বেশি দামে বিক্রির আশায় পাইপ দিয়ে জোর করে ছাগলকে অতিরিক্ত পানি খাইয়ে ওজন বাড়ানোর একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুরে পশুর প্রতি অমানবিক আচরণ ও ক্রেতাদের সঙ্গে প্রতারণার অভিযোগে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত ছাগল ব্যবসায়ী চাঁন বাদশা আত্মগোপনে রয়েছেন।
জানা গেছে, গত বুধবার সকালে বাঞ্ছারামপুর উপজেলার রূপসদী বাজারে এ ঘটনা ঘটে। অভিযুক্ত চাঁন বাদশা উপজেলার কড়ইকান্দি গ্রামের মো. সাবুদ্দিনের (সাব মিয়া) ছেলে। তিনি আইয়ুবপুর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের নেতা বলেও জানা গেছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, সেদিন সকালে বিক্রির উদ্দেশ্যে একটি ছাগল রূপসদী বাজারে নিয়ে আসেন চাঁন বাদশা। সেখানে ছাগলটির ওজন বাড়ানোর জন্য পাইপের মাধ্যমে অতিরিক্ত পানি খাওয়ানো হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, একটি প্লাস্টিকের বোতল দিয়ে তৈরি ফানেলে মগ দিয়ে পানি ঢালা হচ্ছে। সেই পানি কয়েক হাত লম্বা পাইপের মাধ্যমে ছাগলটির মুখে ঢোকানো হচ্ছে। এ সময় ছাগলটিকে দুই পা দিয়ে চেপে ধরে রাখা হয়।
ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর অভিযুক্ত চাঁন বাদশা আত্মগোপনে চলে যান। তাকে গ্রেপ্তারে পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে।
বাঞ্ছারামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তারিকুল ইসলাম বলেন, ‘অভিযুক্তকে শনাক্ত করা হয়েছে। তাকে গ্রেপ্তারে পুলিশ কাজ করছে।’
এদিকে স্থানীয়ভাবে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কড়ইকান্দি গ্রামের চাঁন বাদশাসহ ছাগল-খাসি বিক্রির সঙ্গে জড়িত আরও কয়েকজন ব্যবসায়ী নিয়মিত এ ধরনের কাজ করেন। অভিযোগ রয়েছে, হাটে নেওয়ার আগে বাড়িতে কিংবা হাটের আশপাশে ছাগল ও খাসিকে অতিরিক্ত পানি খাইয়ে সাময়িকভাবে ওজন বাড়িয়ে বেশি দামে বিক্রি করা হয়।
স্থানীয় সূত্রের দাবি, কড়ইকান্দি গ্রামের কয়েকজন ব্যবসায়ী দীর্ঘদিন ধরে এ কৌশলে ছাগল-খাসি বিক্রি করে আসছেন। তারা রাজশাহীসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে এবং স্থানীয়ভাবে ছাগল-খাসি কিনে এনে অতিরিক্ত পানি খাইয়ে ওজন বাড়িয়ে নারায়ণগঞ্জের গাউছিয়া-গোলাকান্দা, ঢাকার ডেমরা-সারুলিয়া, নরসিংদীর মাধবদী ও বাবুরহাট, বাঞ্ছারামপুর, কুমিল্লার হোমনা উপজেলার ঘাড়মোড়া বাজার, শ্রীঘর বাজারসহ দেশের বিভিন্ন পশুর হাটে বেশি দামে বিক্রি করেন।
তবে স্থানীয়দের এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।



