লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জে ফরিদ আহমেদ ভূঁইয়া একাডেমির অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী মেহেদী হাসানকে পিটিয়ে হত্যা করার অভিযোগে রামগঞ্জ থানায় মামলা করা হয়েছে।
নিহত স্কুল ছাত্র মেহেদী হাসানের বাবা জিয়া উদ্দিন বাদী হয়ে রাতে থানায় এই মামলা করেন। মামলায় ফরিদ আহমেদ ভূঁইয়া একাডেমির অধ্যক্ষ অধ্যাপক আবদুল মান্নান ও কয়েকজন ছাত্রসহ আটজনের নাম উল্লেখ করে আরও ১০ জনকে অজ্ঞাত আসামি করা হয়।
ঘটনার দুইদিন পর এই হত্যা মামলা করা হয়। বৃহস্পতিবার রাত ১টার দিকে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার( প্রশাসন অর্থ) হোসাইন মোহাম্মদ রায়হান কাজেমী বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, মামলার আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।
মামলার এজাহারে অভিযোগ করা হয়, মোবাইলফোন চুরির অপবাদ দিয়ে মেহেদী হাসানের ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালানো হয়। নির্যাতনের এক পর্যায়ে অসুস্থ হয়ে তার মৃত্যু ঘটে। ঘটনাটি কে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা করা হয়।
এদিকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ সুপার মো. আবু তারেক ঘটনাস্থল ফরিদ আহমেদ ভূঁইয়া একাডেমি প্রাঙ্গণ ও ঘটনার মূল স্থান পরিদর্শন করেন। পরিদর্শনকালে তিনি তদন্তকারী কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট পুলিশ সদস্যদের আসামীদের দ্রুত গ্রেপ্তার এবং সর্বোচ্চ নিরপেক্ষতার সাথে তদন্ত সম্পন্ন করার কঠোর নির্দেশ দেন।
অপরদিকে ঘটনার পর থেকে মামলা নিতে জড়িতদের গ্রেপ্তার ও বিচারের দাবিতে প্রতিষ্ঠান, রামগঞ্জ উপজেলা ও থানার সামনে অবস্থান নিয়ে নানা কর্মসূচি পালন করেন নিহত মেহেদী হাসানের সহপাঠিসহ অভিভাবকরা। পাশাপাশি বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী শোক র্যালি, বিক্ষোভ ও সড়ক অবরোধ করা হয়।
এসময় বিভিন্ন স্কুল- কলেজের শিক্ষার্থীরা ব্যানার, ফেস্টুন ও প্ল্যাকার্ড হাতে লেখা ছিল—‘মেহেদী হত্যার বিচার চাই’, ‘শিক্ষকের হাতে ছাত্র খুন কেন? জবাব চাই’, ‘খুনিদের ফাঁসি চাই’ ইত্যাদি।
বিক্ষোভে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান শিক্ষার্থীদের জন্য নিরাপদ আশ্রয়স্থল হওয়ার কথা থাকলেও শিক্ষক ও সিনিয়র শিক্ষার্থীদের নির্যাতনের শিকার হয়ে মেহেদী হাসানকে প্রাণ হারাতে হয়েছে। তারা এ ঘটনাকে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড হিসেবে উল্লেখ করেছে।
উল্লেখ্য, গত ১৬ জুন রামগন্জ উপজেলার ফরিদ আহমেদ ভূঁইয়া একাডেমির অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী মেহেদী হাসানের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। হামলা ও ভাঙচুর চালানো হয় প্রতিষ্ঠানে।



