চুয়াডাঙ্গার জীবননগরে যৌথবাহিনীর অভিযানে আটক বিএনপির এক নেতা হেফাজতে থাকা অবস্থায় অসুস্থ হয়ে মারা গেছেন। এ নিয়ে বিক্ষোভ করেছেন স্থানীয় বিএনপির নেতা–কর্মীরা। প্রশাসন বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে।
৩৬ এডি রেজিমেন্ট টিটিসি আর্মি ক্যাম্প ও চুয়াডাঙ্গায় কর্মরত সেনা বাহিনীর সদস্যরা সোমবার ওই বিশেষ অভিযান চালান। এ সময় জীবননগর পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শামসুজ্জামান ডাবলুকে (৫৫) উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনে থেকে আটক করা হয়।
জিজ্ঞাসাবাদের সময় অসুস্থ হয়ে পড়েন ডাবলু। পরে সেনাবাহিনীর টিম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
রাত সাড়ে ১০টার দিকে শামসুজ্জামান ডাবলুকে জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনে তাঁর নিজস্ব ওষুধের দোকান থেকে তুলে জীবননগর উপজেলা বিএনপির পার্টি অফিসের মধ্যে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিয়ে গিয়ে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ করেন স্থানীয় বিএনপির নেতা-কর্মীরা।
নেতা-কর্মীরা জানান, পরবর্তীতে শামসুজ্জামান ডাবলুর আত্মীয়-স্বজন এবং দলীয় লোকজন বিষয়টি জানতে পেরে জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের গেটের সামনে জড়ো হন।
মঙ্গলবার বেলা ১১টার দিকে চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ কামাল হোসেন বলেন, সেনাবাহিনীর সদস্যরা জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেইনগেট বন্ধ করে শামসুজ্জামান ডাবলুর মরদেহসহ ভেতরে অবস্থান করে। এদিকে রাতেই হাসপাতালের সামনে বিএনপির নেতা-কর্মীরা আগুন জ্বালিয়ে প্রতিবাদ করেন।
জেলা প্রশাসক আরও বলেন, মৃত্যুর বিষয়টি কোনোভাবেই সহজ করে দেখা হবে না। মরদেহের ময়নাতদন্ত হবে, মামলা হবে। দোষী কেউ থাকলে ছাড় দেওয়া হবে না।
চুয়াডাঙ্গা জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে একই বক্তব্য দেন।
উপস্থিত জনতার উদ্দেশে বিক্ষোভের সময় বক্তৃতা করেন জেলা বিএনপির সভাপতি মাহমুদ হাসান খান ও সাধারণ সম্পাদক শরীফুজ্জামান। তাঁরা বলেন, পুরো ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটন করা হবে। সে পর্যন্ত সকলকে শান্ত থাকার অনুরোধ করেন তারা।



