চট্টগ্রাম থেকে ঢাকাগামী মহানগর এক্সপ্রেস ট্রেনে টিকিটধারী এক যাত্রীর কাছ থেকে অনৈতিক সুবিধা না পেয়ে মারধর করেন বাংলাদেশ রেলওয়ের এক কর্মচারী। ভুক্তভোগী যাত্রী ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলার বাসিন্দা। তিনি আসনবিহীন টিকিট কেটে ট্রেনে ওঠেছিলেন। তবুও টাকা চান ওই রেলকর্মী। এ ঘটনার খবর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে কসবা স্টেশনে জড়ো হয় কসবা উপজেলার কয়েক শ মানুষ। নিরাপত্তার স্বার্থে ট্রেনটি কসবার আগের মন্দভাগ রেলস্টেশনে একঘণ্টার বেশি সময় দাঁড় করিয়ে রাখে রেল কর্তপক্ষ।
রোববার বিকেলে যাত্রীকে মারধর ও ট্রেন আটকে পড়ার এ ঘটনা হয়। এছাড়া ঢাকামুখী সামনের আরও দুই স্টেশন আখাউড়া ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় জড়ো হয় বিক্ষুব্ধ অনেকে। এ ঘটনায় জড়িত রেল কর্মচারীর বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা হিসেবে সাময়িক বরখাস্ত করাসহ পুলিশের হাতে তুলে দিয়েছে রেল কর্তৃপক্ষ।
ঘটনার শিকার কসবার বিনাউটি ইউনিয়নের সৈয়দাবাদ গ্রামের হেলাল মিয়া (৫০) বলেন, ‘চট্টগ্রাম থেকে আসনবিহীন টিকিট নিয়ে ট্রেনের পাওয়ার কার সংলগ্ন ছোট কামরায় উঠেছিলাম আমি। কামরাটির দায়িত্বরত কর্মচারী কাউসার টিকিট থাকার পরও আমার কাছে দুই শ টাকা দাবি করে। টাকা না দেওয়ায় আমার শার্টের কলার ধরে কিলঘুষি মারে। শার্টটি ছিড়েও ফেলে। সেময় কাউসারের আরেক সহকর্মীও আমাকে মারধর করে। ঘটনাটি আমার ছেলেকে জানালে সে ফেসবুকে পোস্ট দেয়। এরপরই শতশত মানুষ কসবা স্টেশনে জড়ো হয়।’
কসবা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আবদুল কাদের বলেন, ‘যাত্রীকে রেল কর্মচারীর মারধরের ঘটনার জেরে কসবা রেলস্টেশনে জড়ো হয় শতশত ক্ষুব্ধ মানুষ। ঘটনার বিষয়ে ফেসবুকে পোস্ট দেওয়া হয়। এরপরই সবাই স্টেশনে জড়ো হয়। খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে গিয়ে সবাইকে বুঝিয়ে ট্রেনটির চলাচলের ব্যবস্থা করি।’
ওসি আরও বলেন, ‘ট্রেনটিতে হামলা হতে পারে এই আশঙ্কায় কসবার পূর্ববর্তী স্টেশন মন্দভাগে ট্রেনটিকে এক ঘণ্টার বেশি সময় দাঁড় করিয়ে রাখা হয়। পরিবেশ অনুকূলে এলে ট্রেনটি পৌনে ৪টার স্থলে পৌনে ৫টায় কসবা স্টেশন হয়ে ঢাকার পথে যাত্রা করে।’
কসবার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. সামিউল ইসলাম বলেন, ‘ফেনীতে ট্রেনটির পাওয়ার কার অপারেটর কাউসার কসবার এক যাত্রীকে মারধর করে। এই খবর এলাকায় পৌঁছলে ট্রেনটি কসবা স্টেশনে আসার আগে ছাত্র–জনতা সেখানে জড়ো হয়, তারা ট্রেন আটকে দিতে চেয়েছিল। এই খবর পেয়ে আমি সেনা সদস্যদের নিয়ে স্টেশনে যাই। তাদের বোঝানোর চেষ্টা করি– অনাকাঙ্খিত ঘটনা যে ঘটিয়েছে রেল কর্তৃপক্ষ তাঁকে প্রত্যাহার করেছে। তাঁর বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা তারা নেবে। আমরা সেখান থেকে চলে যাওয়ার অনুরোধ করলে তারা চলে যায়। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে ট্রেন আসে। এরআগে মন্দভাগ স্টেশনে ট্রেনটি এক ঘণ্টা দাঁড়িয়ে ছিল।’
অন্যদিকে, ফেসবুকে রেলযাত্রীদের একাধিক পেইজ ও গ্রুপে এ ঘটনার দুটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে। প্রথম ভিডিওতে দেখা যায়, মারধরের শিকার যাত্রী হেলাল মিয়া কেঁদে কেঁদে নিজের ওপর হওয়া অন্যায়ের বর্ণনা দিচ্ছেন। এই ভিডিওর নিচে নানা মন্তব্য করেছেন বিক্ষুব্ধ অনেকে। দ্বিতীয় ভিডিওতে দেখা যায়, অভিযুক্ত পাওয়ার কার অপারেটর কাউসারকে হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে আসছে পুলিশ। এ অবস্থায় ভুক্তভোগী যাত্রী হেলালের পা ধরে ক্ষমা চাওয়ার চেষ্টা করছেন ওই রেলকর্মী। এসময় যাত্রী হেলাল রেলকর্মীকে জড়িয়ে ধরে বলছেন, আমি মাফ করে দিয়েছি। পাশে থেকে ট্রেনটির দায়িত্বরত এক কর্মকর্তা বলছেন, তাঁকে (কাউসার) সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।



