পশ্চিমা সামরিক জোট ন্যাটো নিয়ে ফের বিতর্ক উঠেছে। রাশিয়ার সঙ্গে চলমান উত্তেজনা, ইউক্রেন যুদ্ধ এবং এশিয়া পর্যন্ত প্রভাব বিস্তার– সব মিলিয়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে নর্থ আটলান্টিকের এই সামরিক জোট।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শেষে সোভিয়েত ইউনিয়নকে ঠেকাতে ১৯৪৯ সালে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও পশ্চিম ইউরোপের ১০ দেশ মিলে গঠন করে নর্থ আটলান্টিক ট্রিটি অরগানাইজেশন (ন্যাটো)। যার মূল নীতি ছিল, ‘এক দেশের ওপর আক্রমণ মানে সবার ওপর আক্রমণ’।
১৯৫০-১৯৮৯ সালে স্নায়ুযুদ্ধ যুগে ন্যাটোকে টেক্কা দিতে ওয়ারশ চুক্তি করে সোভিয়েত ইউনিয়ন। ইউরোপ রূপ নেয় পারমাণবিক অস্ত্র প্রতিযোগিতার কেন্দ্রে। একে অপরকে ঠেকাতে সামরিক মহড়া ও গুপ্তচরবৃত্তি চললেও, সংঘাতে জড়ায়নি কেউই।
নব্বইয়ের দশকে স্নায়ুযুদ্ধের পর ১৯৯১ সালে ভেঙে যায় সোভিয়েত ইউনিয়ন। ফলে বিলুপ্ত হয় ওয়ারশ চুক্তি। প্রয়োজনীয়তা ফুরায় ন্যাটোর। কিন্তু সংযত হওয়ার বদলে আরও সক্রিয় হয়ে ওঠে এই সামরিক জোট।
ন্যাটোর প্রথম সরাসরি হস্তক্ষেপ ১৯৯৫ সালে বসনিয়া যুদ্ধে। কসোভো যুদ্ধেও ১৯৯৯ সালে হামলা চালায় এই জোট। নাইন-ইলেভেন হামলার পরই প্রথমবার আর্টিকেল ফাইভ সক্রিয় করে ন্যাটো। যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে আফগানিস্তানে চলে দীর্ঘ অভিযান।
২০১১ সালে লিবিয়ায় গাদ্দাফি সরকারের বিরুদ্ধে আর বিদ্রোহীদের সহায়তায় ব্যাপক হামলা চালায় ন্যাটো। এ কারণেই গৃহযুদ্ধ আর বিশৃঙ্খলায় বিপর্যস্ত লিবিয়া।
২০১৪ সালে ক্রিমিয়া দখল করে রাশিয়া। এরপর আবারও মস্কোবিরোধী হয়ে ওঠে ন্যাটো। সেনা ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা বাড়ায় পূর্ব ইউরোপে। আর ন্যাটোতে যোগদানের ইচ্ছা পোষণ এবং পশ্চিমা উস্কানিতেই ২০২২ সালে ইউক্রেনে শুরু হয় রুশ বিশেষ সামরিক অভিযান। সরাসরি যুদ্ধে না গেলেও, কিয়েভকে অস্ত্র, প্রশিক্ষণ, গোয়েন্দা তথ্য দিয়ে সহায়তা করছে ন্যাটো।
২০২৩ ও ২৪ সালে ফিনল্যান্ড-সুইডেন যোগ দেয়ায় ন্যাটো এখন ৩২ সদস্য দেশের জোট। অভিযোগ রয়েছে, চীনকে মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে এশিয়াতেও প্রভাব বাড়াতে চায় ন্যাটো। সম্প্রতি রাশিয়াকে সতর্ক করেছে পশ্চিমা এই সামরিক জোট। পোল্যান্ড, রোমানিয়া ও এস্তোনিয়ার আকাশসীমা লঙ্ঘনের জেরে এই সতর্কতা।



