বান্দরবানের রোয়াংছড়িতে সেনাবাহিনীর সাথে গোলাগুলিতে কুকি–চিন ন্যাশনাল আর্মির (কেএনএ) ৩ সদস্য নিহত হয়েছে। শনিবার রাতে উপজেলার রোনিন পাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
এসময় অস্ত্র ও বেতার যন্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। তবে এখনো নিহতদের নাম পরিচয় পুরোপুরি নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
স্থানীয়রা বলছেন, শনিবার রাতে ওই এলাকায় অভিযান চালায় সেনাবাহিনী। এসময় তাদের সাথে সশস্ত্র সন্ত্রাসী গোষ্ঠি কেএনএ সদস্যদের সাথে গোলাগুলি হয়। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত মরদেহ ঘটনাস্থলেই রয়েছে।
সেখানে সতর্ক অবস্থায় আছেন যৌথ বাহিনীর সদস্যরা। এ নিয়ে এখন পর্যন্ত কেএনএ–এর ৭ সদস্য নিহত হলেন।
গত ২ এপ্রিল রাতে তারাবি নামাজের সময় বান্দরবানের রুমা শাখা সোনালী ব্যাংক ও আশপাশের এলাকা ঘিরে ফেলে শতাধিক সশস্ত্র দুর্বৃত্ত। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, মসজিদ থেকে ব্যাংক ম্যানেজার নেজাম উদ্দিনকে ধরে নিয়ে ব্যাংকের ভেতরে মারধর করে তারা। পরে তাঁকে অপহরণ করে নিয়ে যায়।
এ সময় ব্যাংকের নিরাপত্তায় নিয়োজিত ১০ পুলিশ ও ৪ আনসার সদস্যকে নিরস্ত্র করে ৮টি চাইনিজ অটোমেটিক রাইফেল, ২টি এসএমজি, ৪টি শটগান ও ৪১৫ রাউন্ড গুলি ছিনিয়ে নেয় দুর্বৃত্তরা। এ ঘটনায় ২ পুলিশ সদস্য আহত হন। এর পরদিন থানচিতে আরও দুটি ব্যাংকে ডাকাতি হয়।
৪ এপ্রিল রাতে অপহৃত সোনালী ব্যাংক কর্মকর্তা নেজাম উদ্দিনকে রুমা বাজার থেকে উদ্ধার করে র্যাব। এর পরপরই থানচি থানা থেকে গোলাগুলির শব্দ শোনেন স্থানীয়রা। প্রায় ঘণ্টাব্যাপী এই গোলাগুলি চলে।
স্থানীয়রা বলছেন, থানচি থানার পাশে প্রথম গোলাগুলির শব্দ শোনা যায়। পরে তা থানচি বাজারের কাছে চলে আসে। এ সময় কেএনএফ সদস্যদের সঙ্গে পুলিশের গুলি বিনিময় হয়। পুলিশ জানিয়েছে, থানায় হামলা প্রতিহত করতে গিয়ে তাঁরা প্রায় ৫০০ রাউন্ড গুলি ছুড়েছে।
এর রেশ কাটতে না কাটতেই ওইদিন মধ্যরাতে আলীকদমের ২৬ মাইল ডিম পাহাড় এলাকায় যৌথবাহিনীর চেক পোস্টে হামলা হয়। সবগুলো ঘটনার সঙ্গেই কুকি–চিন ন্যাশনাল ফ্রন্ট (কেএনএফ) জড়িত বলে পরে জানা যায়। কেএনএ হলো কেএনএফের সামরিক শাখা।
এরপর থেকেই পার্বত্য অঞ্চলে অভিযান শুরু করে যৌথবাহিনী। অভিযানের মধ্যে গত ৭ এপ্রিল কেএনএফের অন্যতম প্রধান সমন্বয়ক চেওশিম বমসহ প্রায় বহু সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে যৌথ বাহিনী। এদের মধ্যে অনেক নারী সদস্যও আছেন।


গহীন পাহাড়ে কঠোর প্রশিক্ষণ, যা বললেন কুকি–চিনের আকিম বম
রুমায় সেনা অভিযানে ১ কেএনএ সদস্য নিহত
