নোয়াখালীর দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ায় লবণ বোঝাই বাল্কহেড ডুবিতে এক বৃদ্ধ নিহত হয়েছেন। এ সময় আহত হয়েছে আরও সাতজন। বুধবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে ভাসান চরের পশ্চিমে বঙ্গোপসাগরে এ দুর্ঘটনা হয়।
নিহত মো. সাবের বাড়ি চট্টগ্রামের কর্ণফুলী উপজেলার শিকল বাহার ইউনিয়নে। তিনি ডুবে যাওয়া বাল্কহেডের বার্বুচি ছিলেন।
এ সময় আহত ৭ জনকে ২৫০ শয্যা নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। তারা হলেন, নোয়াখালীর সুবর্ণচরের মো. ফারুক মাঝি (৪১), দেলোয়ার হোসেন (২৮), জাফর উল্যাহ (২৬), তারেক হোসেন (২৩), লক্ষ্মীপুরের রামগতি উপজেলার মো. মজিব (২২), চট্টগ্রামের বাঁশখালীর ছানোয়া (৫০), নুরুল আজম (২৮) ও খুলনার সবুর উদ্দিন (৬৮)।
চট্টগ্রাম বিভাগীয় কার্গো শ্রমিক ইউনিয়নের অর্থ সম্পাদক আব্দুল কাদের জানান, বুধবার ভোর ৪টার দিকে চট্টগ্রামের ১২ নম্বর ঘাট থেকে এমভি তানিম নামে বাল্কহেডটি লবণ নিয়ে নারায়ণগঞ্জ যাচ্ছিল। পথে হাতিয়া-সন্দ্বীপের মাঝামাঝি ভাসানচরের পশ্চিমে বঙ্গোপসাগরের জাহাজ চ্যানেলে বাল্কহেডটির ইঞ্জিন বিকল হয়ে যায়। এ সময় ঝড়ো বাতাসের সঙ্গে সাগর উত্তাল থাকায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বাল্কহেডটি ডুবে যায়। পরে একটি ফিসিং বোটে ৮ জনকে উদ্ধার করে হাতিয়ার চেয়ারম্যানঘাটে পৌঁছে দেওয়া হয়। এরপর সবাইকে অ্যাম্বুলেন্সযোগে ২৫০ শয্যা নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎক সাবেরকে মৃত ঘোষণা করেন।
সাগর উত্তাল থাকায় দুর্ঘটনাকবলিত বাল্কহেডটি সম্পূর্ণ তলিয়ে গেছে বলে জানান চট্টগ্রাম বিভাগীয় কার্গো শ্রমিক ইউনিয়নের অর্থ সম্পাদক আব্দুল কাদের।
নলচিরা নৌ পুলিশ ফাঁড়ির উপ পরিদর্শক (এসআই) মাসুদ ফয়সাল বলেন, দুর্ঘটনার বিষয়টি তাদের জানানো হয়নি। খোঁজখবর নিয়ে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ডুবেছে তিনটি মাছ ধরার ট্রলার
এদিকে, বুধবার সকালে হাতিয়ায় নিঝুমদ্বীপের কাছাকাছি বঙ্গোপসাগরে ঝড়ের কবলে পড়ে তিনটি মাছধরা ট্রলার ডুবে গেছে। এ সময় ট্রলারগুলোতে থাকা ৪৮ জেলেকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে।
ট্রলারগুলো হাতিয়ার জাহাজমারা ইউনিয়নের আমতলী ঘাটের নাসির মাঝি, জহির মাঝি ও জাহেদ মাঝির।
জহির মাঝির ট্রলারের মালিক নিশান চৌধুরী জানান, আজ সকালে হঠাৎ ঝড়ো বাতাসের সঙ্গে সাগর উত্তাল হয়ে পড়ে। এ সময় নিঝুমদ্বীপের কাছাকাছি তিনটি ট্রলার দুর্ঘটনায় পড়ে। পরে কাছাকাছি থাকা অন্যান্য ট্রলারের সহযোগিতায় ডুবে যাওয়া ট্রলারের মাঝি-মাল্লারা তীরে উঠেন।
নিশান চৌধুরী বলেন, ‘দুর্ঘটনাকবলিত তিনটি ট্রলারের মধ্যে দুইটি সম্পূর্ণ তলিয়ে গেছে। নাসির মাঝির ট্রলারটি এখনো ভাসছে। ট্রলারটি উদ্ধারের চেষ্টা চলছে।’
হাতিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রাসেল ইকবাল বলেন, ট্রলার ডুবির ঘটনায় জেলে, মাঝিমাল্লা সবাইকে জীবিত উদ্ধার হয়েছে বলে স্থানীয়রা নিশ্চিত করেছেন।



