তাদের সততা নিষ্ঠা ও আদর্শের সাথে আপস না করার দৃঢ় মানসিকতা সমর্থন না পেলেও সমাজে কিছুটা শ্রদ্ধা অর্জনে সক্ষম হয়েছিল। কিন্তু এসব দলের কিছু প্রথিতযশা নেতা ডিগবাজি খেয়ে সরকারি দলের বিশ্বস্ত লেজুড়ে পরিণত হওয়ায় তাদের নিজস্ব লেজই খসে পড়ে। তার ওপর ধর্ম-বিদ্বেষের অভিযোগ তাদের সাধারণ ধর্মভীরু মানুষ থেকে অনেক দূরে সরিয়ে রেখেছে। তাই বহু চেষ্টা করে লাঠি আর লাল পতাকা নিয়ে দু চারটা লোক জোগাড় করে ছোটখাট মানববন্ধন ও জনসভা করা ছাড়া আর কিছুই করার নাই তাদের।

একমাত্র বিএনপি মাঠে ছিল। শেষবারের মতো বিএনপি ২৮ অক্টোবর মহাসমাবেশের ডাক দেয়। তাতে জমায়েত হয় বেশ কয়েক লাখ লোক । দেশের মানুষ ভেবেছিল এবার বুঝি কিছু হতে যাচ্ছে। কিন্তু ঘটনার দিন জনসভার লেজের গোড়ায় কিছু পুলিশ আর সন্ত্রাসী প্রধান বিচারপতির বাড়ির গেটে ভাঙচুর চালিয়ে, ওখানে থাকা বাসে আগুন দিয়ে আর পুলিশের টিয়ার গ্যাস শেলের নির্বিচার ব্যবহারের মাধ্যমে খুব সহজেই লাখো মানুষের সমাবেশ পণ্ড করে দেয় কিছু সময়ের মধ্যে। বিএনপির নেতারা মঞ্চ ছেড়ে যান। পুলিশের গ্রেপ্তার বাণিজ্য শুরু হয় যথা নিয়মে। 

এসব নিয়ে আওয়ামী লীগ বেশ নিশ্চিন্তে দিন কাটাচ্ছিল। বাধ সাধল ২০২৪-র জুলাই আন্দোলন। বিস্তারিত বর্ণনা দেওয়ার দরকার আছে বলে মনে করি না। কেননা কি হয়েছিল তা শুধু বাংলাদেশ না, সারা বিশ্ব দেখেছে। ক্ষমতাসীন দল ও তার অনুগত লোকজন ঘুণাক্ষরেও টের পায়নি যে কি হতে যাচ্ছে। তাই অনেকে ব্যাপারটাকে অলৌকিক বলে বর্ণনা করছেন। সে যাই হোক ঘটনা যা ঘটার ঘটেছে। এখন দেশের মানুষের দাবি দেশে গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত একটা সরকার। যে সরকার হবে প্রকৃত অর্থে জনগণের সরকার আর লাগামহীন চুরি চামারি ডাকাতি ও গুম খুনের রাহু মুক্ত। এখন প্রশ্ন হল কে হতে পারে সেটা।
  
অন্যায় ও অপকর্মের দিক থেকে ইসলামি দলগুলো অন্তত কিছুটা মুক্ত। চাঁদাবাজি, ভূমিদস্যুতা, খুন, মাদকের সাথে তাদের সংশ্লিষ্টতা খুব একটা নেই বললেই চলে। একটা হতে পারে, তারা ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দু থেকে অনেক দূরে আছে। কিন্তু তাদের দলের মধ্যে থেকে যারা ক্ষমতার কাছে ছিল তাদের ব্যাপারে খুব একটা অভিযোগ পাওয়া যায়নি। সম্ভবত ধর্মীয় আদর্শই তাদের বিরত রেখেছে এসব অপকর্ম থেকে। তা সে যাই হোক আর যেভাবেই হোক জনগণের একান্ত কামনা এসব থেকে তারা যেন মুক্তি পায়।

বহু কাঙ্ক্ষিত এই মুক্তির দিশারি হয়ে উঠতে পারে ইসলামি দলগুলো। যদিও হেফাজত তাদের অরাজনৈতিক সংগঠন বলে পরিচয় দিচ্ছে। কিন্তু অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে তাদের অবস্থান পরিবর্তন খুব একটা অসম্ভব কিছু না।

সমস্যা হচ্ছে, ইসলামি দলগুলোর নিজেদের মধ্যে মাজহাবি বিভেদ, নেতৃবৃন্দের ইগোসমস্যা। তাই এক যোগে কাজ করার মানসিকতা অর্জনে বার বার তারা ব্যর্থ হচ্ছে। তারপরেও বিশেষভাবে জামায়াতে ইসলামির নিবেদিতপ্রাণ, ধর্মীয় আদর্শে অনুপ্রাণিত কর্মী বাহিনী, নেতৃত্বের প্রতি অকৃত্রিম ও অবিচল আস্থা আর ভালোবাসা যেকোনো রাজনৈতিক দলের মোকাবেলায় এদের অপ্রতিদ্বন্দ্বী শক্তি হিসেবে বিবেচনার দাবি রাখে। এছাড়াও তাদের দলের মধ্যে রয়েছেন শৃঙ্খলা ও গণতন্ত্রের চর্চা। 

আরেক ইসলামি শক্তি হেফাজতে ইসলাম। যদিও হেফাজত তাদের অরাজনৈতিক সংগঠন বলে পরিচয় দিচ্ছে। কিন্তু অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে তাদের অবস্থান পরিবর্তন খুব একটা অসম্ভব কিছু না। ইতিমধ্যে তারা জামায়াতে ইসলামি ও আরও কয়েকটি ইসলামি দলের সাথে কাজ করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছে। 

সুতরাং, ইসলামি দলগুলো নিজেদের মধ্যে ঐক্য বজায় রেখে এগিয়ে চললে আপাতত ক্ষমতায় না গেলেও বাংলাদেশের রাজনীতির নিয়ামক শক্তি হিসাবে বিবেচিত হবে, এটা একপ্রকার নিশ্চিত। প্রধান বিরোধীদল বিএনপির প্রতি মানুষের সমর্থন থাকলেও তাদের কাছ থেকে এখন দেশের মানুষ তেমন কিছু আশা করে না। নতুন করে তাদের ভাবমূর্তি তুলে ধরতে হবে, যা খুবই কঠিন। তবে এ কথা সত্য যে, বিএনপির এখনো বিপুল জনসমর্থন রয়েছে দেশে।
 
অন্যদিকে মুসলিম বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ইসলামি দলগুলো প্রচণ্ড প্রভাবশালী হয়ে উঠছে। তুরস্ক, মিশর, ইরান–এদের কথা তো বাদই দিলাম; আফগানিস্তান, পাকিস্তান এমনকি প্রাক্তন সোভিয়েত ইউনিয়নের অন্তর্ভূক্ত মুসলিম দেশগুলোতেও ইসলামি প্রভাব বৃদ্ধি পাচ্ছে দ্রুত। বাংলাদেশও এর ব্যতিক্রম হবে বলে মনে হয় না। নিশ্চয় সময়ই সব কিছু বলে দেবে। 

লেখক: গবেষক

[এই মতামত লেখকের নিজস্ব। এর সঙ্গে ইনডিপেনডেন্ট টেলিভিশনের প্রাতিষ্ঠানিক সম্পাদকীয় নীতিমালার কোনো সম্পর্ক নেই।]

ধরুন, আজ হাসপাতালে এক শিশু জন্ম নিলো। সাথে সাথেই হাসপাতাল থেকে তার নামে একটি আইডি খোলা হবে। যা সরাসরি জাতীয় সার্ভারে আবেদন আকারে যুক্ত হয়ে যাবে। সরকার বা অ্যাডমিন কর্তৃপক্ষ সেই আবেদনের সব তথ্য...
দলটির ইতিহাসে প্রথমবারের মতো আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া জাতীয় সংসদ নির্বাচনে একজন অমুসলিম প্রার্থীকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক কৌতূহলের...
বিরোধী দল কিংবা ভিন্নমত দমনে মামলা-হামলা, গুম, অপহরণ আর বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড—ফ্যাসিবাদের সাড়ে ১৫ বছর এসব ঘটনা প্রত্যক্ষ করেছে বাংলাদেশ। আর সেসব অমানবিক জুলুম-নিপীড়নের মুখে সর্বাধিক ভুক্তভোগী...
তিনবার প্রধানমন্ত্রী। কখনও নির্বাচনে পরাজিত নন। দেশের প্রথম নারী সরকারপ্রধান। কিন্তু এই পরিচয়গুলোও তাঁর রাজনৈতিক জীবনের পূর্ণতা প্রকাশ করে না। খালেদা জিয়া ছিলেন মূলত এক নীতির নাম, আপসহীনতার রাজনীতি।
এক মাস পর পণ্য রপ্তানি আবার কমল। গেল মে মাসে আগের বছরের একই মাসের তুলনায় রপ্তানি হ্রাস পেয়েছে ৭ শতাংশ। বুধবার রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর হালনাগাদ প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়।
এডিসের মারাত্মক ঝুঁকিতে দেশের চার জেলা- ঢাকা, বরিশাল, নরসিংদী ও কক্সবাজার। এখানে ব্রুটো ইনডেক্সে এডিসের লার্ভার ঘনত্ব ৭৬ থেকে ৯৩ পর্যন্ত মিলেছে। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ল্যাবে গবেষণায় মিলেছে...
নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভী কারামুক্ত হয়েছেন। বুধবার রাত ১০টা ১০ মিনিটে তিনি গাজীপুরের কাশিমপুর কারাগার থেকে মুক্তি পান।
ঈদুল আজহা উপলক্ষে মুক্তিপ্রাপ্ত নির্মাতা মেজবাউর রহমান সুমনের চলচ্চিত্র ‘রইদ’ এবার মুক্তি পাচ্ছে অস্ট্রেলিয়ার ৬টি শহরে। আগামী ৫ জুন থেকে দেশটির বিভিন্ন প্রেক্ষাগৃহে এ চলচ্চিত্রের প্রদর্শনী শুরু...
লোডিং...

এলাকার খবর