সাবেকের সঙ্গে বন্ধুত্ব। এই বিষয়টি শুনলে যতটা সহজ মনে হয়, বাস্তবতা ঠিক উল্টো। কেউ বলেন নস্ট্যালজিয়ার টান, কেউ বলেন পরিণত হওয়ার নিদর্শন। কিন্তু ওকল্যান্ড ইউনিভার্সিটির এক গবেষণা জানাচ্ছে অন্য কথা। সাবেকের সঙ্গে বন্ধুত্ব সব সময়ই আবেগ বা বড় হয়ে ওঠার লক্ষণ নয়। অনেক সময়ই এর আড়ালে থাকে কিছু উদ্দেশ্য।
অনেকে মনে করেন, ‘সাবেকের সঙ্গে তো বন্ধুত্ব রাখাই যায়।’ শুনতে আধুনিক লাগে, পরিণতও লাগে। বন্ধুরা শুনলে প্রশংসা করবে বলেও মনে হয়। কিন্তু গবেষণা বলছে, সব ব্রেকআপ-পরবর্তী বন্ধুত্ব একই রকম নয়। অনেক সম্পর্কের ভিতরে থাকে সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা। আবেগ ধরে রাখার আকাঙক্ষা বা পুরোনো সম্পর্ক পুরোপুরি ছাড়তে না পারার মনোভাবও তার কারণ হতে পারে।
পার্সোনালিটি অ্যান্ড ইন্ডিভিজুয়াল ডিফারেন্সেস জার্নালে প্রকাশিত এই গবেষণায় ওকল্যান্ড ইউনিভার্সিটির জাস্টিন কে মোগিলস্কি ও লিসা এলএম ওয়েলিং দেখিয়েছেন, সাবেকদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখার কারণ নানা ধরনের হতে পারে।
যে কারণে যোগাযোগ থাকছে
গবেষণায় জানা যায়, মানুষ সাধারণত কয়েকটি কারণে সাবেক সঙ্গীর সঙ্গে যোগাযোগ রাখেন। তার মধ্যে রয়েছে-
- আবেগগত স্বস্তির জন্য।
- দীর্ঘদিনের সম্পর্কের স্মৃতি থেকে।
- সামাজিক সুবিধা বা পরিচয়ের কারণে।
অথবা বাস্তব দায়িত্ব। যেমন সন্তান, আর্থিক বিষয় বা পারিবারিক প্রয়োজন। এসব কারণ পরিচিত। সম্পর্ক ছিন্ন করা অনেকের কাছেই অস্বস্তিকর বা অস্বাভাবিক মনে হয়।
কারও কারও কাছে সাবেক সঙ্গী মানে নিরাপত্তা, আর্থিক ভরসা বা এখনও টিকে থাকা আকর্ষণ। কেউ আবার মনে করেন সম্পর্কটা পুরোপুরি শেষ হয়নি। তাই দরজাটা পুরো বন্ধ না করে আধখোলা রাখাই ভাল। এমন সম্পর্ক আর বন্ধুত্ব থাকে না; বরং পুরোনো সম্পর্কের আরেক রূপ হয়ে ওঠে।
ফলে ‘সুস্থ ব্রেকআপ-পরবর্তী বন্ধুত্ব’ ধারণাটাই নড়ে যায়। কারণ, যদি দুই পক্ষের মধ্যেই লুকিয়ে থাকে প্রত্যাশা বা পুরোনো আবেগ, তাহলে বন্ধুত্ব দ্রুতই জটিল হয়ে ওঠে।
যখন ভালো উদ্দেশ্যও জট বানায়
গবেষণায় দেখা গেছে, অংশগ্রহণকারীদের একটি অংশ সাবেকের সঙ্গে যোগাযোগ রাখেন এমন কারণে, যা ভালোবাসা বা পরিণত বোধ নয়, বরং স্বার্থসিদ্ধির জন্য।
গবেষকেরা লক্ষ্য করেন, যাদের মধ্যে স্বার্থপরতা, আবেগ নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা বা অন্যকে ব্যবহার করার প্রবণতা আছে, তারা সাবেককে কাছে রাখেন। কারণ এতে তাদের লাভ হয়। হতে পারে সাহায্য পাওয়া, তথ্য জানা বা শারীরিক সম্পর্ক বজায় রাখা।
সমস্যা হলো, এসব আচরণ প্রথমে বোঝা যায় না। নিজের অজান্তেই আবার পুরোনো রুটিনে ফিরে যান। মন খারাপ হলে তাকেই ফোন করেন। তার মতামত এখনও মনে গেঁথে থাকে। বিচ্ছেদের শোক এড়িয়ে যেতে তাকে ‘বন্ধু’ হিসেবে ধরে রাখেন।
এতে ক্ষতি হতে পারে নতুন সম্পর্ক। নতুন সঙ্গী সাবেকের সঙ্গে আপনার ঘনিষ্ঠতা দেখে অস্বস্তি বোধ করতে পারেন। আর তাদের এই আপত্তিতে যুক্তি আছে। আবেগ পুরোপুরি শেষ না করলে, তার প্রভাব নতুন সম্পর্কে পড়তে পারে।


টক্সিক মানুষ কারা, যে কারণে এদের এড়িয়ে চলবেন
এক ছাদের নীচে তবুও দূরত্ব বাড়ছে দাম্পত্যে, কী করবেন?
