কুমিল্লার লাকসামে এক গৃহবধূকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগে পাঁচজনের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। অভিযুক্ত পাঁচজনকেই গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন লাকসাম উপজেলার মনোহরপুর এলাকার মৃত খলিলুর রহমানের ছেলে মোহাম্মদ আলী (২৫), পৌরসভার শ্রীপুর মধ্যপাড়ার মো. মমিনের ছেলে মো. মাসুদ (২৩), বাতাখালী এলাকার আবু তাহেরের ছেলে মনির হোসেন হৃদয় (২৩), উত্তর বিনই এলাকার মৃত ছিদ্দিকুর রহমানের ছেলে আল আমিন (২৩) ও মধ্য লাকসাম এলাকার মৃত মোস্তাফিজ মজুমদারের স্ত্রী বিলকিছ আক্তার কল্পনা (৪০)।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা লাকসাম থানার পুলিশ উপ পরিদর্শক মো. আনোয়ার হোসেন এসব বিষয় নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, ১৬ মার্চ ওই তরুণীর মা লাকসাম থানায় একটি মামলা করেন। যে পাঁচজনকে আসামি করে মামলা করা হয়েছে তাঁদের সবাইকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আজ তাঁদেরকে কুমিল্লা আদালতে নিয়ে আসা হয়েছে।
লাকসাম থানার ওসি নাজনীন সুলতানা বলেন, ‘ওই তরুণীর পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে দ্রুত তদন্ত শুরু করা হয়। পুলিশ দিনভর অভিযান চালিয়ে পাঁচ আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে। সোমবার তাদের আদালতে পাঠানো হবে। আমরা এ ঘটনায় কঠোর অবস্থানে রয়েছি।’
পুলিশ জানায়, নোয়াখালী জেলার সোনাপুর এলাকার এক তরুণী (১৯)ও তাঁর স্বামী গত ১৩ মার্চ লাকসামে তাঁর নানা শ্বশুরবাড়িতে যান। ১৪ মার্চ ভোরে তাঁরা লাকসাম বাইপাস মোড় থেকে বাড়ি ফেরার জন্য একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশাতে ওঠেন। অটোরিকশা চালক মো. মাসুদ তাঁরা স্বামী-স্ত্রী কিনা জানতে চেয়ে সন্দেহ প্রকাশ করে। এক পর্যায়ে কৌশলে লাকসামের গন্ডামারা এলাকায় নিয়ে যায়। অভিযুক্তরা তাঁদের ব্যাগ তল্লাশি করে এবং পরিকল্পিতভাবে লালমাই উপজেলার মগবাড়ি এলাকায় নিয়ে স্বামীকে ফেলে রেখে তরুণীকে অপহরণ করে।
পুলিশ আরও জানায়, অপহরণের পর অভিযুক্তরা ওই গৃহবধূকে সাবেক স্থানীয় সরকার মন্ত্রীর পরিত্যক্ত বাড়িতে নিয়ে যায়। সেখানে মো. মাসুদ ও মোহাম্মদ আলী তাঁকে ধর্ষণ করে। পরে ওই গৃহবধূকে লাকসাম পৌর শহরের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের তালুকদার ভিলায় অভিযুক্ত বিলকিছ আক্তার কল্পনার ভাড়া বাসায় নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তাঁকে পুনরায় ধর্ষণ করা হয় বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।
এদিকে ঘটনার পর ভুক্তভোগীর স্বামী তাঁদের স্থানীয় আত্মীয়-স্বজনের সহযোগিতায় তাঁকে উদ্ধার করে লাকসাম থানায় নিয়ে যান। পরে তাঁর মা বাদী হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে লাকসাম থানায় মামলা করেন।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মো. আনোয়ার হোসেন জানান, ভুক্তুভোগীকে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। তিনি সেখানেই ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে চিকিৎসা নিচ্ছেন। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আদালতের নির্দেশে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।



