পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় রক্ত ছিটিয়ে ‘নিখোঁজের নাটক সাজিয়ে’ প্রেমিকের সঙ্গে পালিয়ে যাওয়ার ৪ দিন পর গৃহবধূ আঁখি আক্তার ও তাঁর প্রেমিক হাসানকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলার পাদ্রীশিবপুর এলাকায় প্রেমিক হাসানের বাড়ি থেকে গতকাল শনিবার রাত সাড়ে ১২টার দিকে তাঁদের আটক করা হয়।
এর আগে মঙ্গলবার দিবাগত রাতে কলাপাড়া উপজেলার চাকামইয়া ইউপির পশ্চিম চাকামইয়া গ্রামের স্বামীর বাড়ি থেকে রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হন আক্তার। এ ঘটনায় গোটা এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে। এ ছাড়া আঁখি আক্তারের বাবার দায়ের করা মামলায় স্বামী বাড়ির ৭ জনকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠায় পুলিশ। তবে এ জুটি গ্রেপ্তারের পর রহস্যের জট খুলে যাওয়ায় অবাক বনে গিয়েছে পুলিশসহ স্থানীয়রা।
পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তার আঁখি আক্তার ছোট বোনের জন্য ৮ মাস আগে বিয়ের প্রস্তাব নিয়ে তাদের বাড়িতে আসেন হাসান। সেখানে পাত্র পছন্দ না হওয়ায় পরিবারের পক্ষ থেকে মোবাইল ফোনে জানিয়ে দেওয়ার দায়িত্ব নেন আঁখি আক্তার। পরে সেখান থেকেই শুরু হয় বিবাহবহির্ভূত প্রেমের কাহিনি। শুরুতে ফোনে কথা বললেও পরে গত বছরের ১৫ ডিসেম্বর মির্জাগঞ্জে গিয়ে বিয়ে করেন দুজন। আর একই সাথে দুই স্বামীর সঙ্গেই যোগাযোগ অব্যাহত রেখেছিলেন তিনি। তবে সম্প্রতি দুজন কাছাকাছি থাকতে অভিনব পরিকল্পনা করেন।
পরিকল্পনা অনুযায়ী প্রেমিক হাসানের শরীর থেকে সিরিজের মাধ্যমে রক্ত নিয়ে স্বামী আলমগীরের বাড়ির বিভিন্ন স্থানে ছিটিয়ে দেন আঁখি, যাতে সহজেই পুলিশসহ স্থানীয়দের চোখে ধুলো দিতে পারেন তাঁরা। তবে পটুয়াখালী ডিবি পুলিশ ও কলাপাড়া থানা পুলিশের যৌথ প্রচেষ্টায় তথ্য প্রযুক্তির মাধ্যমে ধরা পড়েন দুজন।
পুলিশ আরও জানায়, অবিবাহিত প্রেমিককে আপন করে পেতে বর্তমানে নিজের তিন সন্তানকেও অস্বীকার করছেন আঁখি আক্তার। এদিকে এই পরিকল্পনাকারী হাসান ও আঁখি আক্তারের কঠোর বিচারের দাবিতে কলাপাড়া থানার সামনে ভিড় জমান শত শত বিক্ষুব্ধ জনতা।
বিষয়টি নিশ্চিত করে কলাপাড়া থানার ওসি (তদন্ত) মোস্তাফিজুর রহমান জানান, তথ্য প্রযুক্তির মাধ্যমে দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁদের আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।


ঘর থেকে রাস্তা পর্যন্ত রক্তের দাগ, কলাপাড়ায় গৃহবধূ নিখোঁজের ঘটনায় স্বামীসহ গ্রেপ্তার ৭
