মাদক মামলার আসামিদের সুস্থ-স্বাভাবিক জীবনে ফেরাতে ফেনী পুরাতন জেলা কারাগারকে বিশেষ কারাগারে রূপ দেওয়া হয়েছে। পাঁচ জেলার তিন শতাধিক বন্দি রয়েছেন। তাদের পুনবার্সনের লক্ষ্যে এই উদ্যোগের কথা জানান কারা কর্মকর্তারা। তবে, বন্দিরা যেন ভেতরে মাদক সেবন ও বেচাকেনা করতে না পারে, সেজন্য নজরদারি বাড়ানোর তাগিদ স্থানীয়দের।
২০২৫ সালের নভেম্বরে ফেনীর পুরাতন জেলা কারাগারকে মাদকাসক্ত বন্দিদের পুনর্বাসন ও সংশোধনাগার হিসেবে রূপ দেয়া হয়। জেলার পাশাপাশি চট্টগ্রাম, কুমিল্লা, ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও নোয়াখালীর মাদক মামলার আসামিদের রাখা হয় এখানে।
বর্তমানে এই সংশোধনাগারে রয়েছেন মাদক মামলার ৩১৬ জন বন্দি। এর মধ্যে সাজা হয়েছে ১৯৪ জনের। বাকিদের মামলা এখনো বিচারাধীন।
এক বন্দীর স্ত্রী দাবি করেন, নামের ভুলে তার স্বামীকে গ্রেপ্তার করে মাদক মামলায় কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
আরেক বন্দীর ভাই বলেন, আমি আমার ভাইয়ের সঙ্গে দেখা করতে এসেছি। আগেও একবার দেখা করেছি। আমার ভাই জানিয়েছে তাকে মাদক মামলায় ফাঁসানো হয়েছে।
বিশেষায়িত কারাগার প্রতিষ্ঠাকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন জেলার সচেতন মানুষ। তবে,অসৎ কর্মকর্তাদের সহায়তায় বন্দিরা যাতে ভেতরে মাদক সেবন বা বেচাকেনার সুযোগ নিতে না পারে সে বিষয়ে সতর্ক থাকার আহ্বান স্থানীয়দের।
দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটি, ফেনীর সাধারণ সম্পাদক আরিফুল আমিন রিজভী বলেন, মাদক মামলার আসামিদের পৃথক জেলখানায় রাখার যে বিষয়টি– এর ভালো এবং মন্দ দুটি দিকই রয়েছে। এখানে মাদকসেবী, মাদক বিক্রেতা, মাদক কারবারিরা থাকবে। তাদের মধ্যে কৌশলে মাদকের সঙ্গে সম্পৃক্ত হওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে।
কারা কর্তৃপক্ষ বলছে, বন্দিদের স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনার লক্ষ্য তাদের। বাড়ানো হয়েছে নিরাপত্তা ও নজরদারিও।
ফেনী কারাগার- ২ এর জেল সুপার কামরুল ইসলাম বলেন, মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর ও সমাজসেবা অধিদপ্তরের সমন্বয়ে এসব বন্দির চিকিৎসা, রিহ্যাবিলিটেশন– এই কার্যক্রমগুলো আমরা পরিচালনা করে আসছি।
এই বিশেষায়িত কারাগারের প্রায় ৩৫ শতাংশ বন্দি ফেনীর। বাকি ৬৫ শতাংশ আশপাশের অন্যান্য জেলার।



