রাজধানীবাসীই কেবল ভূমিকম্পের ঝুঁকিতে আছে, তা কিন্তু নয়। শুক্রবার, উৎপত্তিস্থল নরসিংদীর গ্রামে মারা যান ৫ জন। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে স্থাপনা, ফাটল দেখা দিয়েছে সড়কে। নরসিংদীতে সকালেও ৩ দশমিক ৩ মাত্রার ভূমিকম্প হয়েছে, সন্ধ্যায় হয়েছে তৃতীয় দফা। এ পরিস্থিতিতে এখনও আতঙ্কে রয়েছেন জেলার মানুষ।
ভূমিকম্প নিয়ে রাজধানীবাসী আতঙ্কে থাকলেও গ্রামের মানুষ ভাবতেন তারা নিরাপদ। তবে শুক্রবারের ভূমিকম্প পাল্টে দিয়েছে এই ধারণা। প্রত্যন্ত অঞ্চলেও শেষ রক্ষা হয়নি নরসিংদীর মালিতা গ্রামের কাজম আলীর।
ভূমিকম্পে ভেঙে পড়া মাটির ঘরে চাপা পড়ে প্রাণ হারান তিনি। ৫ দশমিক ৭ মাত্রার ভয়াবহ ভূমিকম্পে কাজম ছাড়াও নরসিংদীতে আরও ৪ জন মারা যান।
স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, ‘আমরা এসে দেখি যে এই বাড়ির যিনি মালিক ছিলেন, তিনি এখানে শুয়ে আছেন। রক্ত চারপাশে ছড়িয়ে আছে।’
নরসিংদীর সার্কিট হাউস, ঘোড়াশালে রেলসেতু, খাদ্য গুদাম, ও তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রসহ বেশ কিছু ভবন এবং স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ভূমিকম্পের তীব্র কম্পনের ভয় কাটাতে পারেননি নরসিংদীবাসী।
স্থানীয় আরেক বাসিন্দা বলেন, ‘আমরা চিন্তায় আছি। গতকালকের ঘটনায় ৫ জন মারা গেছেন। আগামীতে যদি আবারও ভূমিকপ্ম হয়, তাহলে আমাদের কি হবে? আমরা আতঙ্কিত।’
নরসিংদীর পলাশের রেসিডেন্সিয়াল কলেজের সামনে সৃষ্টি হয়েছে গভীর ফাটল, যা পরিদর্শন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূতত্ত্ব বিভাগের ৬ সদস্যের প্রতিনিধি দল। তারা সংগ্রহ করেছেন বিভিন্ন আলামত।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক আ. স. ম. ওবায়দুল্লাহ বলেন, ‘ভূমিকম্প পরবর্তী ক্ষয়ক্ষতি সরেজমিনে দেখার জন্য এবং ভূমিতে যে এভিডেন্স রয়েছে তা যাচাই করার জন্যই মূলত আমরা এসেছি। আমরা ডেটা নিয়েছি এবং পরবর্তীতে আরও এ ধরনের ডেটা সংগ্রহ করব। সবগুলো মিলিয়ে হয়তো আমরা একটি উপসংহারে পৌঁছাতে পারব।’
শুক্রবারের ভূমিকম্পের ভয়াবহ চিত্র ছড়িয়ে আছে উৎপত্তিস্থল নরসিংদী জেলায়। হতাহতের পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান ও স্থাপনা। যার ফলে এখনও জনমনে আতঙ্ক বিরাজ করছে। সবাই প্রার্থনা করছেন যেন ভবিষ্যতে এমন পরিস্থিতির মোকাবেলা করতে না হয়।


ভূমিকম্প কি আগে থেকে জানা সম্ভব?
ঢাকার এত কাছে এই মাত্রার ভূমিকম্প কি এই প্রথম?
