পটুয়াখালীতে একটি কলেজের ছাত্রীনিবাস থেকে রিয়ামনি আক্তার মিলা নামের এক শিক্ষার্থীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় ওই শিক্ষার্থীকে স্ত্রী দাবি করা এক যুবককে আটক করেছে পুলিশ।
আজ রোববার সকাল ৯টার দিকে পটুয়াখালী মহিলা কলেজের ছাত্রীনিবাসের একটি কক্ষ থেকে ওই শিক্ষার্থীকে উদ্ধার করা হয়। পরে পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে জরুরি বিভাগের চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
রিয়ামনি দশমিনা উপজেলার সদর ইউনিয়নের মো. মনিরুল ইসলামের মেয়ে। তিনি ওই কলেজের বিজ্ঞান বিভাগের দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিলেন।
মিলার সহপাঠী ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, আজ সকাল ৮টার দিকে কলেজের ছাত্রীনিবাসে আসেন রিয়ামনি। সকাল সাড়ে ৯টার দিকে তাঁর সহপাঠী রুমমেটরা নাস্তা খেতে যান। সহপাঠীদের দাবি, এই সুযোগে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করেন মিলা। বিষয়টি টের পেয়ে সহপাঠীরা দরজা ভেঙে তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান। পরে খবর পেয়ে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠায়।
এদিকে, রিয়ামনির মৃত্যুর খবর পেয়ে দুপুর ১২টার দিকে পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মো. আবু নাহিয়ান অর্পন নামে এক যুবক গিয়ে নিজেকে মিলার স্বামী দাবি করেন। পরে পুলিশ তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করে।
এ বিষয়ে রিয়ামনির সহপাঠীদের বরাত দিয়ে কলেজের অধ্যক্ষ মুদাচ্ছির বিল্লাহ বলেন, ‘ ঘটনাটি ঘটে সকাল সোয়া ৯টা থেকে সাড়ে ৯টায় মধ্যে ঘটেছে। তার রুমমেটরা নাস্তা খেতে যাওয়ার সুযোগে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করে মিলার। রুমমেটরা এসে জানালা দিয়ে দেখতে পেয়ে দরজা ভেঙে রিয়ামনিকে উদ্ধার করে।’
কলেজের অধ্যক্ষ আরও বলেন, ‘রিয়াসনি গোল্ডেন জিপিএ পাওয়া একজন মেধাবী শিক্ষার্থী ছিল। সে বিজ্ঞান বিভাগে অধ্যায়নরত ছিল। সে ছাত্রী নিবাসে বসবাস করত।’
এ বিষয়ে সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইমতিয়াজ আহমেদ বলেন, ‘কলেজশিক্ষার্থীর স্বামী দাবি করা যুবক নাহিয়ানকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে।’



