২০২৫ সাল ধীরে ধীরে ‘স্কিনিফিকেশন’ বছর হয়ে উঠছে। মেকআপের ক্ষেত্রেও বেছে নেওয়া হচ্ছে সঠিক পণ্যটি। বিশেষ করে ঠোঁট সাজানোর পণ্যে নতুনত্ব লক্ষ্য করা যাচ্ছে। ভালো একটি লিপস্টিক, লিপ বাম বা গ্লস কে না পছন্দ করে? পোশাকের সঙ্গে ঠিকঠাক লুক পেতে পারফেক্ট লিপ শেড প্রয়োজন। অনেক সময় এই রঙের স্পর্শ যোগ করতে পারে বাড়তি আত্মবিশ্বাসও।
কিন্তু আপনি কি কখনও ভেবে দেখেছেন, আপনার প্রিয় লিপস্টিকের মধ্যে আসলে কী রয়েছে? অনেক পণ্য ত্বকের যত্নে কার্যকর ফর্মুলার কথা বললেও, এতে থাকা অন্যান্য উপাদান সম্পর্কে থাকতে হবে সচেতন। কারণ আপনাকে জানতে হবে, যে আপনি ঠোঁটে যে পণ্যগুলো ব্যবহার করছেন তা নিরাপদ কিনা?
টাইমস নাউ নিউজের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে সেসব তথ্য। বিষয়টি নিয়ে কথা বলেছেন জোলি স্কিন ক্লিনিকের প্রতিষ্ঠাতা এবং ত্বকবিশেষজ্ঞ ড. নিরূপমা পারওয়ান্দা। তিনি লিপ পণ্যে ব্যবহৃত পাঁচটি ক্ষতিকর উপাদান সম্পর্কে ধারণা দেন এবং এগুলো এড়িয়ে চলতে বলেন। কী সেই উপাদান জেনে নিন।
কৃত্রিম রঙ: এটা ঠিক যে, রঙের কারণেই আমরা লিপস্টিকের নানা শেড করা সম্ভব হয়। অনেক কৃত্রিম রঙ এড়িয়ে প্রাকৃতিক উপাদানযুক্ত পণ্য কেনেন। ড. পারওয়ান্দা বলেন, ‘পেট্রোলিয়াম ভিত্তিক সিনথেটিক রংগুলো বাণিজ্যিকভাবে বিক্রি হওয়া অনেক লিপস্টিকে ব্যবহার হয়। যার মধ্যে বেশ কয়েকটি ক্যানসারের কারণ হিসেবে চিহ্নিত। যেহেতু, এসব রঙে রাসায়নিক উপাদান থাকে, তাই ত্বকে জ্বালা-পোড়াও সৃষ্টি করতে পারে। এগুলো ত্বকের জন্য ক্ষতিকর।

গ্লাইকোল প্রোপিলিন: রাসায়নিক এই উপাদানটি অনেক বেশি মেকআপ, স্কিন কেয়ারসহ নানা সৌন্দর্য পণ্যে ব্যবহার হয়। এটি ত্বকের আর্দ্রতা বজায় রাখতে সাহায্য করে। তবে অতিরিক্ত ব্যবহারে ত্বকে আক্রমণাত্মক প্রতিক্রিয়া বা অ্যালার্জি সৃষ্টি করতে পারে। এফডিএ অনুসারে, প্রোপাইলিন গ্লাইকোল অল্প থাকলে তা ক্ষতিকর নয়। তবে এটি খাওয়া বা ঠোঁটে ব্যবহার বেশ বিপজ্জনক। এক্ষেত্রে, আপনি কৃত্রিম লিপস্টিক বন্ধ করে, ক্রুয়েলটি-ফ্রি ম্যাট লিপস্টিক ব্যবহার করতে পারেন।
প্যারাবেনস: এটি প্রসাধনীতে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়। প্যারাবেনসের মধ্যে হরমোনাল সিস্টেমে বিপর্যয় ঘটানোর ক্ষমতা থাকতে পারে। তাই এই উপাদান আপনার শরীরের হরমোনের উপর বিরূপ প্রভাব ফেলতে পারে। এই কারণে, প্রসাধনীতে প্যারাবেনস এড়িয়ে চলা ভালো।
ইরিট্যান্টস: এই উপাদান সাধারণত মুখের পণ্য এবং স্কিন কেয়ার আইটেমে ব্যবহৃত হয়। তবে এগুলো ত্বকের হালকা ক্ষতি করতে পারে। এই উপাদানে তৈরি লিপ বাম আপনার ত্বককে নিজস্ব আর্দ্রতা তৈরি করা থেকে বাধা দেয়। তাই ত্বকের ক্ষতি হতে পারে।
অ্যালকোহল: অ্যালকোহল ভিত্তিক লিপ ঠোঁট শুষ্ক করে তোলে। যেন আপনি আরও বেশি লিপ বাম ব্যবহার করেন।
মেথল বা ক্যাম্পফর: ঠান্ডা অনুভূতি দেওয়ার জন্য মেথল বা ক্যাম্পফর লিপ বামে যোগ করা হয়। বিশেষ করে শুকনো এবং জ্বালা হওয়া ত্বককে স্বস্তি দেয়। অল্প সময় আরাম দিলেও, ঠোঁটে জ্বালা এবং আর্দ্রতার সৃষ্টি করতে পারে।
স্যালিসিলিক অ্যাসিড: যদিও স্যালিসিলিক অ্যাসিড ত্বককে এক্সফোলিয়েট করতে ব্যবহার হয়। তবে এটি ঠোঁটের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকারক হতে পারে। নিয়মিত ব্যবহারে এটি ত্বকে জ্বালা এবং ক্ষতি সৃষ্টি করতে পারে। যদিও এটি ঠোঁট থেকে মৃত চামড়া দূর করতে কার্যকর ভূমিকা রাখে।


সৌন্দর্যচর্চা সহজ করতে রইল ৭ উপায়
ক্যাটরিনার কোমল ত্বকের গোপন রহস্য জানালেন পুষ্টিবিদ
