ঢাকার উত্তরায় মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে গত ২১ জুলাই বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর যুদ্ধবিমান বিধ্বস্তের সময় আলোচনায় আসা ‘অ্যানোনিমাস মেইন পেজ’ আসলে গুজব ছড়ায়। এ ছাড়া বিভিন্ন দেশে বিভিন্ন ষড়যন্ত্র তত্ত্বকে কাজে লাগিয়ে ভবিষ্যদ্বাণী করে মানুষকে ফাঁদে ফেলে তারা। এই পেজ এবং এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অন্যান্য পেজের কার্যক্রম নিয়ে এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে এই দাবি করেছে তথ্য যাচাইকারী প্রতিষ্ঠান ডিসমিসল্যাব। আজ বুধবার প্রকাশিত ওই প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা যায়।
ডিসমিসল্যাব বলছে, মাইলস্টোনের ঘটনার পরপরই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি পোস্ট ভাইরাল হয়। মাইলস্টোনের ঘটনার একদিন আগে করা ওই পোস্টে বলা হয়, ‘একটি স্কুল ভবন ধসে পড়ে শিশুরা মারা যাবে। ভয়াবহ বিপর্যয় হবে।’
পোস্টটি করা পেজের নাম ‘অ্যানোনিমাস মেইন পেজ’, প্রোফাইলে মাস্ক পরা এক ছবি। পোস্টে উত্তরায় বিমান দুর্ঘটনা এমনকি বাংলাদেশের কোনো উল্লেখই ছিল না। কিন্তু এরপরও মুহূর্তেই পেজের ফলোয়ার বেড়ে যায় হু হু করে। অনেকে ধারণা করছিলেন, এটি হয়তো আন্তর্জাতিক হ্যাকার অ্যাকটিভিস্ট গ্রুপ ‘অ্যানোনিমাস’।
অনুসন্ধানের পর ডিসমিসল্যাব জানতে পারে, এমন ২৫টি ফেসবুক পেজ রয়েছে। প্রতিটি পেজ থেকে ওইদিন একই ধরনের পোস্ট করা হয়। এসব পেজ নাইজেরিয়া থেকে চালানো হচ্ছিল। আন্তর্জাতিক হ্যাকার অ্যাকটিভিস্ট গ্রুপ ‘অ্যানোনিমাসের’ সঙ্গে এর কোনো যোগসূত্র নেই। এরা মূলত ভুয়া নেটওয়ার্ক। তাদের নিয়ে ২০২৪ সালেই অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশ করেছিল নাইজেরিয়া-ভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ‘হামঅ্যাঙ্গেল’।
ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, এমন ২৪০টি পেজ রয়েছে এই গ্রুপটির। তারা আসলে আন্তর্জাতিক হ্যাকার অ্যাকটিভিস্ট গ্রুপ ‘অ্যানোনিমাসের’ নাম ব্যবহার করে গুজব ও ভুল ভবিষ্যদ্বাণী করে আসছে। এমন ভুল তথ্য ছড়িয়ে ফলোয়ার বাড়ায় তারা। এরপর অনেক টাকা জেতার নিশ্চয়তা দিয়ে জুয়ার টিকিট বিক্রি করে। ওই সময়ও বাংলাদেশ নিয়ে ভুল তথ্য ছড়িয়েছিল তারা।
সংবাদমাধ্যম গার্ডিয়ান বলছে, এসব ভুয়া পেজ কোনো দেশের অনিশ্চয়তা, মহামারি, অর্থনৈতিক সংকট ও ঝুঁকিপূর্ণ সময়কে টার্গেট করে। ওই সময় মানুষ এসবের ব্যাখ্যা চায়, এরপর কারও ওপর দোষ চাপাতে চায়। আর তখনই এসব তথ্য ছড়িয়ে কার্যসিদ্ধি করে ভুয়া পেজগুলো।
এসব পেজ থেকে মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে বিমান বিধ্বস্তের দিন ভাইরাল পোস্টগুলো এখন আর নেই। মজার ব্যাপার হচ্ছে, ওই সময় এই পোস্টের পর আরও কয়েকটি পোস্টে বলা হয়েছিল, ‘আমাদের সতর্কতা আমলে নেওয়া হচ্ছে না। আরও ভয়াবহ ঘটনা ঘটবে।’ এর মধ্যে একটি পোস্টে বলা হয়, ঢাকার গাউছিয়া মার্কেটে বোমা হামলা হতে পারে। কিন্তু এমন হয়নি।
ডিসমিসল্যাব বলছে, এই গ্রুপের পেজগুলো বেশিরভাগই ২০২২ ও ২০২৫ সালে তৈরি করা হয়েছে। একটা সময় এসব পেজের একটির ৩ লাখ ফলোয়ার ছিল। এসব পেজের লোকেশন নাইজেরিয়ায়।
তবে কয়েকটি পেজ চালানো হয় আমেরিকা, কানাডা, সাইপ্রাস, যুক্তরাজ্য ও অস্ট্রেলিয়া থেকে। দ্য আর্কিটেক্ট, কমান্ডার এক্স, দ্য প্রফেসর, জিকা বলিভিয়া নাম নিয়ে এসব পোস্ট করা হয়। তবে এই নামের ব্যক্তিরা এ ব্যাপারে অবগত নয়।



