নন্দিত কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার ও চলচ্চিত্রকার হুমায়ূন আহমেদের প্রয়াণ দিবস আজ। ২০১২ সালের ১৯ জুলাই তিনি নিউইয়র্কের বেলভিউ হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। গবেষক ও প্রকাশকরা বলছেন, মৃত্যুর ১৪ বছর পরও সমান জনপ্রিয় হুমায়ূন। এখনো বই মেলায় সবচেয়ে বেশি বিক্রি হয় তাঁর লেখা বই।
আধুনিক বাংলা কথা-সাহিত্যে নতুন ধারার স্রষ্টা হুমায়ূন আহমেদ। তাঁর সাবলীল কথ্য ভাষায় সাধারণ মধ্যবিত্ত জীবনের নিখুঁত চিত্রায়ণ ছুঁয়ে গেছে পাঠক হৃদয়।
হিমু, মিসির আলী, শুভ্র হয়ে ওঠে বাঙালি তরুণ মনের ফ্যান্টাসি। স্বাধীনতা-উত্তর সাহিত্যিকদের মধ্যে হুমাযূন আহমেদের তৈরি করা কাল্পনিক চরিত্র পাঠকদের করেছে মুগ্ধ । তাই, মৃত্যুর প্রায় দেড় দশক পরেও বইমেলা থেকে পাঠচক্র, ডিজিটাল মাধ্যমে-এখনো প্রাসঙ্গিক এই লেখক।
অন্যপ্রাকশের প্রধান নির্বাহী মাজহারুল ইসলাম বলেন, ‘মানুষের জীবনকে পাঠ করার অসাধারণ ক্ষমতা তার মধ্যে ছিল। এখনো তার লেখা সবচেয়ে জনপ্রিয়। এটি আরও ৫০ থেকে ১০০ বছর স্থায়ী হবে।’
তাঁর প্রকাশিত তিন শ’র বেশি বইয়ে উপন্যাসই অর্ধেক। যেখানে গভীর বিষাদের সাথে রসবোধের মিশ্রণ, হুমায়ূন আহমেদের অবস্থানকে বাংলা সাহিত্যে অনন্য। তবে তাঁর ছোট উপন্যাস নিয়ে নিরীক্ষাধর্মী আলোচনা কম বলে মনে করেন সাহিত্য-সমালোচকরা।
বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক ড. মোহাম্মদ আজম বলেন, ‘হুমায়ূন আহমেদের লেখার যে ভ্যারাইটি এটা অতুলনীয়। তাঁর বেশ কিছু ছোট উপন্যাস রয়েছে যা অসাধারণ। এগুলো আলোচনার বাইরে রয়ে গেছে।’
বাংলা সাহিত্যের পাঠক সৃষ্টিতে বিস্ময়কর ভূমিকা রেখেছেন হুমায়ূন আহমেদ। গড়েছেন নিজস্ব পাঠক বলয়। শুধু সাহিত্যে আলো ছড়াননি হুমায়ূন আহমেদ। তাঁর হাত ধরেই সৃষ্টি হয়েছে নতুন ধারার নাটক ও চলচ্চিত্র।



