বগুড়ায় পাওয়া বিষ্ণুমূর্তির পাদদেশে মিলেছে প্রাচীন গৌড়ীয় লিপির খোদাই। সংস্কৃত ভাষায় লেখা এ লিপি মূর্তিটির ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য তুলে ধরছে। গবেষকদের মতে, একই বৈশিষ্ট্যের বহু বিষ্ণুমূর্তি থাকলেও এমন লিপিসহ নিদর্শন বিরল। গত ডিসেম্বরে উদ্ধার হওয়া মূর্তিটি এখন সংরক্ষিত আছে মহাস্থান প্রত্নতত্ত্ব জাদুঘরে।
পাল যুগের বিষ্ণুমূর্তি বাংলার প্রাচীন ভাস্কর্য ও প্রত্নঐতিহ্যের অনন্য নিদর্শন। সম্প্রতি বগুড়ার মহাস্থান জাদুঘরে থাকা মূর্তিটির পাদদেশের দুই লাইনের গৌড়ীয় লিপি থেকে জানা যায়, আনুমানিক ১০৪০ খ্রিস্টাব্দে শ্রী অগতভদ্র এটি প্রতিষ্ঠা করেন। নিচে খোদাই করা আছে প্রতিষ্ঠাতা ও তার স্ত্রীর ক্ষুদ্র প্রতিকৃতিও।
মহাস্থানগড় প্রত্নতাত্ত্বিক জাদুঘর কাস্টোডিয়ান রাজিয়া সুলতানা বলেন, ‘আনুমানিক ১০৪০ খ্রিস্টাব্দে শ্রী অগতভদ্র এটি প্রতিষ্ঠা করেন। নিচে খোদাই করা আছে প্রতিষ্ঠাতা ও তার স্ত্রীর ক্ষুদ্র প্রতিকৃতিও।’
প্রত্নতাত্বিক গবেষক মুকন্ত বিশ্বাস বলেন, ‘নয়পালদেবের রাজত্বকাল ১০৩৫ থেকে ১০৫০ খ্রিস্টাব্দ। মূর্তিটি তার রাজত্বের পঞ্চম বছরে অর্থাৎ ১০৪০ খ্রিস্টাব্দে প্রতিষ্ঠা করা হয়।’
রাজশাহী প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের আঞ্চলিক পরিচালক এ কে এম সাইফুর রহমান বলেন, ‘মহাস্থান প্রত্নতাত্ত্বিক জাদুঘরের এ মূর্তি শুধু গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন নয়, বরং বরেন্দ্র অঞ্চলে পাল আমলের শিল্প, ধর্মীয় পৃষ্ঠপোষকতা ও লিপিচর্চার মূল্যবান নিদর্শন।’
মহাস্থান প্রত্নতত্ত্ব জাদুঘরে দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত রয়েছে ৬টি বিষ্ণুমূর্তি। এছাড়া স্টোরেও সংরক্ষিত আছে বিভিন্ন আকার ও ওজনের আরও বেশ কয়েকটি বিষ্ণুমূর্তি।



