ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে সুষ্ঠু ভোট নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন এক চেয়ারম্যান প্রার্থী। জানিয়েছেন নিজের জীবনের শঙ্কার কথাও। রাশেদুল কাউসার ভূইয়া জীবন নামের এই প্রার্থী উপজেলা পরিষদের বর্তমান চেয়ারম্যান। তিনি দুই মেয়াদে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী আনিসুল হকের এপিএস ছিলেন।
উপজেলা নির্বাচনের দ্বিতীয় পর্যায়ে আগামীকাল মঙ্গলবার কসবায় ভোট হবে। সোমবার দুপুরে কসবা উপজেলা সদরে নিজ বাসভনের সামনে সংবাদ সম্মেলন ডেকে জীবন অভিযোগ করেন, মন্ত্রীর গ্রামে তাঁর দুই ব্যক্তিগত সহকারীর ভয়ে নির্বাচনি প্রচার চালাতে পারেননি তিনি।
কসবা উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের অপর প্রার্থী কুটি ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান সাইদুর রহমান স্বপনের পক্ষে আইনমন্ত্রীর ব্যক্তিগত সহকারীরা কাজ করছে বলে অভিযোগ জীবনের। স্বপন আইনমন্ত্রী আনিসুল হকের আপন ফুফাতো ভাই।
রাশেদুল কাউসার ভূইয়া জীবন বলেন, ‘সোমবার ভোররাতে আমার অন্যতম সমর্থক ও নির্বাচনের এজেন্ট, উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক এমদাদুল হক পলাশকে (৩৫) কুপিয়ে জখম করে দুর্বৃত্তরা। এরআগে রোববার বিকেলে আমার আরও কয়েকজন সমর্থককে মারধর করা হয়।’
আইনমন্ত্রীর দুই ব্যক্তিগত সহকারী শফিকুল ইসলাম সোহাগ ও আলাউদ্দিন বাবু চেয়ারম্যান প্রার্থী সাইদুর রহমান স্বপনের সমর্থক বলে অভিযোগ করেছেন রাশেদুল কাউসার ভূইয়া জীবন।
সুষ্ঠু নির্বাচন নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করে সংবাদ সম্মেলনে উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী জীবন বলেন, ‘আমি আইনমন্ত্রীর গ্রাম পানিয়ারূপে যেতে পারি না। মন্ত্রীর পিএ সোহাগ ও বাবুর নেতৃত্বে কসবায় ত্রাস সৃষ্টি করা হয়েছে। এরা প্রত্যেক ঘরে-ঘরে যাচ্ছে। আমার এজেন্টদের বাঁধা দিচ্ছে। আমার লোকজনদের চাকরির লোভসহ বিভিন্ন লোভ দেখিয়ে আমার নির্বাচন নষ্ট করার জন্য চেষ্টা করছে।’
সোহাগ ও বাবু প্রশাসনকে প্রভাবিত করছেন উল্লেখ করে চেয়ারম্যান প্রার্থী জীবন আরও বলেন, ‘তাঁরা (সোহাগ ও বাবু) বেশি ক্ষতি করছে। মন্ত্রীর নামও বিক্রি করছে তাঁরা। আমার এজেন্টদের তাঁরা ভয় দেখাচ্ছে কেন্দ্রে না যাওয়ার জন্য।’
জীবন আরও বলেন, ‘আমি আইনমন্ত্রীর দুইবারের এপিএস। আমি নির্বাচন করতে গিয়ে হুমকির মুখে পড়ছি। আমি প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে সুষ্ঠু নির্বাচন চাই। আমার ওপর অন্যায়-অত্যাচার হচ্ছে। আমি প্রাণ নিয়ে শঙ্কায় আছি। যে কেনো সময় আমি আক্রান্ত হতে পারি।’
তবে চেয়ারম্যান প্রার্থী জীবনের সব অভিযোগ হাস্যকর দাবি করে আইনমন্ত্রীর ব্যক্তিগত সহকারী আলাউদ্দিন বাবু বলেন, ‘ওনি (জীবন) যা বলেন, সম্পূর্ণ মিথ্যা কথা বলেন।’
প্রসঙ্গত, কসবায় দুই চেয়ারম্যান প্রার্থীর একজন বর্তমান উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. রাশেদুল কাউসার ভূইয়া জীবন। তিনি এক সময় আইনমন্ত্রীর এপিএস হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন, বলা চলে ২৫ বছরের সঙ্গী। অন্যদিকে ভোটের মাঠে তাঁর শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে সামনে এসেছেন ছাইদুর রহমান স্বপন। তিনি আনিসুল হকের ফুফাত ভাই। জীবন লড়ছেন আনারস প্রতীকে আর স্বপনের প্রতীক কাপ-পিরিচ।
এ নির্বাচনের শুরু থেকেই নিরপেক্ষ অবস্থানে থাকার কথা বলে এসেছেন আনিসুল হক। তবে স্থানীয় আওয়ামী লীগ এবং পৌরসভা ও ইউনিয়নের জনপ্রতিনিধিরা বিভক্ত হয়ে পড়েছেন দু’প্রার্থীকে ঘিরে।



