বুধবার (১৩ আগস্ট) ছিল নির্মাতা তারেক মাসুদ ও চিত্রগ্রাহক মিশুক মুনীরের মৃত্যৃবার্ষিকী। ২০১১ সালের এই দিনে ‘কাগজের ফুল’ সিনেমার লোকেশন দেখে ফেরার পথে মানিকগঞ্জের ঘিওরের জোকা এলাকায় এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় তাঁরাসহ পাঁচজন নিহত হন।
আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন এই নির্মাতা-চিত্রগ্রাহক জুটির মৃত্যুবাষিকীতে সড়ক দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা, পর্যাপ্ত ক্ষতিপূরণ এবং কার্যকর বিমা ব্যবস্থা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ লিগ্যাল এইড এন্ড সার্ভিসেস ট্রাস্ট (ব্লাস্ট)।
নিজেদের অফিশিয়াল ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে আইনি সহায়তা প্রদানকারী সংস্থাটি বলছে, ‘আজ (বুধবার) ব্লাস্ট গভীর শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করছে চলচ্চিত্র নির্মাতা তারেক মাসুদ, এটিএন নিউজের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আশফাক মুনীর মিশুকসহ তাদের তিন সহকর্মীকে, যারা ১৪ বছর আগে মানিকগঞ্জে এক সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হন। এ উপলক্ষে অবহেলার কারণে সড়ক দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্তদের ন্যায়বিচার ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা, দ্রুত ও পর্যাপ্ত ক্ষতিপূরণ এবং কার্যকর বিমা ব্যবস্থা নিশ্চিত করার আহ্বান জানাচ্ছে ব্লাস্ট।’
বিবৃতিতে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কাছে সড়ক পরিবহন আইন-২০১৮-তে কিছু সংশোধন আনার দাবি জানিয়ে কয়েকটি বিষয় তুলে ধরেছে ব্লাস্ট। সেগুলো হলো—
১. সড়ক দুর্ঘটনায় হতাহতদের জন্য দ্রুত ও পর্যাপ্ত ক্ষতিপূরণ: সড়ক দুর্ঘটনায় হতাহতদের জন্য সড়ক পরিবহন আইন ২০১৮ দ্বারা গঠিত ক্ষতিপূরণ তহবিল সক্রিয় নয় এবং ক্ষতিপূরণ নির্ধারণ বা প্রদানের জন্য কোনো মানদণ্ড বা প্রক্রিয়া কার্যকর নয়।
২. যানবাহনের জন্য বাধ্যতামূলক বিমা: অবহেলার কারণে সৃষ্ট সড়ক দুর্ঘটনাকে মানবিক বিপর্যয় হিসেবে স্বীকৃতি দিতে হবে। বাধ্যতামূলক এবং সমন্বিত যাত্রী বিমা (জল, সড়ক ও বিমান পথের আওতাভুক্ত) চালু করা উচিত, ক্ষতিগ্রস্তদের হারিয়ে যাওয়া কর্মক্ষম সময়সীমা, মৃত্যুর কারণে নির্ভরশীল পরিবারের সদস্যদের মানসিক ও শারীরিক ক্ষয়ক্ষতি ও দুর্ভোগ এবং দীর্ঘমেয়াদী আর্থিক ক্ষতি তাদের উন্নতি ও কল্যাণকে প্রভাবিত করে।
চলচ্চিত্র নির্মাতা, ২০১১ সালের দুর্ঘটনা থেকে বেঁচে যাওয়া এবং সড়ক নিরাপত্তাবিষয়ক প্রচারক ক্যাথরিন মাসুদ বলেন, ‘২০১৭ সাল থেকে আমাদের ক্ষতিপূরণের মামলা সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে শুনানির অপেক্ষায় আছে। এই ঘটনা একটি সার্বিক বাস্তবতাকে প্রতিফলিত করে। ২০১৮ সালে সড়ক নিরাপত্তার জন্য শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের পর প্রণীত সড়ক পরিবহন আইনটি ছিল আংশিক এবং অপর্যাপ্ত। সেখানে জবাবদিহিতা, তদারকি ও কার্যকর প্রয়োগ ব্যবস্থার অভাব ছিল। এমনকি কোনো রকম বিকল্প ব্যবস্থা না করে, পূর্ববর্তী আইনে বিদ্যমান সীমিত জবাবদিহিতাও অপসরণ করা হয়েছিল।’
তিনি আরও বলেন, ‘সড়ক দুর্ঘটনায় আহত ও ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের জন্য অনুদান নয়, ক্ষতিপূরণ প্রয়োজন। চালক, পরিবহন কোম্পানি ও বিমা প্রদানকারী সকলের জবাবদিহি নিশ্চিত করা প্রয়োজন। প্রকৃত সংস্কার ও নিরাপত্তা তখনই সম্ভব হবে, যখন আর্থিকভাবে দায়বদ্ধ করা হবে। এখনই সময় আমাদের সকলের জন্য নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করার জন্য ঐক্যবদ্ধ হওয়ার।’
ব্লাস্টের বিবৃতিতে জানানো হয়, সেই দুর্ঘটনার প্রেক্ষিতে তারেক মাসুদের পরিবারের করা ক্ষতিপূরণ মামলায় হাইকোর্টের দেওয়া যুগান্তকারী রায়ের বিরুদ্ধে বাসের মালিকপক্ষ এবং বাদীপক্ষের দায়ের করা পৃথক আপিল মামলা শুনানির জন্য আপিল বিভাগের কার্যতালিকায় অপেক্ষমান রয়েছে। অন্যদিকে, মিশুক মুনীরের পরিবারের দায়ের করা ক্ষতিপূরণ মামলাটিতে বিবাদীপক্ষের সাক্ষ্য গ্রহণের জন্য হাইকোর্টে ১৬ আগস্ট দিন ধার্য রয়েছে। একই দুর্ঘটনায় আহত শিল্পী ঢালী আল মামুন রাষ্ট্রের সহযোগিতায় বিশেষ চিকিৎসা পেয়েছেন।
আরও জানা যায়, তারেক মাসুদের দুর্ঘটনার পরপর ২০১১ সালের ১৪ আগস্ট সড়ক ও হাইওয়েতে নিরাপদ চলাচলে নিয়মিত তদারকি, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দায়বদ্ধতা ও ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তির ক্ষতিপূরণ নিশ্চিতের লক্ষ্যে হাইকোর্টে একটি জনস্বার্থ মামলা (৭৪০১/২০১১) দায়ের করেন আইনজীবী জেড আই খান পান্না, বেলা এবং আরও দুইজন আইনজীবী। আবেদনকারীদের পক্ষে বর্তমানে ব্লাস্ট এ মামলার কার্যক্রম পরিচালনা করছে।


টলিউডের ‘রক্তবীজ ২’-তে উঠে এল বাংলাদেশ-ভারতের কূটনীতি!
প্রভার অনুরোধ
