রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বরেণ্য লালনসংগীত শিল্পী ফরিদা পারভীন। সম্প্রতি ডায়ালাইসিস করতে গিয়ে শারীরিক পরিস্থিতির অবনতি হলে শনিবার (৫ জুলাই) তাঁকে করোনারি কেয়ার ইউনিটে (সিসিইউ) ভর্তি করা হয়। সেখানে দুদিন চিকিৎসার পর গতকাল রোববার শিল্পীকে সাধারণ কেবিনে স্থানান্তর করা হয়েছে।
ইনডিপেনডেন্ট ডিজিটালকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন ফরিদা পারভীনের স্বামী বংশীবাদক গাজী আবদুল হাকিম। এ ছাড়া সামাজিকমাধ্যমে শিল্পীর আর্থিক অভাব-অনটন নিয়ে যে কথা রটেছে, তা নিয়েও তিনি মুখ খুলেছেন।
ফরিদা পারভীনের শারীরিক অবস্থার এখনও উন্নতি হয়নি জানিয়ে গাজী আবদুল হাকিম বলেন, ‘সোমবার (৬ জুলাই) ফরিদাকে সিসিইউ থেকে সাধারণ কেবিনে আনা হয়েছে। কিন্তু শারীরিক অবস্থার তেমন পরিবর্তন হয়নি। এখনও কথা বলতে পারছে না, হাঁটতে বা দাঁড়াতেও পারছে না। এই মুহূর্তে আমরা চাইছি দেশের স্বনামধন্য কিডনি বিশেষজ্ঞদের দ্বারা একটা মেডিক্যাল বোর্ড গঠন করতে, যেন তার (ফরিদা) অসুস্থতার সঠিক কারণ নির্ণয় করা যায়।’
তিনি জানান, এর আগেও দুই দফায় গুরুতর অসুস্থ হয়ে আইসিইউ-তে ভর্তি ছিলেন ফরিদা পারভীন। একবার করোনা আক্রান্ত হয়ে, আরেকবার তিনি নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়েছিলেন।
৭০ বছর বয়সী ফরিদা পারভীন দীর্ঘদিন ধরেই লিভারের রোগ, ডায়াবেটিসসহ নানা অসুস্থতার সঙ্গে লড়ছেন। কিডনি জটিলতার জন্য মাঝে তিনি ভারতের হাসপাতালেও চিকিৎসা নিয়েছেন।
এদিকে, সামাজিকমাধ্যমে ফরিদা পারভীনের অসুস্থতা ঘিরে গুজব ছড়িয়েছে যে, শেষজীবনে আর্থিক টানাপোড়েনের জন্য উন্নত চিকিৎসা করতে পারছেন না তিনি! তবে এ তথ্যকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও গুজব বলছেন ফরিদার স্বামী গাজী আবদুল হাকিম। তিনি বলেন, ‘রাষ্ট্রের কাছে আমরা টাকা-পয়সা চাই না। আমাদের চার ছেলে-মেয়েই প্রতিষ্ঠিত, অর্থের অভাব নেই। কিন্তু আমরা যেন তার (ফরিদা) উন্নত চিকিৎসা ঠিকমতো করাতে পারি, সেজন্য রাষ্ট্রের সহায়তা চাই। একটা মেডিক্যাল বোর্ড গঠন করতে চাই।’
আর্থিক অভাবের গুজব নিয়ে মুখ খুলেছেন ফরিদা পারভীনের ছোট ছেলে ইমাম জাফর নোমানী। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের এক পোস্টে মায়ের অসুস্থতা নিয়ে তিনি লিখেছেন, ‘আপনারা অনেকই অবগত আছেন যে আমাদের আম্মা, কণ্ঠশিল্পী ফরিদা পারভীন বেশ কিছুদিন ধরে শারীরিক অসুস্থতায় ভুগছেন। আমরা নানা মাধ্যম থেকে জানতে পেরেছি যে বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান তাঁর নাম ব্যবহার করে তাঁর চিকিৎসার জন্য বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি অনুদান সংগ্রহের চেষ্টা করছে। তাঁর চিকিৎসার জন্য কোনো ধরনের আর্থিক সহযোগিতার প্রয়োজন নেই এবং এ ধরনের কোনো আবেদন আম্মা বা আমাদের পক্ষ থেকে করাও হয়নি। তাঁর প্রয়োজনীয় সকল চিকিৎসা যথাযথভাবে চলছে, আলহামদুলিল্লাহ। সবাইকে এ সকল প্রতারণা থেকে সতর্ক থাকার জন্য অনুরোধ জানাচ্ছি।’
প্রসঙ্গত, লালনসংগীতের জন্য সবচেয়ে বেশি জনপ্রিয় ফরিদা পারভীন। তবে নজরুলসংগীত ও দেশাত্মবোধক গানের জন্যও সমাদৃত তিনি। সংগীতাঙ্গনে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ১৯৮৭ সালে একুশে পদক পান এই শিল্পী। ২০০৮ সালে তিনি জাপান সরকারের ‘ফুকুওয়াকা এশিয়ান কালচার’ পুরস্কার পেয়েছেন।
এ ছাড়া বেশ কয়েকটি চলচ্চিত্রের গানেও কণ্ঠ দিয়েছেন ফরিদা পারভীন। সেরা প্লেব্যাক গায়িকা হিসেবে ১৯৯৩ সালে তিনি জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পেয়েছেন।


বন্ধু এন্ড্রু কিশোরকে নিয়ে হানিফ সংকেতের আবেগঘন স্মৃতিচারণ
১৫ দিনে ‘সিতারে জামিন পার’ ছবির ব্যবসা কত?
লুকিয়ে রাখা বাচ্চা আমার কাছে পৌঁছে দিলে ২০ হাজার ডলার দেব: তিশা
