পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আমিনুল ইসলামের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার ও শিক্ষার্থীদের ওপর সন্ত্রাসী হামলার অভিযোগ এনে তাঁর অপসারণসহ চার দফা দাবি জানিয়ে পটুয়াখালী জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি দিয়েছে জেলা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতারা। মঙ্গলবার বিকেল ৪টায় তারা এ স্মারকলিপি দেয়।
স্মারকলিপি দেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের শিক্ষার্থী মিরাজ ইমতিয়াজ, সৈয়দা রুশদা, সাকের হোসেন ও আহমেদ ফাহাদ।
স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়, বাউফলে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের অংশ হিসেবে স্থানীয় শিক্ষার্থীরা এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করলে ইউএনওর নির্দেশে তাঁর আশ্রিত সন্ত্রাসী ও আনসার বাহিনী ওই শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালায়। এতে বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী আহত হয় এবং এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
স্মারকলিপিতে আরও অভিযোগ করা হয়, হামলার পর ভুক্তভোগীরা থানায় গেলে ওসি তাদের অভিযোগ না নিয়ে শুধু একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করতে বাধ্য করেন। অথচ হামলার ঘটনার ভিডিও ফুটেজ ও হামলাকারীদের পরিচয় থাকা সত্ত্বেও এখন পর্যন্ত কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
মিরাজ ইমতিয়াজ বলেন, ‘আমরা দুর্নীতির বিরুদ্ধে মুখ খুলতে চেয়েছিলাম, আর সেজন্যই হামলার শিকার হয়েছি। এটা শুধু আমাদের ওপর নয়, বাকস্বাধীনতার ওপরও আঘাত।’
সৈয়দা রুশদা বলেন, ‘এত বড় ঘটনা ঘটার পরও প্রশাসনের নীরবতা আমাদের বিস্মিত করেছে। থানায় গিয়েও আমরা বিচার চাইতে পারিনি। আমাদের দাবি বাউফল উপজেলার ইউএনওকে অবিলম্বে অপসারণ, হামলায় জড়িত চিহ্নিত সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি, ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং সাংবাদিকদের হুমকি ও সংবাদমাধ্যমে হস্তক্ষেপের তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া।
জেলা প্রশাসক আবু হাসনাত মোহাম্মদ আরেফিন স্মারকলিপি গ্রহণ করে বলেন, ‘ঘটনাটি ইতোমধ্যে স্থানীয়ভাবে ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে। নাগরিক সমাজ এবং শিক্ষার্থীরা দ্রুত বিচার ও প্রশাসনিক জবাবদিহিতা নিশ্চিতের দাবি জানিয়েছে।’



