প্রকৃতিতে এখন হেমন্তকাল। দিনে সূর্যের তাপ কিছুটা কোমল বা উষ্ণতা থাকলেও রাতের ঠান্ডা বাতাস ত্বককে রুক্ষ করে তুলছে। শীত আসার আগে এই সময়টাতে ত্বকের খসখসে ও শুষ্ক ভাব দেখা দিতে পারে। বিশেষ করে হাত, গলা ও মুখের ত্বকসহ ঠোঁটও প্রায়শই খসখসে হয়ে যায়। তাই এই সময়ে ত্বক ও ঠোঁটের যত্ন নেওয়া জরুরি।
বিশেষজ্ঞদের মতে, হেমন্তকাল থেকেই নিয়মিত ত্বকের যত্ন শুরু করলে শীতে রুক্ষতা, ফাটা বা খসখসে হওয়া থেকে রক্ষা করা সম্ভব। ঘরোয়া কিছু সহজ উপায় এই সমস্যার মোকাবিলা করতে পারে।
ঘরোয়া পদ্ধতিতে ঠোঁটের যত্ন
চিনি ও নারকেল তেলের স্ক্রাব: এক চা-চামচ চিনি এবং এক চা-চামচ নারকেল তেল মিশিয়ে ঠোঁটে হালকা স্ক্রাব করুন। শুকিয়ে গেলে ভেজা আঙুল দিয়ে ম্যাসাজ করে তুলে ফেলুন। সপ্তাহে দু-এক দিন এটি ব্যবহার করলে ঠোঁটের রুক্ষতা কমে যাবে। সেই সাথে লাবণ্যময় আর্দ্রতা ফিরে আসবে।
ভিটামিন-ই অয়েল: রাতে ঘুমানোর আগে ভিটামিন-ই অয়েল বা নারকেল তেল ঠোঁটে লাগিয়ে ঘুমানো ভালো। সকালে উঠে ধুয়ে ফেললে ঠোঁট নরম এবং কোমল থাকবে।
গোলাপ ও বিটরুটের ভ্যাসলিন: বিটরুটের রস এবং গোলাপের পাপড়ি একসঙ্গে মিশিয়ে ঘন পেস্ট তৈরি করুন। ঠান্ডা হলে ভ্যাসলিনের সঙ্গে মিশিয়ে রাখুন। এটি নিয়মিত ব্যবহার করলে ঠোঁটের রঙ উজ্জ্বল হবে এবং শুষ্কতা দূর হবে।
দৈনন্দিন যত্নের নিয়ম
নিয়মিত লিপজেল বা ভ্যাসলিন ব্যবহার: শীতকালে ত্বক এবং ঠোঁট নরম রাখতে প্রতিদিন সকালে ও রাতে লিপজেল বা ভালো মানের ভ্যাসলিন লাগানো উচিত।
পর্যাপ্ত পানি পান: শরীরকে হাইড্রেটেড রাখা ত্বকের স্বাস্থ্যর জন্য অপরিহার্য। দিনে অন্তত ৮-১০ গ্লাস পানি পান করুন।
ধূমপান পরিহার: ধূমপান ঠোঁট ও ত্বকের আর্দ্রতা কমিয়ে দেয়। তাই এই অভ্যাস থাকলে কমিয়ে আনাই ভালো।
সূর্যের ক্ষতিকর রশ্মি থেকে সুরক্ষা: বাইরে বেরোনোর সময় এসপিএফ যুক্ত লিপবাম ব্যবহার করুন। এটি ঠোঁটকে অতিবেগুনি রশ্মি থেকে রক্ষা করবে এবং ফাটা হওয়া কমাবে।
বিশেষজ্ঞরা বলেন, শীতের আগেই ত্বকের যত্ন নেওয়া মানে শুধু আর্দ্রতা দেওয়া নয়। এটি একটি দীর্ঘমেয়াদী রক্ষা ব্যবস্থা। হেমন্তকাল থেকেই ত্বককে সঠিক যত্ন দিলে শীতকালে ফাটা, রুক্ষ বা কালচে হওয়া থেকে ত্বককে বাঁচানো সম্ভব।
সৌন্দর্য ও স্বাস্থ্য দুটোই একসাথে রক্ষা করতে চাইলে এই ঘরোয়া পদ্ধতি মেনে চলা এবং ত্বকের যত্ন নিশ্চিত করা জরুরি। এছাড়া খাদ্যতালিকাতেও পর্যাপ্ত ভিটামিন সি এবং ই যুক্ত খাবার রাখলে ত্বকের আর্দ্রতা বজায় রাখতে সাহায্য করে।
শীত আসার আগে এই সহজ ও কার্যকরী পদ্ধতিগুলো অনুসরণ করলে ঠোঁট ও ত্বক থাকবে কোমল, নরম ও উজ্জ্বল। তাই এখন থেকেই শুরু করুন। যেন শীতের কনকনে ঠান্ডায় ত্বক বা ঠোঁট ফাটা নিয়ে চিন্তা করতে না হয়।


এই সময়ে কেমন প্রসাধনী ব্যবহার করবেন, জানেন?
ত্বকের জেল্লা ফেরাতে স্ক্রাব নয়, তরুণরা ঝুঁকছে বডি পলিশিংয়ে
