লক্ষ্মীপুরের চন্দ্রগঞ্জে একটি বাড়িতে সংঘটিত দুর্ধর্ষ ডাকাতির ঘটনায় জড়িত পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ সময় তাদের কাছ থেকে লুণ্ঠিত মালামালের একটি বড় অংশ—২৬ লাখ টাকা মূল্যের সোনা ও নগদ ৩ লাখ ৫ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়েছে।
গ্রেপ্তারদের মধ্যে ডাকাতিতে সরাসরি অংশ নেওয়া দুইজন এবং লুণ্ঠিত সোনা কেনাবেচার সঙ্গে জড়িত তিনজন স্বর্ণ ব্যবসায়ী রয়েছেন। স্বর্ণ ব্যবসায়ীরা হলেন—শুভ কর্মকার (৩০), অরূপ রায় (৩০) ও স্বরূপ রায় (২৬)। তাদের দোকান থেকে আরও প্রায় ৭ ভরি সোনা উদ্ধার করা হয়।
সোমবার বিকেলে বিষয়টি নিশ্চিত করেন জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার। তিনি জানান, রোববার রাতে বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশ জানায়, গত ৯ মার্চ দিবাগত রাত আনুমানিক ২টা থেকে সাড়ে ৩টার মধ্যে চন্দ্রগঞ্জ থানার কুশাখালী ইউনিয়নের একটি একতলা বাড়িতে ৭–৮ জনের একটি ডাকাত দল হানা দেয়। ডাকাতরা গৃহকর্তাকে বেঁধে জিম্মি করে বাড়ি থেকে ২৯ ভরি ৬ আনা ওজনের স্বর্ণালঙ্কার, নগদ ১ লাখ টাকা এবং একটি মোবাইল ফোন লুটে নেয়। এসবের মোট বাজারমূল্য প্রায় ৫৯ লাখ ৯৭ হাজার টাকা।
এ ঘটনায় চন্দ্রগঞ্জ থানায় মামলা দায়েরের পর তদন্ত শুরু করে পুলিশ। লক্ষ্মীপুর জেলা পুলিশ সুপার মো. আবু তারেকের নির্দেশনায় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) ও ডিবি পুলিশের একটি দল বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটন এবং অভিযুক্তদের অবস্থান শনাক্ত করা হয়।
অভিযানে ডাকাতির মূল অভিযুক্ত মো. খোরশেদ আলম (৪০) ও শাহাদাত হোসেন মোহনকে (২৭) গ্রেপ্তার করা হয়। খোরশেদের বাড়ি থেকে নগদ ৩ লাখ টাকা ও ২ ভরি ১০ আনা সোনা এবং মোহনের কাছ থেকে নগদ ৫ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়।
পরবর্তীতে তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে লুণ্ঠিত সোনা কেনার অভিযোগে তিন স্বর্ণ ব্যবসায়ীকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশের তথ্যমতে, অভিযানে সর্বমোট ১০ ভরি ৫ আনা ৩ রতি সোনা উদ্ধার করা হয়েছে, যার বর্তমান বাজারমূল্য আনুমানিক ২৬ লাখ টাকা।
লক্ষ্মীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) হোসাইন মোহাম্মদ রায়হান কাজেমী স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে আদালতে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্য ডাকাতদের গ্রেপ্তার এবং অবশিষ্ট মালামাল উদ্ধারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।



