অভিভাবকদের মাঝে এখন শুরু হয়েছে নতুন এক ট্রেন্ড। সন্তানদের আগের মতো অতিরিক্ত শাসন বা অতিরিক্ত নমনীয়তা নয়। এখন তাঁরা বেছে নিচ্ছেন এমন এক অভিভাবকত্বের ধরন, যেখানে শিশুদের নিজেদের ভুল থেকে শেখার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। এই পদ্ধতির নাম ‘এফএএফও’ । যার অর্থ, নিজে কিছু করে দেখো, আর ফলাফল নিজে বুঝে নাও।
দীর্ঘদিন ধরে ভারতীয় অভিভাবকেরা নানা ধরনের শৈল্পিক অভিভাবকত্বে আটকে ছিলেন—একদিকে ‘হেলিকপ্টার প্যারেন্টিং’ অর্থাৎ সব কিছুতে অতিমাত্রায় জড়িয়ে থাকা, অন্যদিকে ‘জেন্টল প্যারেন্টিং’ বা অতিরিক্ত নরম ব্যবহার। বিশেষজ্ঞেরা বরাবরই এই দুই ধরনের কৌশলের ঝুঁকি সম্পর্কে সাবধান করে এসেছেন। এখন তাঁদের আশা, এই পদ্ধতি হয়তো এই অচলাবস্থা থেকে বের করে আনতে পারবে।
এই অভিভাবকত্বে শিশুরা বুঝতে শিখছে, তাদের সমস্যা তারা নিজেরাই সামলাবে। শিক্ষক কিংবা বন্ধুর সঙ্গে ঝগড়া, পরীক্ষায় সময় ব্যবস্থাপনা, সবকিছুতেই অভিভাবকেরা আর নাক গলাবে না। বরং শিশুদের উৎসাহ দেওয়া হচ্ছে নিজেরাই সমাধান খুঁজে নিতে।
সামাজিক মাধ্যমে একজন ১২ বছরের ছেলের বাবা জানান, ‘আমার ছেলে প্রতিটা ছোটখাটো সমস্যাতেই আগে মায়ের কাছে ছুটে যেত। পরে আমরা বুঝলাম, ওর নিজের সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা গড়ে উঠছে না। এখন আমরা ওকে বলি, তুমি আগে নিজের মতো করে ভাবো। এরপর দরকার হলে আমাদের বলো।’
অন্যদিকে এক মা তাঁর সামাজিক মাধ্যমে লিখেছেন, ‘আমরা আর মেয়েকে পড়াশোনার জন্য চাপ দিই না। শুরুতে ওর নম্বর একটু কমে গিয়েছিল, কিন্তু সে নিজেই নিজেকে টেনে তুলেছে। তবে স্ক্রিন টাইমের বিষয়ে আমরা এখনো কড়া।’
এই পদ্ধতির মূল উদ্দেশ্য হলো শিশুকে এমনভাবে গড়ে তোলা, যেন সে বাবা-মায়ের ওপর নির্ভর না করে। আর একসময় নিজের জীবন নিজে সামলাতে শেখে। তবে পদ্ধতিটিকে ‘অবহেলা’ ভাবার সুযোগ নেই। শিশুর স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে গিয়ে তার মানসিক ও শারীরিক নিরাপত্তা যেন বিঘ্নিত না হয়, তা নিশ্চিত করাও অভিভাবকের দায়িত্ব।
বিশেষজ্ঞদের মতে, শিশুকে স্বাধীনতা দেওয়া মানেই তাকে একা ফেলে দেওয়া নয়। বরং পাশে থেকে তাকে এমনভাবে সহায়তা করা, যাতে সে নিজেকে গড়ে তুলতে পারে। কারণ, সবকিছুর সমাধান করে দেওয়া নয়, বরং সন্তানকে এমনভাবে তৈরি করা, যাতে একদিন বাবা-মা না থাকলেও সে নিজের সিদ্ধান্ত নিজে নিতে পারে। এই তো সত্যিকারের অভিভাবকত্ব।
তথ্যসূত্র: টাইমস নাও


কৈশোরে যেভাবে সন্তানের পাশে থাকবেন
সন্তান স্কুল থেকে ফিরলে আপনি কী করেন? সত্যি করে বলুন তো
শিশুদের অনলাইনে তুলে দিয়ে কী হারাচ্ছি আমরা, জানেন?
